ডিসেম্বর ৩, ২০২১ ৩:৫৯ পূর্বাহ্ণ

লামা-চকরিয়া সড়ক নির্মানে পার্বত্য এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ ৫০ পরিবার ক্ষতিপুরণ পাওয়ার দাবী

 

মো.কামরুজ্জামান, লামা (বান্দরবান)
লামা-আলীকদম ফাঁসিয়াখালী সড়কের ইয়াংছা বাজার পয়েন্ট থেকে চকরিয়া উপজেলার জিদ্দা বাজার পর্যন্ত নির্মাণ হচ্ছে সাড়ে উনিশ কি:মিটার সড়ক। নির্মাণাধীন সড়কের দেড় কি:মি: লামা অংশে পড়েছে। সড়কের হীমছড়ি থেকে ইয়াংছা বাজার পর্যন্ত প্রায় দেড় কি:মি: সড়কের দু’পাশের ৫০টির মতো পরিবারের বসত ঘর, জমি, গাছগাছালীসহ মৌসুমি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্থ বাসিন্দারা সরকারের নিকট ক্ষতিপূরণ দাবী করছে।
সূত্রে জানা যায়, লামা-আলীকদম সড়কের লামা উপজেলার ইয়াংছা বাজার পয়েন্ট থেকে চকরিয়ার সুরুজপুর- মানিকপুর হয়ে জিদ্দা বাজার পর্যন্ত একটি সড়ক নির্মিত হচ্ছে। কক্সবাজার সড়ক ও জনপদ বিভাগের আওতায় সাড়ে উনিশ কি:মি: সড়কের ব্যয় বরাদ্দ হয়েছে আটান্ন কোটি টাকা। চকরিয়া উপজেলার মানিকপুর-সুরুজপুর হয়ে এটি পার্বত্য লামা উপজেলার ইয়াংছা বাজার পয়েন্টে লামা-আলীকদম সড়কে মিলিত হবে। নির্মাণাধীন সড়কের দেড় কি:মি: অংশ পড়েছে পার্বত্য লামা উপজেলায়। নির্মাণাধীন সড়কের কাজ করছেন র‌্যাব আরসি নামের একটি প্রতিষ্ঠান।
সুরুজপুর-মানিকপুর এবং লামা পার্বত্য উপজেলার সীমান্ত পয়েন্ট ইয়াংছা মৌজার শেষাংশে হীমছড়ি। ২১ ডিসেম্বর সরেজমিন দেখা যায়, হীমছড়ি থেকে ইয়াংছা বাজার পর্যন্ত নির্মাণাধীন সড়কের দু’পাশে প্রায় ৫০টির মতো পরিবার সড়ক নির্মাণ কাজের ফলে বিভিন্নভাবে ক্ষতি গ্রস্থ হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, নতুন-পুরাতন পাকা-সেমিপাকা বসত ঘর, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, বাঁশ কাঠের ঘর, সৃজিত গাছগাছালী, বাঁশ বাগান, মৌসুমি ফসল ইত্যাদি। ইয়াংছার বাসিন্দা মাহমুদা খাতুন, পারভীন আক্তার, রুহুল আমিন, সাজেদা পারভীন, নুরুল আফসার মো: শাহেদ, হাবিবুর রহমান, শাহ আলম সর্দার, কবির মাঝি, হোসনে আরা, উমে মার্মানী ও ক্যসিংহ্লা মার্মাসহ অনেকে নির্মাণাধীণ সড়কের কাজে তাদের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হওয়ার কথা জানান।
ইয়াংছা মৌজার হেডম্যান ক্যাসিংহ্লা মার্মা জানান, সড়ক নির্মাণ কাজে দু’পাশের জমি, বাড়িঘর, বাগান, ক্ষেতের ফসল-এর প্রচুর পরিমান ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ এসব পরিবার প্রান্তিক শ্রেণির। সরকার তাদেরকে ক্ষতিপূরণ দেয়া দরকার। অনেকে মাত্র ১০ শতাং জমির মালিক, তার পুরাটাই সড়কের মধ্যে পড়েগেছে। তারা এখন কোথায় যাবে? এমন প্রশ্ন করেছেন তিনি সরকারের সংশ্লিষ্টদের কাছে ।
ফঁসিয়াখালী ইউপি চেয়ারম্যান জাকের হোসেন মজুমদার বলেন, সড়কটি খুবই জরুরী। তবে এটি নির্শাণ করতে গিয়ে কম বেশি প্রায় ৫০টির মতো পরিবার ক্ষতি গ্রস্থ হয়েছে বা হবে। এরা সবাই দরিদ্র বাসিন্দা, কর্তৃপক্ষ তাদের ক্ষতিপূরণ দেয়া উচিৎ।
সড়ক ও জনপদ বিভাগের কক্সবাজার নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, “ক্ষতিপূরণ বরাদ্দ আমাদের নেই। তবে ক্ষতিগ্রস্থরা আবেদন করলে উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে ব্যাবস্থা নেয়ার জন্য আমরা লিখবো। তিনি বলেন সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ন, একই সাথে প্রান্তিক মানুষরাও বাঁচতে হবে। ক্ষতিগ্রস্থদের আবেদন পেলে বিষয়টি তিনি সংশ্লিষ্ট উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে জানাবো। দেরিতে হলেও তারা ক্ষতি পূরণ পাবেন”।
লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ জান্নাত রুমি জানান, “এ ব্যাপারে আমরা এখনো সুনির্দিষ্ট কিছু জানিনা। স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্থদের আবেদন পেলে বিষয়টি নিয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে লিখবো”।

 

 

 

 

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply