বাংলাদেশ, রবিবার, ৫ই এপ্রিল, ২০২০ ইং, ২২শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ঠাণ্ডা মিয়ার গরম কথা (২২২) ওয়াশিকা আয়েশা খান এমপি সমীপে

মাননীয়,

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক ওয়াশিকা আয়েশা খান এমপি সমীপে,

শ্রদ্ধেয় ওয়াশিকা আপারে,

গরম গরম কথার শুরুতে আমার লাখ কোটি সালাম জানিবেন।আশা করি, আল্লাহ মালিকের অপার মহিমায় ভালো থাকিয়া ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানে ভিশন ও মিশন কায়েমের লক্ষ্যে নানান ফর্মূলা তৈরী ও বাস্তবায়ন করিয়া দল ও দেশটার জন্য কাজ করিয়া ভালোই আছেন। আমিও গ্রাম বাংলার এক মফস্বল শহরে থাকিয়া দেশের ভবিষ্যতের কথা ভাবিয়া ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্ছার মতো খাইয়া না খাইয়া বাঁচিয়া আছি। গেল বারে মাননীয় মাননীয় শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিষ্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল সমীপে ঠাণ্ডা মিয়ার গরম কথা  লিখিবার সময় এইবার আপনার সমীপে লিখিব বলিয়াছিলাম, এইজন্য লিখিতেছি বলিয়া রাগ করিবেন না বরং শত ব্যস্ততার মধ্যেও গরম কথাটুকু পড়িয়া দেখিবেন ও যাহা প্রয়োজন তাহা করিবেন আর ভুল হইলে নিজ গুনে মাফও করিয়া দিবেন।

আপারে,

আপনি হইলেন, বাংলাদেশের হাতে গুনা কয়েকটি রাজনৈতিক পরিবাবের মধ্যে অন্যতম বর্ণাঢ্য পরিবারের কৃতি সন্তান।আপনার পিতা ও মাতা দুইজনই নিখুতঁভাবে রাজনীতিতে কিংবদন্তী নেতৃত্বের অধিকারী ছিলেন।গোটা দেশেই আতাউর রহমান খাঁন কায়সার ও বেগম নিলুফার কায়সার সমধিক পরিচিত ও বিখ্যাত নাম।তাঁহাদের নীতি আদর্শ ও শৃংখলার জন্য তাঁহাদের তুলনা শুধু তাঁহারাই।তাঁহাদের বড় মেয়ে হিসাবে গোটা দেশেই আপনাকে চিনিয়া থাকে।আতাউর রহমান খাঁন কায়সার সাহেব সম্ভবত দুইবার কেন্দ্রিয় আওয়ামী লীগের সফলভাবে অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদকের দায়িত্বে পালন করিয়াছেন।ওই সময়ে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু, এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, ইসহাক মিয়া, ইদ্রিস বিকম, ওহাব মিয়া ও ছিদ্দিক মিয়ারা ছিলেন আঞ্চলিক নেতা।যদিও ওই সময়ে পুলিন দে  ও ফজলুল হক বিএসসিও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রিয় নেতা ছিলেন।এই দুই নেতার চেয়ে কায়সার সাহেবের গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তাও ছিল আকাশচুম্বী । শুনিয়াছি, মাত্র ২৯ বছর বয়সেই তিনি গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হইয়াছিলেন।দেশের মধ্যে কম বয়সে গণপরিষদের সদস্য হইবার বিরল গৌরবের অধিকারী ছিলেন তিনি।যাক, সেইসব কথা।

