বাংলাদেশ, সোমবার, ৬ই এপ্রিল, ২০২০ ইং, ২৩শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

রেল লাইনই যদি না থাকে ট্রেন কার মধ্যে চলবে : নিউ ইয়র্কে রেলমন্ত্রী সুজন

বাংলা প্রেস, নিউ ইয়র্ক 
ট্রেন চলবে তো লাইনের ওপর দিয়ে, সেই লাইনেই যদি না থাকে ট্রেন কার মধ্যে চলবে।বাংলাদেশের ট্রেনের গতিবেগ বাড়ানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক প্রবাসী উত্তরবঙ্গবাসীদের দাবির প্রেক্ষিতে রেলমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন তার এলাকার মানুষদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আঞ্চলিক ভাষায় উত্তর দেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা বাংলা প্রেস।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কস্থ নর্থবেঙ্গল ফাউন্ডেশনের সভাপতি ডাক্তার আব্দুল লতিফের সভাপতিত্বে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা কামাল মিল্টনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রেলমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, বাংলাদেশের রেল পরিবহন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে, যাত্রীসেবার মানোন্নয়নেও মনোযোগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের ট্রেনের গড় গতিবেগ ৬০ কি.মি। গতিবেগ আরো বাড়াতে হলে রেল লাইনের সংস্কারসহ দ্বৈত রেল লাইন বসানো ব্যবস্থা করতে হবে। তা নাহলে ট্রেনে গতি আর বাড়ানো সম্ভব হবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি। স্থানীয় সময় গত রোববার সন্ধ্যায় নিউ ইয়র্কের জামাইকায় একটি পার্টিহলে নর্থবেঙ্গল ফাউন্ডেশনের দেওয়া সংবর্ধনার জবাবে রেলমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর রেললাইন উপযুক্ত করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে পদ্মা রেল লিংক প্রজেক্টে ইলেকট্রিক রেল যাওয়ার সক্ষমতা তৈরি করা হচ্ছে। ‘রূপকল্প ২০২১’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার রেলওয়ের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য ২০১১ সালের ৪ ডিসেম্বর পৃথক রেলপথ মন্ত্রণালয় গঠন করে। বর্তমান সরকারের সময়ে নেয়া উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন হচ্ছে। পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্প, ঢাকা-চট্রগ্রাম হাইস্পিড ট্রেন নির্মাণ প্রকল্পের মতো বড় বড় প্রকল্পের কাজ চলছে। সব কয়টি কাজ প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন হলে রেলওয়েতে আমূল-পরিবর্তন আসবে।
রেলওয়ে বর্তমান পরিবহণ চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। নতুন রেললাইন নির্মাণ, পুরাতন রেললাইন পুনর্বাসন, মিটারগেজ লাইন ডুয়েল গেজ রূপান্তর লোকোমোটিভ যাত্রীবাহী কোচ ও মালবাহী ওয়াগন বানাল সংগ্রহ ও পুনর্বাসন, সিগনালিং ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, ট্রেন সার্ভিস চালুসহ বেশকিছু সাফল্য বাংলাদেশ রেলওয়েকে আধুনিক অধিকতর জনসেবা হিসাবে গড়ে তুলেছে। টেকসই উন্নয়ন অর্জনসহ ২১ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের ধারাবাহিক সহযোগিতায় বাংলাদেশ রেলওয়ের উন্নয়ন র্কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, ট্রেনের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সময়ক্ষেপণও বাড়ছে।কারণ সিঙ্গেল লাইনেই চলে অধিকাংশ ট্রেন। যে কারণে একটি ট্রেন অন্য ট্রেনকে সাইড দিতে সময় বেশি লাগছে। তবে বিভিন্ন রুটে ডাবল লাইন হচ্ছে। এতে আগামীতে রেলে যাতায়াতে সময়ক্ষেপণ কমবে।
সুজন বলেন, রেলে চলাচলে সময়ক্ষেপণের যে সমস্যা তা দূর করার জন্য বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এরমধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হল, টঙ্গী থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত ডাবল লাইন। জয়দেবপুর থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত ডাবল লাইন। জয়দেবপুর থেকে জামালপুর পর্যন্ত ডাবল লাইন এবং চট্টগ্রাম রুটে লাকসাম থেকে আখাউড়া পর্যন্ত ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন প্রকল্প চলমান রয়েছে। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান হবে।
বর্তমানে রেলের জনবল সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘১৯৯১-৯২ সালের দিকে দশ হাজার রেল কর্মকর্তাকে গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে বিতাড়িত করেছিল তৎকালীন বিএনপি সরকার। এরপর থেকে রেলে নতুন কোনো নিয়োগ হয়নি। দক্ষ জনবলের সংকট রয়েছে রেলওয়েতে। আগে যেখানে রেলে পণ্য পরিবহন হতো ৩০-৩৫ ভাগ, এখন সেখানে ১০ ভাগে নেমে এসেছে।
তিনি বলেন, রেলওয়েতে এখন প্রতিদিন ৮৮টি আন্তঃনগর ট্রেন, ১২৬টি লোকাল ট্রেন, ১৩২টি মেইল এক্সপ্রেস ও ডেমু ট্রেন এবং ৪টি আন্তঃদেশীয় ট্রেনসহ সর্বমোট ৩৫০টি ট্রেন পরিচালিত হচ্ছে। শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর, ২৭০টি কোচ এবং ইঞ্জিন আমদানির মাধ্যমে ইতোমধ্যে ১১৬টি নতুন ট্রেন প্রবর্তন করা হয়েছে। বর্তমানে আরো প্রায় ৭শ’ কোচ এবং ইঞ্জিন আমদানি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এছাড়া ই-টিকেটিং এবং অনলাইন ব্যবস্থা প্রবর্তন করে যাত্রীদের টিকেট ক্রয় সহজ করা হয়েছে।
নিউ ইয়র্কস্থ দিনাজপুর জেলা সমিতির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মোশারফ হোসেন কবে নাগাদ দেশে ইলেকট্রিক ট্রেন চালু হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রী বলেন আমরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৪০টি লোকোমোটিভ (রেল ইঞ্জিন) আমদানি করছি। এ লোকোমোটিভগুলো ডিজেল ও গ্যাস দুই প্রকার জ্বালানিতেই চালানো সম্ভবপর। যদি গ্যাস দিয়ে ইঞ্জিন চালানো যায় তাহলে দিয়ে চালানোর দরকার নেই।ইলেকট্রিকের চেয়ে গ্যাসে চালালে বেশি অর্থ সাশ্রয় হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এ সময় মোশারফ হোসেন বলেন, দেশের দ্বিতীয় স্থল বন্দর হিলিকে আধুনিক ট্রেন স্টেশনে রুপান্তর করার দাবি জানান। তিনি বলেন, শুধু হিলে স্টেশনের উন্নয়নই নয়, এই শহরটি আধুনিকায়ন করা হলে পার্শবর্তী ভারত দেশের উন্নয়নের ছোঁয়া সহজেই দেখতে পাবে।হিলি স্থল বন্দরকে আধুনিক শহরে রুপান্তরিত করা হলে বর্তমানে বার্ষিক আয় ৫শত কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি আশা করছেন। এ সময় রেলমন্ত্রীর হাতে তিনি একটি স্বারকলিপি প্রদান করেন।
রেলমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন সরকারি সফরে যুক্তরাষ্ট্র এসেছেন। গত ১৪ জানুয়ারি ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে শিকাগো সিটি সংলগ্ন এলাকায় ‘প্রগ্রেস রেল’র কারখানা পরিদর্শন এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই উন্নত প্রযুক্তির ৪০টি লোকোমোটিভ (রেল ইঞ্জিন) বাংলাদেশে সরবরাহের বিষয়টি নিশ্চিত করতে। আগামী বছর ২০২১ সালের মার্চ থেকে পরের বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে এগুলো বাংলাদেশকে সরবরাহের কথা রয়েছে।
শিকাগো থেকে ১৭ জানুয়ারি নিউ ইয়র্কে ফিরে নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল পরিদর্শনকালে মন্ত্রী কনস্যুলেটে অপেক্ষমান সেবাপ্রার্থীদের সাথে কুশল বিনিময়কালে তাঁর সফরের বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন।
সংবর্ধনায় সভায় অন্যদের মধ্যে দেন নর্থবেঙ্গল ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ডাক্তার চৌধুরী সারোয়ারুল হাসান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মফিজ আহমেদ, যুক্তরাষ্ট্র আ.লীগের সাবেক উপদেষ্টা ডাক্তার মাসুদুল হাসান, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ, নর্থবেঙ্গল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হাসানুজ্জামান হাসান, নর্থবেঙ্গল ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ডাক্তার চৌধুরী মঞ্জুরুল হাসান, পঞ্চগড় জেলা সমিতির সহ-সভাপতি দবিরুল ইসলাম, নর্থবেঙ্গল ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা জহিরুল ইসলাম টুকু, নর্থবেঙ্গল ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা প্রকৌশলী এইচ এম শহীদ, নিউ ইয়র্কস্থ দিনাজপুর জেলা সমিতির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মোশারফ হোসেন, দিনাজপুর জেলা সমিতির সাবেক সাংস্কৃতিক সম্পাদক ডাক্তার নার্গিস রহমান, নর্থবেঙ্গল ফাউন্ডেশনের সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোহর খান প্রমুখ।

শেয়ার করুনঃ

আরো খবর

Leave a Reply