বাংলাদেশ, রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২০ ইং, ২১শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বিজয়ের কথা বিজয়ের গান

আবছার উদ্দিন অলি

১৬ ডিসেম্বর। মহান বিজয় দিবস। আমাদের গৌরব ও অহংকার। ১৯৭১’ সালের এই দিনে বিশ্ব মান চিত্রে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ নামের স্বাধীন এই ভূখন্ড। তার বিনিময়ে আমাদের হারাতে হয়েছে অনেক কিছু। বিজয়ের এই দিনে আমরা স্মরণ করছি আমাদের সে সব অকুতোভয় বীর সেনানীকে। পৃথিবীর সবদেশে ছড়িয়ে থাকা সকল বাঙালিই বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য কাজ করেছেন। যুদ্ধ চলাকালীন সাহস শক্তি অনুপ্রেরণা উৎসাহ যুগিয়েছেন আমাদের স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীরা। শিল্পীদের সংগ্রামী কন্ঠের গান সাড়া জাগিয়ে তোলে বাংলার পথে প্রান্তরে। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী- প্রবাল চৌধুরী, কল্যাণী ঘোষ, মিহির কুমার নন্দী, জয়ন্তী লালা, মৃনাল ভট্টচার্য্য, সুজিত রায়, বানী কুমার চৌধুরী, শীলা মোমেন, উমা ইসলাম, ননী গোপাল দত্ত, শেফালী ঘোষ সহ আরো অনেকে মুক্তিযোদ্ধা চলা কালীন সংগীত পরিবেশন করে উৎসাহিত করেছে পুরো বাঙালী জাতিকে। মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারার মতো গৌরবের বিষয় আর কি হতে পারে। বাংলাদেশের জন্ম ও নতুন জাতি হিসেবে পৃথিবীতে মুক্তিযোদ্ধারা সেদিন যুদ্ধ করেছেন ইতিহাসে তারা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। স্বপ্নের হাজারো রং ছড়িয়ে আমরা সবাই চাই আমাদের দেশটাকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে। সকল শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। হৃদয়ে মুক্তিযুদ্ধ, হৃদয়ে দেশের গান। মুক্তির সংগ্রামে গানে গানে সুরে সুরে সারা দেশে বিজয়ের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে। যুদ্ধচলাকালীন বেতার ছিল সকল খবরা খবরের একমাত্র মাধ্যম। বেতারের খবর শুনতে হাজার হাজার লোক এক সাথে জড়ো হতো। আর স্বাধীনতা সংগ্রামের গান গুলো নতুন করে উজ্জীবিত করতো। বন, জঙ্গল, পাহাড়, নদী, সাগর, সমুদ্র সব জায়গায় শোনা যেতো বিজয়ের গান।

চট্টগ্রামে দেশের গান লিখেছেন- রমেশশীল, আবদুল গফুর হালী, সৈয়দ মহিউদ্দিন, খুরশিদ আনোয়ার, মমতাজ আলী খান, ড. ময়ুখ চৌধুরী, ডাঃ গোলাম মোস্তফা, লিয়াকত হোসেন খোকন, এস.এম খুরশিদ, আনিস আহমেদ বাচ্চু, জহুরুল ইসলাম, ফারুক হাসান, জসিম উদ্দিন খান, জি.কে. দত্ত, দীলিপ ভারতী, পংকজ দেব অপু, এ.কে.এম জয়নাল আবেদীন, মোঃ ওবায়দুল্লা­হ, ডাঃ খোদেজা খুরশিদ অপরাজিতা, আবছার উদ্দিন অলি, মাহাবুবুল আলম বাবুল, ডাঃ শফি সুমন, তসলিম উদ্দিন আহমেদ, খোরশেদুল আনোয়ার, এয়াকুব সৈয়দ, সরোয়ার হোসেন নবাব, আবদুল লতিফ ওয়াসেফপুরী, সঞ্জিত আচার্য্য, মহসীন ভূঁইয়া, সৈয়দ খালেদুর আনোয়ার, ফিরোজ উদ্দিন আহমেদ, ইসমাইল মানিক, মুন্সি ওয়াদুদ, শতাব্দী সাহা মনি, সুফী মোহাম্মদ নাঈম, মৌসুমী সেন, দীপক আচার্য্য, ড. আহমেদ মাওলা, মাসুম ফেরদৌস, কোহিনুর সাকী, সিরাজুল হক সিরাজ, মাহফুজুল হক, মৃনালীনি চক্রবর্তী, নুর নবী রাজু, কমরে আলম, রুহুল কুদ্দুস, জামাল রেজা, রাহাগীর মাহমুদ, শাহীন আনোয়ার, শাহীন আক্তার, হুমায়ুন চৌধুরী, মুহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী।

