বাংলাদেশ, রবিবার, ২৬শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং, ১২ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

আনোয়ারার মানুষ ডাক্তার গোপাল চন্দ্র বিশ্বাসকে এখনো ভুলেননি: স্মৃতি নিয়ে বেচেঁ আছে স্ত্রী, ছেলে- মেয়েরা, কেউ খবরও রাখে না তাদের

আনোয়ারা প্রতিনিধি 

‘৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে মানবসেবক ডাক্তার গোপাল চন্দ্র বিশ্বাসকে রাজাকারেরা হত্যা করে। তাঁর  কোন দোষ ছিল না। তবু তিনি হত্যার শিকার হন।তিনি ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা স্বাধীনতার পক্ষের লোক।ওই সালে ৪ অক্টোম্বর আনোয়ারা গ্রাম থেকে ৬ জনকে রাজাকারেরা ধরে নিয়ে যায়।সে ৬ জনের মধ্যে গোপাল চন্দ্র বিশ্বাসও ছিলেন।

সুত্রমতে, এর আগে অর্থাৎ ১৯৭১ সনের ৪ অক্টোম্বরের আগে ডাক্তার গোপাল চন্দ্র বিশ্বাসকে রাজাকারেরা ধরে নিয়ে যায়। দীর্ঘ ১ মাস বিশ্বাসকে রাজাকারেরা  অজ্ঞাত স্হানে আটকে রাখে। মাসভর শাররীক ও মানসিক নির্যাতন চালায় তাকে।তিনি নির্দোষ থাকায় তৎকালীন থানার সার্কেল অফিসারও তার পক্ষে সাফাই দেন।কিন্তু এর আগে তাঁর ঔষধের দোকানটিও লুটে নেয় । অক্টোম্বর মাসে দোকানটি মেরামত করে নতুনভাবে স্বপ্ন বুনে ডাক্তার গোপাল চন্দ্র বিশ্বাস।কিন্তু তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ দেননি রাজাকারেরা। নিজ বাড়ীতেই রাজাকারেরা তাকে গুলি করে। তখনই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সে,  ক্ষতবিক্ষত হয় তাঁর শরীর।ঘটনাস্হলেই প্রাণ হারান তিনি।তারপরও রাজাকারেরা শান্ত হননি, লাশটিও ধর্মীয়মতে দাহ করতে দেননি।

জানা গেছে, গোপাল চন্দ্র বিশ্বাসের লাশ তার বাড়ীর পুকুর পাড়ে মাটি চাপা দেয়। কয়েকজনের লাশ একসাথে মাটি চাপা দেওয়ায় লাশের দূর্গন্ধ বের হয় দুইদিন পরেই।এটিও এখনো এলাকার মানুষের স্মৃতিতে আছে।   নারায়ণ ভট্টাচার্য, মন্টু চক্রবর্তী, গৌড়াঙ্গ চক্রবর্তী ও মৃদুল চক্রবর্তীকেও রাজাকারেরা লুকিয়ে পেলে যাদের খোজঁ এখনো মেলেনি ।

৯০ বছর ছুঁই ছুঁই অনিমা বিশ্বাস ডাক্তার গোপাল চন্দ্র বিশ্বাসের স্ত্রী। তিনি এখনো অভাব অনটন, রোগ – শোক নিয়ে দিন যাপন করে চলেছেন।তার এক পুত্র ও ৪  কন্যা সন্তান রয়েছে।কন্যারা শ্বাশুড়ালয়ে থাকলেও একমাত্র পুত্র ধীমান বিশ্বাস পিতৃ ভুমিতে থাকেন।দেশ স্বাধীন হলো, দেশের মানুষ পেল স্বাধীন ভুখণ্ড ও মানচিত্র।ডাক্তার গোপাল চন্দ্র বিশ্বাসের মতো অসংখ্য মুক্তিকামী মানুষের প্রাণ  ও মা – বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে আমাদের এসব অর্জন  । ডাক্তার গোপাল চন্দ্র বিশ্বাসের পরিবার পরিজনের কেমন আছে কেউ তার খবর রাখছে না।ডাক্তার গোপাল চন্দ্র বিশ্বাস রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিও পায়নি, পায়নি কোন সরকারী সাহায্য – সহযোগিতাও।

ডাক্তার গোপাল চন্দ্র বিশ্বাসের একমাত্র পুত্র ধীমান বিশ্বাস মনে করে কোন না কোন দিন তিনি পিতৃ হত্যার বিচার পাবে, পাবে সরকারী- বেসরকারী সহযোগিতা ও স্বীকৃতি । এই বিশ্বাসে ধীমান বিশ্বাসও বছর ফি বছর দিন যাপন করছে। বয়স বাড়ছে, বাড়ছে আশাও।

 

শেয়ার করুনঃ

আরো খবর

Leave a Reply