বাংলাদেশ, সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২০, ২৯ আষাঢ়, ১৪২৭

ছালেহ জহুরের ওরশ আধ্যাত্মিক মিলন মেলা

মাহমুদুল হক আনসারী

যুগে যুগে সৃষ্টিকর্তা রাব্বুল আলামিন মানব জাতির মুক্তির জন্য পথ প্রদর্শক হিসেবে নবী রাসূলের উত্তরসূরী আবেদীন, ছালেহীন, মুত্তাকী ও আধ্যাত্মিক সাধক মানুষের মধ্যে সৃষ্টি করে থাকেন। দুনিয়াব্যাপি অসংখ্য নবী রাসূলের উত্তরসূরী আধ্যাত্মিক সাধক ছড়িয়ে ছিটিয়ে মানব সমাজে বিচরণ করছেন। তাঁদের সংস্পর্শে এসে মানবজাতি সঠিকভাবে আল্লাহ ও রাসূলে হাবিবের সঠিক পথের সন্ধান লাভ করেন। তাদের মধ্যে একজন আশেকে রাসূল, হামিয়ে আহলে সুন্নত, আমিরুল হুজ্জাজ আল্লামা ছালেহ জহুর ওয়াজেদী (রহ.)। বারো আউলিয়ার পূণ্যভূমি চট্টগ্রামের বায়েজিদ পাঁচলাইশের ওয়াজেদীয়া এলাকায় সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে নূরের আলোর মতো পরিবার ও সমাজকে আলোকিত করে জন্মগ্রহণ করেন। অত্যন্ত মেধাসম্পন্ন মহান এ আধ্যাত্মিক ওলিয়ে কামেল আশেকে রাসূল তাঁর জীবনের শুরু থেকে ইন্তিকালের পূর্ব মুহুর্ত পর্য্ন্ত কুরআন, হাদিস, ইসলাম, মুসলমান, দ্বীন, ধর্ম, মাজহাব, মিল্লাতের খেদমত করে গেছেন। জীবনে তিনি হাজার হাজার ইসলামী সভা সম্মেলনে কুরআন ও হাদিসের বাণী প্রচার করে মুসলিম সমাজকে সঠিক দ্বীনের পথে আহ্বান করেছেন। তিনি ছিলেন সত্যিকার অর্থে দ্বীন ধর্মের দায়ী। মসজিদ মাদ্রাসা, ছাত্র শিক্ষক, মাজহাব মিল্লাতের মুজাহিদে আজম। বায়েজিদ পাঁচলাইশ, হাটহাজারী, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া তথা পুরো চট্টগ্রাম অঞ্চলে তাঁর ওয়াজ ও বয়ান ব্যাপকভাবে অব্যাহত ছিল। দিন রাত তিনি মাজহাব মিল্লাত ইসলাম ও মুসলমানের খেদমতে জীবন শেষ করেছিলেন। সম্মানিত হাজী সাহেবানদের খেদমতের উদ্দেশ্যে তিনি প্রতিষ্টা করেছিলেন শাহ আমানত হজ্ব কাফেলা। এ কাফেলার মাধ্যমে সারাদেশের  আল্লাহর ঘরের হজ্বব্রত পালনকারী হাজীদের ব্যাপকভাবে সেবা করে গেছেন। বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য প্রথম সারির এ কাফেলা এখন হজ্ব সেবার অনন্য প্রতিষ্টানে প্রতিষ্টিত। হুজুরে ওয়াজেদীর ইন্তিকালের পর এ কাফেলার মহান চেয়ারম্যানের পদে আসিন আছেন তাঁরই সুযোগ্য বড় ছাহেবজাদা মাওলানা মুহাম্মদ ইয়াছিন। বর্তমানে তাঁর নেতৃত্বে কাফেলা নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিয়ে যাচ্ছে মহান হাজী সাহেবানদের। প্রতি বছর ১৪ ও ১৫ জানুয়ারী হুজুর ওয়াজেদী (রহ.) এর বার্ষিক ওরশ মাহফিল অনুষ্টিত হয়। ২০20 সালে তাঁর 3য় বার্ষিক পবিত্র ওরশ মাহফিল অনুষ্টিত হবে । ১4 জানুয়ারী থেকে ১৬ জানুয়ারী তিনদিনব্যাপি বিশাল কর্মসূচীর আয়োজন এক অনন্য দৃষ্টান্ত। সচরাচর অন্য দশ ওরশের মতো এসব কর্মসূচী নয়। এখানে তিনদিন ব্যাপি কর্মসূচীতে রয়েছে পবিত্র কুরআন খতম, পবিত্র বুখারী শরিফের খতম, খতমে খাজেগান, খতমে ইউনূস, মিলাদ শরিফ, জিকির ও মোনাজাত। দু:স্থ, এতিম অসহায় মানুষের জন্য শীতবস্ত্র বিতরণ করা হবে ৫ শতাধিক দু:স্থ জনগনের মধ্যে । বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে কয়েক হাজার দু:স্থ রোগীকে বিভিন্ন জটিল কঠিন রোগের চিকিৎসা সেবা দেয়া হবে। রোগীদের ওষুধপত্র সরবরাহ করা হবে। তিনদিন ব্যাপি এসব কর্মসূচীতে চট্টগ্রামসহ সারাদেশ হতে শত শত পীর মশায়েখ, মুফতি মুহাদ্দেস, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবি, লেখক ও কলামিস্ট উপস্থিত থাকবেন । মশায়েরে নাতে রাসূল (দ.) মাহফিল ভাবগাম্ভীর পরিবেশ স্ব:তস্ফূর্ত ভাবে অনুষ্টিত হবে। মাহফিলে দেশ বিদেশের প্রখ্যাত শায়েরগণ অংশগ্রহণ করে নাত পেশ করবেন । তিনদিন ব্যাপি মাহফিলে আগত মেহমানদের জন্য ব্যাপকভাবে অত্যন্ত সম্মানের সাথে মেহমানদারীর ব্যবস্থা থাকবে । বিশাল লাখো মানুষের এ ওরশে যেনো কোনো ধরনের শৃংখলা ভঙ্গ না হয়, সেজন্য ব্যাপকভাবে সেচ্ছাসেবক কমিটি উপকমিটি গঠন করে দায়িত্ব বন্টন করা হয়েছে ।বিশাল এ আয়োজনে কোনো ধরনের বিশৃংখলা ছাড়া অত্যন্ত সুন্দর ও সুশৃংখল ভাবগাম্ভীর পরিবেশে পবিত্র মাহফিল সম্পন্ন করার জন্য সার্বিক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে ।লক্ষাধিক মেহমানের খানা আপ্যায়ন ও তাবারুকাতের ব্যবস্থা আছে ।  বিশাল এ আয়োজনে আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন চট্টগ্রামের  স্বনামধন্য মুফতি মুহাদ্দেস ইসলামী চিন্তাবিদ সাংবাদিক কলামিস্ট ও বুদ্ধিজীবিগণ। ইসলামী মূল্যবোধ তাহজীব তমদ্দুন দ্বীন ও মিল্লাতের গুরুত্ব তুলে ধরে সমাবেশে বয়ান পেশ করা হবে। আজ জহুর নামক একটি স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করার মধ্য দিয়ে আল্লামা ছালেহ জহুর ওয়াজেদী (রহ.) এর জীবনী গ্রন্থ প্রকাশ করা হয়। এ গ্রন্থে এ অঞ্চলের প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ মুফতি মুহাদ্দিস সাংবাদিক বুদ্ধিজীবিগণ প্রবন্ধ নিবন্ধ ও মতামতের মাধ্যমে হুজুর ওয়াজেদী সম্পর্কে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেছেন। মাত্র তিন বছরের ইন্তিকালের এ সময়ের মধ্যে মাজারকে কেন্দ্র করে এখানে গড়ে উঠেছে পবিত্র হেফজ মাদ্রাসা, এতিমখানা ও খানেকাহ। এখানে  মনোরম পরিবেশে সাপ্তাহিক, মাসিক বিভিন্ন মাহফিল অনুষ্টিত হয়। মাজার সংলগ্ন শাহ আমানত জামে মসজিদে নিয়মিত বিষয়ভিত্তিক মাজহাব মিল্লাতের প্রয়োজনে আলোচনা ওয়াজ নছীহত হয়ে থাকে। মূলত হযরত ওয়াজেদীর মাজারকে কেন্দ্র করে এখান থেকে দিন রাত মাজহাব মিল্লাতের খেদমত পরিচালিত হচ্ছে। গঠিত হয়েছে আল্লামা ছালেহ জহুর ওয়াজেদী (রহ.) ফাউন্ডেশন। দু:স্থ নর-নারী, অসহায় পরিবারের সাহায্য, গরীব মেধাবী ছাত্র ছাত্রীদের শিক্ষা সাহায্যের কর্মসূচী রয়েছে। এতিম অসচ্ছল পরিবারের মেয়েদের বিবাহ ও ঘর বাড়ি নির্মাণের কর্মসূচীর বাস্তবায়ন হচ্ছে। এভাবে মাজারকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকাব্যাপি ইসলামী তাহজীব তমদ্দুন মাজহাব মিল্লাতের ব্যাপক প্রচার প্রসার অব্যাহত আছে। মাজারকে কেন্দ্র করে যেসব কর্মসূচী বাস্তবায়িত হয় তা স্থানীয় প্রচার মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার পাচ্ছে। বলতে গেলে হুজুর ওয়াজেদীর মাজারকে কেন্দ্র করে যে সেবামূলক কর্মকান্ডের ব্যাপক সম্প্রসারণ হচ্ছে তা অত্র এলাকায় ব্যাপকভাবে আালোড়ন সৃষ্টি করেছে। উত্তরোত্তর এর সফলতা আরো গতিশীল করতে এসব প্র্রতিষ্টানের মধ্যমনি শাহ আমানত হজ্ব কাফেলার চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওলানা  মুহাম্মদ ইয়াছিন ছিদ্দিকী সকলের সহযোগীতা প্রত্যাশা করছেন।

 

শেয়ার করুনঃ

আরো খবর

Leave a Reply