আপারে,

সম্প্রতি আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশন হইল।চট্টগ্রাম থেকে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন,  ড. হাসান মাহামুদ , বিপ্লব বড়ুয়া, আমিনুল ইসলাম কেন্দ্রিয় কমিটিতে স্হান পাইলেন।ওই কমিটিতে আপনাকে অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক করিলেন।যেই পদে অতি সফলতার সাথে মহান নেতা আপনার পিতা আতাউর রহমান খাঁন কায়সার ইতিমধ্যে দায়িত্ব পালন করিয়াছিলেন।বাদ পড়িলেন মহিউদ্দিন চৌধুরীর তনয় ব্যারিষ্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল । প্রয়াত নেতা আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর সুযোগ্য সন্তান ভুমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এইবারের আগে বাদ পড়িলেও এই কমিটিতে আর ইন হওয়া সম্ভব হয়নি।তবে কেউ কেউ বলিতেছে, আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু যেই পদে দায়িত্ব পালন করিয়াছিলেন ওই পদটি এখনো খালি রহিয়াছে।জাবেদ সমর্থিত নেতাকর্মীরা বলিতেছে ওই পদে ভুমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ সাহেবকে স্হলাভিসিক্ত  করিবেন । এম এ আজিজ, জহুর আহমদ চৌধুরী, ইসহাক মিয়া, এম এ মান্নান, ফজলুল হক বিএসসি ও হান্নানদের পরিবারের কেউই কেন্দ্রিয় রাজনীতিতে নেই।এই ক্ষেত্রে তরুণ প্রজন্মদের মধ্যে বাঘা বাঘা রাজনৈতিক ব্যাক্তিদের মধ্যে আপনিই কেন্দ্রিয় কমিটিতে দায়িত্বে আছেন। বিষয়টি সত্যই গর্বের ও আনন্দের।আপনার ভক্ত ও অনুরক্তরা বলিতেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপনাকে প্রচণ্ড বিশ্বাস করিয়া থাকেন।আগামী কাউন্সিলে আপনাকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রিয় সেক্রেটারী করিবেন আবার কেউ কেউ বলিতেছে আপনাকে অর্থমন্ত্রী করিবেন।এইসবই লোকমুখে শুনা কথা।তবে এইসব পদের জন্য আপনি অযোগ্য এই রকম কেউই বলেননি।

আপারে

চট্টগ্রাম শহর ও মফস্বলে শেখ হাসিনা, আতাউর রহমান কায়সারের ছবিসহ আপনার পোস্টার চোখে পড়িতেছে।পোস্টারের আবেদন, ভাষা  ইত্যাদি সবই ঠিক আছে।কিন্তু নিবেদক চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগ পরিবার । ফেসবুকে এই পোস্টারটি সাটানোর পর অনেকে স্ট্রাটাস দিয়া জানিতে চাহিয়াছে আওয়ামী লীগ পরিবার নামে কোন সংগঠন আছে কিনা ?  নিবেদকে উত্তর, দক্ষিন ও মহানগর আওয়ামী লীগ লিখিলে ভালো হইত বলিয়া আপনার সমর্থকেরা বলিতেছে। শুনিয়াছি, বিভিন্ন এলাকায় আপনাকে সম্বর্ধিত করিবার জন্য প্রস্তুতি চলিতেছে কিন্তু আপনি রাজি হইতেছেন না বলিয়া শুনিতেছি, বিষয়টি লইয়া আপনার সমর্থকেরা নাখোশ বলিয়া খবর আসিতেছে।নেতা – পাতি নেতারা যেখানে সম্বর্ধনা পাইবার জন্য মরিয়া হইয়া থাকে সেখানে আপনার আগ্রহই নাই সত্যিই বিষয়টি ভাবিবার মতো বলিয়া রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলিতেছে।অনেকে বলিতেছে এখানেই ওয়াশিকা যোগ্যতা প্রমাণিত হইতেছে।অন্যরা বলিতেছে সমর্থকদের চাঙ্গা রাখিবার জন্য ও উৎসাহ অনুপ্রেরণার জন্য আপনার অন্তত আনোয়ারা, লোহাগাড়া ও চকরিয়ায় গণযোগাযোগ বাড়িয়ে দেওয়া দরকার।বিষয়টি আপনিই ভালো বুঝিবেন।

আপনার মঙ্গল ও সুস্বাস্হ্য কামনায় ইতি আপনারই গ্রাম বাংলার অখ্যাত ঠাণ্ডা মিয়া

গ্রন্হনা ম. আ. হ

আগামী সংখ্যায় চট্ট্রগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী সমীপে ঠাণ্ডা মিয়ার গরম কথা (২২৪) সম্প্রচার করা হইবে।

 

 

 

 

শেয়ার করুনঃ

আরো খবর

Leave a Reply