বাংলাদেশ, রবিবার, ৫ই এপ্রিল, ২০২০ ইং, ২২শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

হাজার কোটি টাকার ঋণ খেলাপি হয়ে চট্টগ্রামের মোর্শেদ-মাহজাবিন দম্পতি চম্পট ?

বেসিক ব্যাংকের ২৯৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জাতীয় পার্টি নেতা-নেত্রী দম্পতি মোর্শেদ মুরাদ ইব্রাহিম ও সাবেক এমপি বেগম মাহজাবিন মোর্শেদের বিরুদ্ধে দুই বছর আগে দুটি মামলা করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মামলা হওয়ার পর আত্মসাৎ করা অর্থ কিস্তিতে পরিশোধের শর্তে তাদের জামিন দিয়েছিল আদালত। কিন্তু শর্তানুযায়ী কিস্তি পরিশোধ না করা ও আদালতে হাজির না হওয়ায় গত বছরের ১৯ এপ্রিল তাদের জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে চট্টগ্রামের আদালত।

শুধু বেসিক ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎই নয়, মোর্শেদ মুরাদ নামে-বেনামে তার পারিবারিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ৯৯০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে পরিশোধ করেননি বলে তথ্য মিলেছে। বিপুল অঙ্কের এই খেলাপি ঋণের দায় নিয়ে মোর্শেদ-মাহজাবিন দম্পতি বর্তমানে সপরিবারে কানাডার অন্টারিও প্রদেশের অশাওয়া শহরে বসবাস করছেন বলে জানতে পেরেছে। আর সেখান থেকে মাঝে মধ্যে ভারতে এসে এই দম্পতি দেশে থাকা তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মোর্শেদ পরিবারের কাছে শুধু রাষ্ট্রমালিকানাধীন বেসিক ব্যাংকেরই খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬৩৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১০২ কোটি টাকা ঋণের জিম্মাদার মোর্শেদ মুরাদ ইব্রাহিম।

আর বর্তমানের পদ্মা ব্যাংকের (সাবেক ফারমার্স ব্যাংক) ৭৬ কোটি টাকা, রূপালী ব্যাংকের ১১৩ কোটি টাকাসহ অন্যান্যা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এই পরিবারের খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও ৩৬০ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে এই পরিবারের ৯৯০ কোটি টাকা খেলাপি ঋণের তথ্য মিলেছে। তবে দুদক ও ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তাদের প্রকৃত খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বেশি।

মোর্শেদ-মাহজাবিন দম্পতি বর্তমানে কানাডার অন্টারিও প্রদেশের অশাওয়া শহরে বসবাস করছেন বলে কানাডা থেকে প্রকাশিত একাধিক বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা  জানিয়েছেন।

তারা আরও জানান, এই দম্পতি দেশে থাকা তাদের ব্যবসা পরিচালনার জন্য সেখান থেকে প্রায়ই যাতায়াত করেন ভারতে। সেখান থেকে নিয়ন্ত্রণ করেন দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার মোর্শেদ মুরাদ ইব্রাহিম অশাওয়ায় থাকলেও তার স্ত্রী ছিলেন ভারতে।

কানাডা প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অশাওয়ায় অনেকটা নিভৃতেই থাকেন এই দম্পতি। বাঙালি কমিউনিটিতে তেমন একটা যাতায়াত নেই তাদের। পরিবারটির সবাই চলাফেরা করেন দামি গাড়িতে।

জাপার কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মোর্শেদ মুরাদ ইব্রাহিম ও তার স্ত্রী বেগম মাহজাবিন বর্তমানে জাপা চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা। গত ২২ জানুয়ারি তাদের নিয়োগ দেন পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

মোর্শেদ চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি। আর তার স্ত্রী মাহজাবিন মোর্শেদ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের (মহিলা আসন-৪৫) সাবেক সদস্য। মোর্শেদ মুরাদ সাবেক ফারমার্স ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালক ছিলেন।

অনুসন্ধানে মোর্শেদ পরিবারের বিভিন্ন ব্যবস্যাপ্রতিষ্ঠানের নামে ৯৯০ কোটি টাকার খেলাপি ঋণের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বেসিক ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখায় ক্রিস্টাল স্টিল অ্যান্ড শিপ ব্রেকিং লিমিটেডের নামে ১৩৪ কোটি ৯৩ লাখ ৬৬ হাজার টাকা, আইজি নেভিগেশনের নামে ১৪১ কোটি ৫ লাখ টাকা, ক্রিস্টাল ফিশারিজের নামে ১৮ কোটি টাকা এবং একই ব্যাংকের ঢাকার দিলকুশা শাখায় বে নেভিগেশনের নামে ১৩৭ কোটি টাকা।

এ ছাড়া রয়েছে বেসিক ব্যাংকের চট্টগ্রামের জুবিলী রোড শাখায় মোর্শেদের ভাই রাশেদের মালিকানাধীন এমআরএফ ট্রেডিংয়ের নামে ৭০ কোটি টাকা, জিম্মাদার হিসেবে শীতল শিপ ব্রেকার্সের নামে ৭৮ কোটি টাকা ও শাহেদ শিপ ব্রেকার্সের নামে ৪৬ কোটি ১৪ লাখ টাকা (এই ঋণের সুপারিশকারী ও জিম্মাদার মোর্শেদ মুরাদ) এবং ফারমার্স ব্যাংকের চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ শাখায় ভাইয়ের স্ত্রী কানিজ ফাতেমার নামে ৩০ কোটি টাকা, চিটাগাং ফিশারিজের নামে ২৯ কোটি টাকা ও গরিবে নেওয়াজ ফিশিঙের নামে ১৭ কোটি টাকা। খবর দেশ রূপান্তর

শেয়ার করুনঃ

আরো খবর

Leave a Reply