আমার সোনার বাংলা, সালাম সালাম হাজার সালাম, আমার ভাই এর রক্তে, সবকটা জানালা খুলে দাওনা, এক সাগর রক্তের বিনিময়ে, মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো, একবার যেতে দেনা আমায়, এক নদী রক্ত পেরিয়ে, সোনা সোনা সোনা লোকে বলে, ও মাঝি নাও বাইয়া যায়রে, এক তারা তুই দেশের, প্রথম বাংলাদেশ আমার, মোদের গরব মোদের আশা, জন্ম আমার ধন্য হলো, আমায় গেঁথে দেওনা মাগো, পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, প্রতিদিন তোমায় দেখি, কারা ঐ লৌহ কপাট, ও আমার দেশের মাটি, এই পদ্মা এই মেঘনা, বাংলা আমার মা, বাংলা মাগো, আমি জন্মেছি এই দেশে, ধনে ধন্যে পুষ্পে ভরা, জয় বাংলার জয়, সেই রেললাইনের মেটো পথে, মোরা বাংলার গান গাই, নোঙ্গর তোল, যায় যদি প্রাণ, মাগো ভাবনা, ভেবোনা মা, স্বাধীন স্বাধীন, বিজয় নিশান উড়ছে, শিকল পরা পায়, ঢাকা শহর রক্তে রাঙানো, শুন একটি মুজিব, তীর হারায়ে ঢেউর সাগর, মুক্তির এ পথ সংগ্রাম, আমার প্রতিবাদের ভাষা, আমার এই দেশ সব মানুষের, যে মাটির বুকে। মুক্তির সুরে বিজয়ের গান গুলো যুদ্ধচলাকালীন ও পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাঙালি জাতিকে সংস্কৃতি অঙ্গনে সহ বহি:বিশ্বে পরিচয় ঘটিয়েছে লাল সবুজ পতাকাকে। এ জন্য আমরা গর্বিত আমরা অনুপ্রাণিত আমরা আনন্দিত আমাদের দেশের গান এমন জনপ্রিয় হয়ে উঠবে যা কখনোই ভাবেনি কোন শিল্পী। পৃথিবীর কোন দেশে তার দেশ নিয়ে এত গান আছে বলে আমার জানা নেই।

বিজয় আমাদের অহংকার। বিজয় দিবস আবার এসেছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ বিজয় দিবস ৪৮ বছর অতিবাহিত করবে। একটি একটি করে ৪৮ টি বছর পার করলাম আমরা কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে কি পেরেছি এ প্রশ্নের জবাবে উত্তর এখন সহজে মিলে। নাটক, সিনেমা, সংগীত, বিজ্ঞাপন, যাত্রা, ষ্টেজ শো, বেতার, টেলিভিশন, স্যাটেলাইট চ্যানেল, এফ.এম.রেডিও, দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকা সংবাদ সংস্থা, নিউজ এজেন্সী, অনলাইন পত্রিকা সব কিছুতে পরিবর্তন এসেছে। উন্নয়ন হয়েছে, উন্নতি হয়েছে, উর্বর বেড়েছে। শুধু মাত্র পরিবর্তন হয়নি আমাদের রুচি মন মানসিকতার আর চিন্তা শক্তির। মানুষ ঠকানো আর দুই নম্বরী কাজ সমান তালে চলছে। কে কাকে মেরে বড় লোক হবে এমন অসুস্থ প্রতিযোগিতা চলছে। রাজনীতিতে দুর্নীতি দুর্বৃত্তায়ন প্রকট হয়েছে। ৪৮ বছরেও স্বপ্ন পূরণ হয়নি বাঙ্গালির। বিজয়ের ৪৮ বছরেও চট্টগ্রামের শিল্পী সুরকার ও গীতিকাররা এখানো গান লিখা, সুর করা ও গান গাওয়াকে পেশা হিসেবে বেঁচে নিতে পারেনি আগামী ৪৮ বছরেও সে স্বপ্ন পূরণ হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। এক্ষেত্রে ঢাকায় যারা আছেন তারা পেরেছেন প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। সুর সংগীতকে পেশা হিসেবে নিয়ে জীবন যাপন করছেন। সংগীত শিল্পী শংকর দে বলেন, দেশের গান যখন সুরকার হিসাবে সুর করি কিংবা গায়ক হিসাবে গায়, তখন অন্যরকম অনুভূতি হয়। দেশের গানের প্রতি ভালালাগা, সব সময় অনুপ্রাণিত করেছে। নতুন করে শুরু হোক বাঙালি জাতির মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নবযাত্রা। আর বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে যাক নতুন আশার আলো স্বাধীনতার সুফল। সে ধারাবাহিকতায় স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পুনরাবিস্কারের এক মহান ব্রত নিয়ে আমরা যে অভিযাত্রা শুরু করছি তা আমাদের সমাজে, রাষ্ট্রে, সম্ভাবনার শত পুষ্প বিকশিত করতে শুরু করেছে ইতিমধ্যে। গীতিকার এস.আনিস আহমেদ বাচ্চু বলেন- দেশের গান বাঙালির চেতনার জাগরনের গান। বহু বিখ্যাত দেশের গান রয়েছে যাতে দেশ প্রেম উৎসারিত হয়েছে চিরকালিন। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ, ভাব, স্বাধিকারের জন্য আত্মবলিদান এই সমস্ত গানের মূল ভাব ও বিষয়। স্বাধীন বাংলার এযুগের মায়েরা এখন ঘুম পাড়ানী গানের মতো গুনগুনিয়ে দেশের গান গেয়ে শিশুকে ঘুম পাড়ায়। এই গান তারুণ্যের উচ্ছ¡াস জাগায়। আবার নতুন করে একটি শোষণহীন, অসা¤প্রদায়িক দেশ গড়ার তরুনদের শপথ নেয়ায়। এসকল গানের চাহিদা কখনো ম্রিয়মান হবার নয়।

