বাংলাদেশ, রবিবার, ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং, ৩০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিক : সন্তু লারমাই বড় বাধা

 

শংকর চৌধুরী,খাগড়াছড়ি

খাগড়াছড়িতে পার্বত্য জেলা পরিষদ ও সেনা রিজিয়নের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য আয়োজনে, ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি (শান্তিচুক্তির) ২২ বছর পূর্তি পালিত হয়েছে। সোমবার ২ ডিসেম্বর সকালে পার্বত্য জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে ২২টি  স্বারক বৃক্ষরোপণের মধ্য দিয়ে এর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। শান্তির পায়রা ও রঙবেরঙের বেলুন উড়িয়ে বর্ণাঢ্য এ আয়োজনের শুভ উদ্বোধন করেন, ভারত প্রত্যাগত শরনার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান, কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি।

পরে, পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে পৌর টাউন হলে, পার্বত্য জেলা পরিষদ ও সেনা রিজিয়ন আয়োজিত আলোচনা সভায় মিলিত হয়। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায়, সাংসদ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ বাসন্তী চাকমা, রিজিয়ন কমান্ডার ব্রি.জে. মোঃ ফয়জুর রহমান জেলা প্রশাসক প্রতাব চন্দ্র বিশ্বাস, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম এম সালাউদ্দিন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এর আগে টাউন হল প্রাঙ্গনে খাগড়াছড়িতে বসবাসরত বাঙালি, চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা শিল্পীগোষ্ঠীর পরিবেশনায় মনোমুগ্ধকর ডিসপ্লে ও নৃত্য পরিবেশিত হয়।

এদিকে, শান্তিচুক্তির ২২তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির যথাযথ ও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন সহ ৭ দফা দাবিতে সকাল সাড়ে ১০ টায় শহরের লারমা স্কয়ার থেকে একটি র‌্যালি বের হয়ে মারমা উন্নয়ন সংসদে গিয়ে সমাবেশ করেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সুধাকর ত্রিপুরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি বিমল কান্তি চাকমা।
বিশেষ অতিথি ছিলেন, গণসংহতি আন্দোলনের হাসান মারুফ রুমী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ-বিজ্ঞান বিভাগ অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মুহম্মদ আমির উদ্দিন ও বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন সভাপতি গোলাম মোস্তফা।

সভায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের পথকে আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান সন্তু লারমা বাধাগ্রস্ত করছে উল্লেখ করে, বাংলাদেশের ভূখণ্ড থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামকে ভারতের সাথে অন্তর্ভূক্ত করতে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন ‘জেএসএস’ এবং প্রসীত খীসার ইউপিডিএফ ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করা হয়। বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অনতিবিলম্বে চুক্তির যথাযথ ও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে ভূমি কমিশনকে কার্যকর করা, পুলিশ, ভূমি ও বন সংরক্ষণ সহ গুরুত্বপূর্ণ বিভাগসমূহ পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও জেলা পরিষদে হস্তান্তর এবং স্থায়ী বাসিন্দাদের নিয়ে ভোটার তালিকা প্রণয়ন করে জেলা পরিষদ ও আঞ্চলিক পরিষদের নির্বাচন দেয়াসহ ৭ দফা দাবি জানানো হয়েছে। এই অঞ্চলের সকল প্রকার সমস্যা সমাধানে সরকার উদ্যোগ নিলে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি “এমএন লারমার” সকল প্রকার সমর্থন থাকবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন বক্তারা।

এসময়, সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক বিমল কান্তি চাকমা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক প্রফুল্ল্য কুমার চাকমা, রাজনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক বিভু রঞ্জন চাকমা, সহ-সাধারণ সম্পাদক সুভাষ কান্তি চাকমা, যুব ও ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক সুদর্শন চাকমা, সদস্য দূর্গা রানী চাকমা এবং খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিন্দু কুমার চাকমা প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন। র‌্যালি ও আলোচনা সভায় বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত হাজারো নারী-পুরুষ এবং সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহন করেন।

আরো খবর

Leave a Reply

Close