বাংলাদেশ, সোমবার, ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং, ৪ঠা ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

চেনা-অচেনা ‘অতিথি পাখি’র কলতানে মুখরিত নওগাঁর জবই বিল

 

আলহাজ্ব বুলবুল চৌধুরী

নওগাঁর সাপাহারের ঐতিহ্যবাহী জবই বিল এখন পরিযায়ী (অতিথি) পাখির কলতানে মুখরিত। ২০২০সালের শুরু থেকে সুদুর রশিয়া, সাইবেরিয়াসহ বিশ্বের শীত প্রধান দেশ থেকে শত-শত পিয়াং হাঁস, পাতি সরালি, লেঙজা হাঁস, বালি হাঁস, পাতিকূট পাখি বিলে এসে অসম্ভব সুন্দর করে তুলেছে গোটা পরিবেশকে। আছে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির শামুক খোল, পানকৌড়ী, ছন্নি হাঁস ইত্যাদি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কঠোরতা ও জীববৈচিত্র সংরক্ষণ কমিটির সদস্যদের নজরদারিতে বিল এলাকায় যে কোনো ধরনের পাখি শিকার বন্ধ রয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে বর্তমানে দেশ-বিদেশ থেকে হরেক রকম পাখির আগমনে পুরো বিল এলাকা পাখির কলতানে মুখরিত। পাশাপাশি বিল এলাকা এখন অতিথিদের কারণে অনন্য হয়ে উঠেছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানাগেছে, নওগাঁ-১ আসনের সংসদ সদস্য গণ প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকরের খাদ্যমন্ত্রী বাবু সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপি সাপাহার উপজেলার ঐতিহ্যবাহী জবই বিলটিকে একটি ঐতিহ্যবাহী পর্যটক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন।

সরেজমিনে বিল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অনেক পাখি প্রেমীরা পাখি দেখতে বিল এলাকায় এসে ভিড় জমাচ্ছেন। বিভিন্ন প্রজাতির পাখির ওড়া-ওড়ি, ডানা ঝাপটানো দেখে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা। বিলের পাড়ে পর্যাটকদের জন্য ঘোরাফেরা ও বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হলে ভবিষ্যতে সাপাহারের জবই বিলটি দেশের একটি আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্রে রুপ নিতে পারে বলেও মনে করছেন আগত পর্যটকরা।

জানাগেছে, এই সুন্দর পাখিগুলোকে এক শ্রেণীর বিবেকহীন ব্যক্তি অবাধে বিলে এসে শিকার করে তা বিভিন্ন হাটবাজারে বিক্রি করত। এমনকি গত বছরও এলাকার কতিপয় ব্যক্তি এ বিল থেকে বেশ কিছু পাতি সরালি হাঁস ফাঁদ পেতে ধরে বিক্রি করার সময় তাদের জবই বিল জীববৈচিত্র সংরক্ষণ ও সমাজ কল্যাণ সংস্থার সদস্যরা হাতেনাতে ধরে ফেলেন। পরে ওই পাখি শিকারীদের উপজেলা নির্বাহী অফিসার কল্যাণ চৌধুরীর নিকট নিয়ে এলে তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাদের শাস্তি প্রদান করেন।

এরপর হতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কঠোরতা ও জীববৈচিত্র সংরক্ষণ কমিটির সদস্যদের জোরালো নজরদারিতে বিল এলাকায় যেকোনো ধরনের পাখি শিকার বন্ধ রয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে বর্তমানে দেশ-বিদেশ হতে হরেকরকম পাখির আগমনে পুরো বিল এলাকা এখন পাখির কলতানে মুখরিত হয়ে উঠছে। বেশ কয়েক বছর ধরে ওই এলাকার কিছু যুবক জবই বিল জীববৈচিত্র সংরক্ষণ ও সমাজ কল্যাণ সংস্থা নামে একটি সংগঠন তৈরি করে বিলে অতিথি পাখিসহ সব ধরনের পাখি শিকার বন্ধ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

এছাড়া বিলে কোন কচুরিপানা না থাকলেও সরকারি ও বে-সরকারিভাবে মৎম্যজীবীরা খরা মৌসুমে বিলের পানি শুকিয়ে গেলে মা মাছ রক্ষায় বিলের মধ্যে বেশ কিছু এলাকায় বাঁশ কাঠ ও কচুরিপানা দিয়ে মাছের অভয়াশ্রম গড়ে তোলে যার নাম কাঠা। খরা মৌসুমে মা মাছ গুলো ওই স্থানে লুকিয়ে থাকে। বর্তমানে জীববৈচিত্র সংরক্ষণ কমিটির সদস্যদের প্রচেষ্টা ও মৎস্যজীবীদের বানানো কচুরিপানার কাঠা থাকায় এই শীত মৌসুমে অতীতের মতো আবারো দেশি-বিদেশি পাখিরা অবাধে বিচরণ করতে শুরু করেছে।