চট্টগ্রামে দেশের গান গেয়েছেন এমন শিল্পীরা হলেন- প্রবাল চৌধুরী, মিহির লালা, মিহির কুমার নন্দী, আব্দুল মান্নান রানা, সুজিত রায়, মৃনাল ভট্টচার্য, মোস্তফা কামাল, নাজমূল আবেদীন চৌধুরী, জয়ন্তী লালা, উত্তম কুমার দত্ত, মানস পাল চৌধুরী, সাইফুদ্দীন মাহমুদ খান, আলমগীর আলাউদ্দিন, আবদুর রহিম, কায়সারুল আলম, আলাউদ্দিন তাহের, ফজলুল কবির চৌধুরী, শংকরদে, স্বপন কুমার দাশ, রুনা পারভীন, শিরিন আক্তার, আলেয়া আরিফ, অনামিকা তালুকদার, রুহি মোস্তফা, শাকিলা জাহান, নির্মল বৈদ্য, ফরিদ বঙ্গবাসী, কল্পনা লালা, সূবর্ণা রহমান, পলি শারমিন, দীপক আচার্য্য, সঞ্জিত আচার্য্য, তাপস চৌধুরী, রঞ্জন চৌধুরী, ইফতেখার সাদী, আলম আশরাফ, বোরহান উদ্দিন চৌধুরী টিপু, অচিন্ত্য কুমার দাশ, ত্রিদিব বড়ুয়া রানা, জয়শ্রী ধর টুম্পা, দিলরুবা মরিয়া, লুভনা হুমায়ন সুমি, শাহরিয়ার খালেদ, জেলী চৌধুরী, দিদারুল আলম, দীপেন চৌধুরী, গাজী মওদুদুর রহমান, চন্দ্র শেখর দত্ত, তরুন বিকাশ লালা, ইকবাল পিন্টু, মারিয়া শারমিন মুন্নী, তাপস বড়ুয়া, সৈকত দাশ, মুন্না ফারুক, সুতপা চৌধুরী মুমু, জেবুন্নেসা পপি, রাজীব ভট্টচার্য্য, বীনা পানি চক্রবর্তী, রুবি দাশ গুপ্ত, রাজশ্রী আচার্য্য, দীলিপ দাশ, নজরুল ইসলাম মাহমুদ, মিয়া মোঃ বদরুদ্দিন, কাশপিয়া, কান্তানন্দী, রোকশেদ খান, মনোজ সরকার, আকলিমা আক্তার মুক্তা, কেয়া লাহড়ী, হাসান জাহাঙ্গীর, রতন কুমার বড়ুয়া, মিতানুর, শাপলা পাল, বদরুল হাসান টিটু, জুয়েল পাল, রিকু দাশ, হানিফ চৌধুরী, অনন্যা দাশ গুপ্তা, তন্ধী দত্ত, সঞ্জয় চৌধুরী, ইমতেখাব আলম মান্না, পাপিয়া আহমেদ, হৈমন্তি রক্ষিমান, নিশিতা বড়ুয়া, রন্টি দাশ, অরিন, শারমিনা চৌধুরী তিনা, দিল আফরোজ, মোস্তাক আহাম্মেদ, শর্মিলা বড়ুয়া, মাহবুবুল আলম, খোদেজা বিথি, ডেজি, হুমায়ুন চৌধুরী, জাহিদ হোসেন, দেবরাজ দত্ত ডেবিট, ঐশ্বর্য দেবী, সাজিয়া মুমতাহিনা নিহা, ফারজানা সালাউদ্দিন, সাবিনা ইয়াসমিন, কামরুল আজম টিপু, আবুল কাশেম, কাজল চৌধুরী, সুষ্মিতা মাওলা, ফরিদা করিম, ফাহমিদা রহমান, নুসরাত জামান স্নিগ্ধা, ইকবাল হায়দার, জনি খন্দকার, মিলন আচার্য্য, শিমুল শীল, লোকমান চৌধুরী রাশু, মোহাম্মদ হোসেন, কামরুল আজম চৌধুরী টিটু, নাদিরা পারভীন পারুল, হারুন উর রশিদ, নিহা, নুপুর আক্তার, আবদুস সাত্তার, প্রফুল­ রঞ্জন, শরন বড়ুয়া, নির্বাচিতা মুৎসুদ্দী, সুপর্না রায় চৌধুরী, কাকলী দাশ গুপ্ত, কৃষ্ণা দাশ, শিলা চৌধুরী, কুশল দে, শিউলী মজুমদার, কলি চৌধুরী, এহসানুল করিম, নারায়ণ দাশ, তাহমিনা আক্তার, সাব্বির, রাশেদ, লুবনা জান্নাত, মোঃ মঞ্জুরুল আলম, নির্মল বৈদ্য।

সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক ফজলুল কবির চৌধুরী বলেন, দেশ আমার মা, আমার জন্মভূমি তাই দেশের প্রতিটি মানুষের ভালবাসা আমার হৃদয়ে জড়িয়ে আছে। প্রতিটি ধুলিকনা আমার শরীরের সাথে শ্বাস প্রশ্বাসে প্রতিনিয়ত মিশে আছে সে মাটির মায়া মমতা এখনো আমাকে আপ্লুত করে, তাই দেশের গানের প্রতি আমার দূর্বলতা সবসময় বেশি কাজ করে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ হয়ে দেশকে ভালোবাসি তাই সর্বদা দেশের গানের প্রতি মমত্ববোধ রয়েছে সংগীত জীবনের শুরু থেকে। মা মাটি ও মানুষের কথা সুরের মাধ্যমে বলতে পারলে বুঝবো আমার ঋণ কিছুটা অন্তত পরিশোধ করতে পেরেছি। দেশের গান, দেশের মান, সংগীতের প্রাণ। আওয়াজ তুলি দেশকে ভালোবাসি দেশের জন্য সর্বদা ত্যাগ করতে প্রস্তুত আছি। এগিয়ে যাক সুন্দর আগামীর পথে। গীতিকার জসিম উদ্দিন খান বলেন- ৭১’র ১৬ ডিসেম্বর। জীবন জয়ের গৌরবে দীপ্ত সূর্য মহিমায় উদ্ভাসিত আমাদের বিজয় দিবস। লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে পাওয়া এ বিজয় কারো একার নয়। এ গৌরব কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, বুদ্ধিজীবি, পেশাজীবি সহ নারী-পুরুষ সকল জনতার। যাদের আত্মত্যাগে আমাদের এ অর্জন বিজয়ের গৌরবে তাঁদের স্মরনে রচিত হয়েছে হাজারো দেশের গান। গানে গানে সশ্রদ্ধ হৃদয়ে জাতি তাঁদের মনে রাখবে চিরকাল। চট্টগ্রামে সর্বাধিক দেশের গান সুর করেছেন- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী সুজিত রায় ও বানী কুমার চৌধুরী, মৃনাল ভট্টাচার্য। তাদের সুরকরা গান চট্টগ্রামে প্রথম সারির সব শিল্পীরা গেয়েছেন।

রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠাই ছিল আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম লক্ষ্য। বিজয়ের চার দশক পার হলেও আমরা সে লক্ষ্য আজও পুরোপুরি অর্জন করতে সক্ষম হইনি। ১৯৭৫ সালের স্বাধীনতা বিরোধী চক্র জাতির জনককে হত্যা করে গণতন্ত্র ও উন্নয়নের পথকে রুদ্ধ করে। পরবর্তীতে আমাদের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার পথও মসৃণ ছিল না। ফলে আমরা পিছিয়ে পড়ি কাঙ্খিত উন্নয়ন থেকে। আমাদের রয়েছে উন্নয়নের সম্ভাবনা। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশ ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সকলে একযোগে কাজ করলে আমরা কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারব। একটি সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখব-এই হোক মহান বিজয় দিবসের অঙ্গীকার। দেশের গান সুর করেছেন- বানী কুমার চৌধুরী, সুজিত রায়, প্রবাল চৌধুরী, আব্দুল মান্নান রানা, সাইফুদ্দীন মাহমুদ খান, সৈয়দ মহিউদ্দিন, আলমগীর আলাউদ্দিন, আলাউদ্দিন তাহের, দীপক আচার্য্য, সঞ্জিত আচার্য্য, মানস পাল চৌধুরী, ফজলুল কবির চৌধুরী, অশ্রু বড়ুয়া, নির্মল বৈদ্য, মোঃ সাহাবুদ্দীন, তাপস চৌধুরী, স্বপন কুমার দাশ, তাপস বড়ুয়া, প্রকাশ চন্দ্র শীল, সৈয়দুল হক, মৃনাল ভট্টাচার্য, জালাল আহমেদ, আবু তাহের চিশতি, এস.এম ফরিদ, আলম আশরাফ, মোঃ সাহাবুদ্দিন, আজম চৌধুরী।

চট্টগ্রামের গীতিকার, সুরকার ও শিল্পীদের গাওয়া, উলে­খযোগ্য দেশের গান গুলো হলো- এখন আমি নি:সংকোচে বলতে পারি, অনেক রক্তে অনেক ত্যাগে, দেশের বুকে জন্ম মোদের, রক্তের চেয়ে বড় কোন, মায়ের কথায় যুদ্ধে গেলাম, এই বাংলা এই বাংলা, আমার এ দেশ মায়ের মতো, যতবার আমি ছুঁয়ে দেখেছি পাথরের শহীদ মিনার, স্বপ্নে ঘেরা আমার এদেশ, সোনা ঝরা দিন ও জন্মভূমি আমার, মাগো তোর আঁচলের, আমি স্বপ্ন দেখি, আমারে মরন এসে, যে দেশে একতারা বাজে, জন্মভূমি বাংলা মাগো, বলো কোন দেশে প্রাণ, এ দেশ আমার এ মাটি আমার, ভিজে মাটি সাগর নদী, মাগো আর কেঁদোনা তুমি, আমার এ দেশ মায়ের মত, আঁকা বাঁকা নদী, পাহাড় নদী ঘেরা শ্যামলিমা, কত যে স্বপ্ন ছড়িয়ে সোনার বাংলাদেশ, অনেক রক্তে লেখা স্বাধীনতার, মাগো তোমার কোলে জন্ম, আমায় মরন যদি হয় গো, এইতো আমার দেশ সোনার বাংলাদেশ, এই মাটি এই দেশ, একাত্তরে হারিয়ে গেছে আমার মায়ের নোলক, স্বপ্ন মাগো সত্যি হলো, টুকটুকে লাল পতাকাটা, সবুজ শ্যামল বাংলা আমার, বাংলা তুমি চিরদিনের মুক্ত, ও প্রাণের বর্ণমালা, তোমরা তো হয়ে রবে তারা, সবুজ মোড়ানো আমার সোনার দেশ, মায়ের কোলে বসে কত কাহিনী, ফাগুনের আগুন রাঙ্গা, এই দেশ কত যুগ যুগান্তরে, এই সেই দেশ সাধ স্বপ্নের, ঝর্ণা গিরি সমতট, ওগো বিজয় বলোনা, আমার বাংলাদেশ হৃদয়ে লেখা, আমি একুশ বাঙ্গালীর হৃদয়, প্রাণের দামে রক্তে কেনা আমার দেশের মাটি, তুমি ফিরে আসবে বলে এখনো আমার প্রতিটি রাত ভোর হয়, আমরা সবাই জাতির কাছে একটি সূর্য সেনা, স্বাধীনতা মায়ের মতো রাখবো বুকে ধরে, হাজার দেশের একটি দেশ।

