বাংলাদেশ, রবিবার, ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং, ৩০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সারাদেশে চলছে নৌযান শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট

বেতন বৃদ্ধিসহ ১১ দফা দাবি আদায়ের জন্য শুক্রবার মধ্যরাত থেকে সারাদেশে চলছে নৌযান শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট।

শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন এ ধর্মঘট শুরু করে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সংগঠনের নেতারা লঞ্চ, কার্গো জাহাজ ও লাইটার জাহাজ চলাচল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন।

ধর্মঘটের আওতায় ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের পাশাপাশি চাঁদপুর, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর ও ঝালকাঠিসহ ৩৩ নৌপথে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। সেই সঙ্গে পায়রা ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে মালামাল খালাসে নিয়োজিত লাইটার জাহাজও ধর্মঘটের আওতায় রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

শ্রমিক ফেডারেশনের ১১ দফা দাবিগুলো হচ্ছে: বাল্কহেডসহ সব নৌযান ও নৌপথে চাঁদাবাজি, ডাকাতি বন্ধ করা, ২০১৬ সালে ঘোষিত গেজেট অনুযায়ী নৌযানের সর্বস্তরের শ্রমিকদের বেতন প্রদান, ভারতগামী শ্রমিকদের ল্যান্ডিং পাস ও মালিক কর্তৃক খাদ্য ভাতা প্রদান, সব নৌযান শ্রমিকদের সমুদ্র ও রাত্রিকালীন ভাতা নির্ধারণ, এনড্রোস, ইনচার্জ, টেকনিক্যাল ভাতা পুনর্নির্ধারণ, কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ, প্রত্যেক নৌশ্রমিককে মালিক কর্তৃক নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র ও সার্ভিস বুক প্রদান, নদীর নাব্যতা রক্ষা ও প্রয়োজনীয় মার্কা, বয়া ও বাতি স্থাপন, মাস্টার/ড্রাইভার পরীক্ষা, সনদ বিতরণ ও সনদ নবায়ন, বেআইনি নৌ চলাচল বন্ধ করা, নৌপরিবহন অধিদফতরে সব ধরনের অনিয়ম ও শ্রমিক হয়রানি বন্ধ এবং নৌযান শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

এসব দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শ্রমিকরা।

সংগঠনের সভাপতি শাহ আলম ভূঁইয়া বলেন, এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো ধর্মঘটে যাচ্ছে নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন। মালিকরা ইতিপূর্বে কিছু দাবি মেনে নিলেও অধিকাংশ দাবি এখনও পূরণ না করায় নৌযান শ্রমিকরা লাগাতার ধর্মঘট চালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

এদিকে দেশব্যাপী নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘটে খুলনাঞ্চলে নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে খুলনা ও মোংলা বন্দরে পণ্য ওঠানামার কাজ বন্ধ হয়ে গেছে।

অনির্দিষ্টকালের এ ধর্মঘটের ফলে খুলনার বিআইডব্লিউটিএ, ৪, ৫, ৬ ও ৭ নম্বর ঘাট এবং রুজভেল্ট জেটিতে অবস্থানরত কোনো জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করা হয়নি। এছাড়া খুলনা লঞ্চঘাট থেকে কোনো নৌযান ছেড়ে যায়নি বা আসেনি। এমনকি মোংলা বন্দর থেকে যশোরের নওয়াপাড়া পর্যন্ত কোথাও কোনো নৌযান চলছে না। ফলে এসব ঘাটে ছোট-বড় প্রায় সাত শতাধিক নৌযান নোঙ্গর ফেলে অবস্থান করছে পণ্য ওঠানামার জন্য।

খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, খুলনা ও যশোরের নওয়াপাড়ার কার্গো বার্জ থেকে পণ্য নেয়ার জন্য শত শত ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকলেও নৌযান শ্রমিকরা কাজ না করায় শিল্প নগরী খুলনা ও মোংলা বন্দরে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। ধর্মঘটের ফলে মাদার ভ্যাসেল থেকে পণ্য বন্দরের জেটিতে আনা নেওয়া এবং বন্দর থেকে নদী পথে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে পরিবহন বন্ধ রয়েছে। বিশেষ করে মংলা বন্দর থেকে সারাদেশে প্রধানত নদী পথে পণ্য পরিবহনের কারণে ধর্মঘটে বন্দরের কার্যক্রম স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের খুলনা জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বলেন, কেন্দ্রের ডাকা ধর্মঘট খুলনা ও মোংলায় সর্বাত্মকভাবে পালিত হচ্ছে। নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘট শুরু হওয়ায় শিল্পনগরী খুলনা ও মোংলা বন্দরে অবস্থানরত সব ধরনের দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের পণ্যবোঝাই-খালাস ও পরিবহন কাজ বন্ধ রয়েছে। এছাড়া খুলনা ও মোংলা বন্দরের সঙ্গে সারাদেশের নৌ যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

দেলোয়ার হোসেন বলেন, দাবি আদায়ের লক্ষ্যে খুলনার ঘাট এলাকায় মিছিল করেছেন শ্রমিকরা। ন্যায্য দাবি না মানা পর্যন্ত এ ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার শেখ ফখর উদ্দিন জানান, শনিবার সকাল ৮টার পর থেকে মংলা বন্দরের সকল প্রকার নৌ শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখেছে। লাইটারেজ, কার্গো, বার্জ, অয়েল ট্যাঙ্কার, কোস্টার থেকে শুরু করে সব ধরনের নৌযানের শ্রমিকরা একযোগে এই ধর্মঘট পালন করছে। ফলে বন্দরে জাহাজ থেকে পণ্য ওঠানামা এবং দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে নদীপথে চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

এদিকে নৌযান ধর্মঘটের ফলে খুলনা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরে অবস্থানরত সব দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের খালাস কাজ বন্ধ থাকায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

আরো খবর

Leave a Reply

Close