বাংলাদেশ, সোমবার, ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং, ৪ঠা ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শহীদ আসাদ দিবসে ভাসানী ফাউন্ডেশনের আলোচনা সভা

 

২০ জানুয়ারি শাহীদ আসাদ দিবস, ১৯৬৯ সালের এই দিনে পাকিস্তানী স্বৈরাশাসক আয়ুব খানের বিরুদ্ধে এ দেশের ছাত্র সমাজের ১১ দফা কর্মসূচীর মিছিলে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে পুলিশের গুলিতে জীবন দেন ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান আসাদ। তাঁর স্মরণে দিনটি শহীদ আসাদ দিবস হিসাবে পালিত হয়ে আসছে।

মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দিবসটি উপলক্ষে গতকাল বিকাল ৫টায় দোস্ত বিল্ডিং মওলানা ভাসানী অডিটোরিয়ামে শহীদ আসাদ স্মরণে আলোচনা সভা সংগঠনের সভাপতি ছিদ্দিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। দিবসটির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য অনুধাবন করে স্বাগত বক্তব্য উপস্থাপন ও সভা সঞ্চালনা করেন- সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল গফ্ফার খান।

সভার প্রারম্ভে মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশনের সদস্য ও শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের দুই নেতা ইদ্রিছ আমিন ও মোহাম্মদ শরীফ চৌধুরী’র মৃত্যুতে তাঁদের সংগ্রামী স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। আলোচনায় অংশ গ্রহণ করেন- এডভোকেট আবু তাহের, অধ্যাপক শিব প্রসাদ, মাষ্টার এ.কে.এম মোফাজ্জল হায়দার, শ্রমিক নেতা আহমদ নূর, হাসান মারুফ রুমী, আবদুল মাবুদ, মোহাম্মদ সেলিম, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ জমির, মির্জা আবুল বশর প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, শহীদ আসাদুজ্জামান আসাদ ছিলেন মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক দর্শণের অনুসারী। ১৯৬৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর মওলানা ভাসানীর ডাকে হাট-বাজার হরতাল সফল করতে শিবপুর হাতির দিয়া বাজার এলাকায় কৃষকদের সংগঠিত করে মিছিলের নেতৃত্ব দেন। পুলিশের গুলিতে সেই দিন তিন জন কৃষক মৃত্যুবরণ করেন, আসাদ নিজেও আহত হন। তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের নেতা ছিলেন। তাঁর মূল মন্ত্র জনগণতন্ত্র ও কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষের শোষণমুক্ত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। তাঁর রক্তমাখা সার্ট নিয়ে শোক মিছিলের মাধ্যমে ৬৯ এর গণঅভূত্থানের প্রেক্ষাপট রচিত হয়। আসাদ ছিলেন গণঅভূত্থানের মহানায়ক তাঁর আজীবনের লালিত স্বপ্ন জনগণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ ভাবে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। আগামীতে শহীদ আসাদ দিবসটি জাতীয় ভাবে পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।

শেয়ার করুনঃ

আরো খবর

Leave a Reply