জনপ্রিয় শিল্পীদের মধ্যে দেশের গান করেছেন- রুনা লায়লা, সাবিনা ইয়াসমিন, আবদুল জব্বার, আবদুল হাদী, খুরশিদ আলম, এন্ড্রু কিশোর, খালিদ হাসান মিলু, কুমার বিশ্বজিৎ, তপন চৌধুরী, কনক চাঁপা, মনির খান, বাদশা বুলবুল, ডলি সায়ন্তনী, এস.ডি রুবেল, আঁখি আলমগীর, রবি চৌধুরী, জিনাত জাহান মুন্নী, আসিফ আকবর, সামিনা চৌধুরী, শাম্মী আকতার, আবিদা সুলতানা, শাহনাজ রহমত উল­্যা, ফাতেমাতুজ জোহরা, আইয়ুব বাচ্চু, নাসিম আলী খান, নকিব খান, পার্থ বড়ুয়া, ফরিদা পারভীন, মমতাজ, শাকিলা জাফর, আতিক হাসান, আলম আরা মিনু, মেহরীন, এস আই টুটুল, বশির আহম্মদ, রফিকুল আলম, বেবী নাজনীন, ইন্দ্রে মোহন রাজবংশী, ইয়াসমিন মুশতারী, কনা, কানিজ সূবর্ণা, কিরণ চন্দ্র রায়, চন্দন সিনহা, ঝুমুখান, দিলরুবা খান, নিযাজ মোহাম্মদ চৌধুরী, পলাশ, ফকির আলমগীর, ফাহমিদা নবী, ফেরদৌস ওয়াহিদ, বাপ্পা মজুমদার, বারী সিদ্দিকী, লাকী আখন্দ, শবনব মুশতারী, শুভ্রদেব, আগুন ও আজম খান।

বিজয়ের ৪৮ বছরে আমাদের স্লোগান হওয়া উচিত, মুক্তিযুদ্ধের সংস্কৃতিচর্চা হোক জীবনের অঙ্গ, রাজনীতির অঙ্গ। যারা মুক্তিযুদ্ধের ধারা অস্বীকার করে বা বিরোধিতা করে তারা হচ্ছে সেসব লোক যারা পিতার হত্যাকারীদের বন্ধু মনে করে, মাতা অপহারণকারীকে বরণ করে, ভগ্নির ধর্ষণকারীর সঙ্গে করমর্দণ করে, ভ্রাতার হত্যাকারীকে বুকে জড়িয়ে বন্ধুর হত্যাকারীকে মাল্য ভূষিত করে। এরা যদি সমাজে আধিপত্য বিস্তার করে আগাছার মতো বাড়তে থাকে, তাহলে বর্তমান প্রজন্মকে আমাদের সময়ের চেয়েও বেশি অপমানিত হতে হবে। দাসত্বের শৃঙ্খলে বাঁধা পড়তে হবে। বেছে নেওয়ার সময় হয়েছে এখন অপমানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ, সমঝোতার সংস্কৃতির বদলে নির্ভয়ের সংস্কৃতি বরণকে। যে জাতির অপমানবোধ নেই, সেই জাতির জাতি হিসেবে টিকে থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই। কারণ সে জাতির মানসিক উন্নতি হয় না, দাস হয়ে থাকে, আগাছার মধ্যে ডুবে আগাছা হয়ে যায়। আপসের সংস্কৃতি নয়, মুক্তিযুদ্ধের সংস্কৃতিকেই বরণ করার সময় এসেছে, সময় এসেছে তা বরণ করে নিজেদের এগিয়ে যাওয়ার। কাঙ্খিত স্বপ্নের সোনার বাংলা-যেখানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য থাকবে সম্ভাবনার অপার দিগন্ত। হিংসা বিদ্বেষ, হানাহানি, সংঘাত, সহিংসতা বন্ধ হোক, হাসি ফুটুক ১৮কোটি মানুষের মুখে। গানে গানে, সুরে সুরে বিজয় দিবস পালিত হোক, বিজয়ের আনন্দে ছড়িয়ে পড়ুক সারা দেশে।লেখক: সাংবাদিক ও গীতিকার

 

শেয়ার করুনঃ

আরো খবর

Leave a Reply