বাংলাদেশ, রবিবার, ২৬শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং, ১২ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম-৮ আসনে উপ-নির্বাচন কে হবেন বোয়ালখালীর সাংসদ ?

বিপ্লব নাথ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাক ও শহরের খুব কাছের আসনটি হচ্ছে চট্টগ্রাম-৮। যেটি বোয়ালখালী, চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ, বায়েজিদ আংশিক এলাকা নিয়ে গঠিত। বর্তমানে যার নাম বোয়ালখালী নির্বাচনী এলাকা নামে পরিচিত। বৃটিশ আমলে চট্টগ্রাম শহর ও বোয়ালখালীকে একসাথে যোগ করার জন্য কর্ণফুলীর নদীর উপর দিয়ে রেল সেতু তৈরী করা হয়েছিল কালুরঘাট সেতু । এই সেতু তৈরীর পর থেকে চট্টগ্রাম মূল শহরের সাথে যাতায়াত দ্রুত ও সহজতর হয়। দীর্ঘ যানজট, সাধারণ মানষের দুর্ভোগ, জরাজীর্ণ সেতু ভেঙে নতুন সেতু তৈরীর করার জন্য জাসদের এমপি মঈন উদ্দিন খান বাদল সরকারকে আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত ।কিন্তু তার এই আল্টিমেটাম শেষের আগেই নিভে যায় ।

মঈন উদ্দিন খান বাদলের পর থেকে বোয়াখালী (চট্টগ্রাম-৮) বাসীর কে হচ্ছেন নতুন সংসদ সদস্য এই নিয়ে বেশ মুখরোচক খবর প্রচার করে আসছিলেন বিভিন্ন গণমাধ্যম। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অনেক নেতা-কর্মীদের নাম শোনা গেলেও ফরম কিনেছিলেন কয়েকজন নেতা-কর্মী। পরবর্তীতে গত ১২ ডিসম্বের চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গণের অনেকের কাছে তা স্পষ্ট হয়ে যায়। ক্ষমতাশীন আওয়ামী লীগের অনেক নেতাদের মতামত নিয়ে প্রার্থী হিসাবে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সভাপতি মোছলেম উদ্দিন দলীয় মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশনে জমা দেন। এ সময় তিনি উপস্থিত সকলের সাথে কথা বলে মনের ভাব প্রকাশ করেন এবং জানান এলাকার ভোটারদের নিয়ে নির্বাচন কমিশনে আমার মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছি। মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী আ

গামীতে কাজ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।

 ৭৩ সালের পর থেকে এ নির্বাচনী এলাকায় কোনও দলীয় প্রার্থী সংসদ সদস্য হতে পারেনি। তিনি আরও জানান, সারাদেশের উন্নয়নের সঙ্গে এই এলাকাকে সম্পৃক্ত রাখার লক্ষ্যে এবং কাঙ্কিত উন্নয়নে আমি কাজ করবো। আমার প্রথম দায়িত্ব থাকবে কালুরঘাট নতুন সেতুটি দৃশ্যমান করা। অপরদিকে, বিএনপি থেকে সদ্য ইস্তফা দেয়া সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম. মোরশেদ খান চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। ১২ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার স্থানীয় রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে তার মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার কথা রয়েছে। আরেকটি সূত্র জানায়, এম মোরশেদ খান তার আসনটি পুনরুদ্ধার করতে চান। দুই দলের বলয়ের বাইরে তিনিও যে রাজনীতিতে কিছু করতে পারেন সেটা প্রমাণ করতে চান। এম. মোরশেদ খান চট্টগ্রাম-৮ আসন থেকে চারবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৮৬ সালে প্রথম বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। পর্যায়ক্রমে ১৯৯১, ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির হয়ে মোরশেদ খান এমপি নির্বাচিত হন। এরপর ২০০৮ সালে দলীয় মনোনয়ন পেলেও তিনি নির্বাচিত হতে পারেননি। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৪ সালে বিএনপি বর্জন করায় সেখানে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ হারান এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোরশেদ খান বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত হন। এক পর্যায়ে চলতি বছরের ৬ নভেম্বর বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। অন্যদিকে চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপ নির্বাচনে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন বিএনপি’র প্রার্থী আবু সুফিয়ান। গতকাল ১১ ডিসেম্বর বুধবার চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসে তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেন। মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে আবু সুফিয়ান বলেন, উপ-নির্বাচনে আমাকে দল থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। একটা প্রত্যাশা থেকেই এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি। যদিও নির্বাচনী পরিবেশ ধ্বংস হয়ে গেছে, আশা করছি সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরে আসবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সঠিক জনমতের প্রতিফলন ঘটবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের দলের মধ্যে কোন দ্বন্দ্ব নেই। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে সরকারের নেতিবাচক কর্মকাণ্ড, খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং কালুরঘাট সেতুর বিষয়গুলো নিয়ে সবার কাছে যাব। যেভাবে সাড়া পাচ্ছি, মানুষ যদি ভোটকেন্দ্রে যেতে পারে ভালো ফলাফল আমরা পাবো। উপ-নির্বাচনে কে হবেন এমন প্রশ্নের উত্তর এখন ঘুরপাক কাচ্ছেন মানুষের মুখে মুখে। হেভিওয়েট হিসেবে তিনজনই রাজনৈতিক ভাবে জনপ্রিয়। মোছলেম উদ্দিন- এম মোরশেদ খান- আবু সুফিয়ান তিনজনই তিন রাজনৈতিক মতাদর্শী হলেও ভোটের পর কাজ করতে হবে একই সংসদীয় এলাকার সাধারণ মানুষের। প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক অভিজ্ঞ, সাবেক মন্ত্রী ও জনপ্রিয় নেতা। এদের অনেক রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাও অনেক। এরা প্রায় সময় চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে রাজনৈতিক জনমত তৈরীর অভিজ্ঞতাও তাদের আছে। আছে সাধারণ মানুষের মনের ভাব বুঝার।

শেয়ার করুনঃ

আরো খবর

Leave a Reply