জীববৈচিত্র সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান জানান, ভবিষ্যতে বিলের বিশাল অংশে কচুরিপানা দিয়ে মাছসহ পাখিদের বড় ধরনের অভয়াশ্রম এবং বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগিয়ে বনাঞ্চল তৈরি করলে সারাবছর সেখানে পাখিদের আনাগোনা থাকবে। যার ফলে জবই বিল ফিরে পেতো তার ঐতিহ্য ও নাব্যতা।
######
নওগাঁর পতœীতলায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি পরিবারের সদস্য ও শীক্ষার্থীদের মাঝে ১১লক্ষ টাকার অনুদান বিতরণ

আলহাজ্ব বুলবুল চৌধুরী, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ নওগাঁর পতœীতলায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং জাতীয় সমাজ কল্যাণ পরিষদ ঢাকার অর্থায়নে উপজেলার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি পরিবারের সদস্য ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি পরিবারের এইচএসসি বা তদুর্দ্ধ শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রায় ১১লক্ষ টাকার এককালীন অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠান বুধবার বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিটন সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে অনুদানের নগদ টাকা বিতরণ করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল গাফফার।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আহাদ (রাহাত), উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার সুলতান আহমেদ, উপজেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব বুলবুল চৌধুরী, সহকারী প্রোগ্রামার কুলসুম খাতুন, দিবর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ সহ অন্যান্য সূধীজন প্রমূখ।

সভায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি পরিবারের ৮১জন সদস্য ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি পরিবারের এইচএসসি বা তদুর্দ্ধ ১৯২জন শিক্ষার্থীর মাঝে প্রত্যেককে নগদ ৪হাজার করে সর্বমোট ১০লক্ষ ৯২হাজার টাকা প্রদান করা হয়।
#####
নওগাঁর পতœীতলায় দিনদিন জনপ্রিয় উঠছে তথ্য আপার উঠান বৈঠক কার্যক্রম

আলহাজ্ব বুলবুল চৌধুরী, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে মহিলাদের ক্ষমতায়ন প্রকল্প (২য় পর্যায়)এর অধীন নওগাঁর পতœীতলায় উপজেলা তথ্য আপা’র উদ্যোগে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে কৃষি সেবা সমূহ ও কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারনা, নারীর ক্ষমতায়ন, অধিকার, আত্মকর্মসংস্থান, সচেতনতা, বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ, মাদক প্রতিরোধ, সরকারী বিভিন্ন অফিসের সেবা ও তথ্য কেন্দ্রের সেবা সম্পর্কে অবহিত করন সভা মঙ্গলবার ও সোমবার পৃথক পৃথক ভাবে উপজেলার দিবর ইউনিয়ন পরিষদ এবং বহিমাপুর এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে করে দিন দিনই উপজেলায় জনপ্রিয় হয়ে উঠছে তথ্য আপা’র উঠান বৈঠক কার্যক্রম।

মঙ্গলবার উপজেলার দিবর ইউনিয়ন পরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত উঠান বৈঠকে তথ্য সেবা কর্মকর্তা হাসি খাতুনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিটন সরকার।

এসময় অন্যন্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার প্রকাশ চন্দ্র সরকার, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান খাদিজাতুল কোবরা মুক্তা, সহকারী প্রোগ্রামার কুলসুম খাতুন, তথ্য সেবা সহকারী নুপুর বানু প্রমূখ।

এরআগে সোমবার উপজেলার দিবর ইউপির ৮নং ওয়ার্ডের বহিমাপুর গ্রামে অনুষ্ঠিত উঠান বৈঠকে তথ্য সেবা কর্মকর্তা হাসি খাতুনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান খাদিজাতুল কোবরা মুক্তা।

এসময় অন্যন্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষন কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম, জাতীয় মহিলা সংস্থার মাঠ সংগঠক আমিনুল ইসলাম, তথ্য সেবা সহকারী নুপুর বানু প্রমূখ।

বক্তারা বলেন ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে গ্রামের নারীদের বিভিন্ন সেবা সম্পর্কে অবহিত করনে তথ্য আপার উঠান বৈঠকের ভূমিকা অপরিসীম এ উপজেলায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে তথ্য আপার উঠান বৈঠক। এর ফলে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের সাধারন নারীরা তাদের ক্ষমতায়ন, অধিকার, আত্মকর্মসংস্থান, সচেতনতা, বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ, মাদক প্রতিরোধ, কৃষি সেবা সমূহ ও কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারনা, সরকারী বিভিন্ন অফিসের সেবা ও তথ্য কেন্দ্রের সেবা সম্পর্কে অবগত হওয়া সহ নানা বিষয়ে জ্ঞান আহরন করতে পারছেন।

শেয়ার করুনঃ

আরো খবর

Leave a Reply