বাংলাদেশ, সোমবার, ৯ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং, ২৪শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

অনি‌র্দিষ্টকা‌লের জন্য ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মা‌লিক-শ্র‌মিকদের ধর্মঘট

অনি‌র্দিষ্টকা‌লের জন্য পণ্য প‌রিবহন ব‌ন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলা‌দেশ ট্রাক কাভার্ডভ্যান মা‌লিক-শ্র‌মিক ঐক্য প‌রিষদ। বুধবার (২০ নভেম্বর) সকাল ৬টা থে‌কে তারা সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ স্থগিত করে তা সংশোধনের দাবিতে এ ধর্মঘট করেন। এসময় তারা আর পণ্য পরিবহন করবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় কাভার্ডভ্যান ট্রাক মা‌লিক এসোসিয়েশনের তেজগাঁও কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

তাদের দাবি, নতুন আইন বাতিল করতে হবে এবং নতুন আইন সংশোধনে মালিক ও শ্রমিকদের প্রতিনিধিদের রাখতে হবে।

২০১৮ সংসদে নতুন সড়ক পরিবহন আইন পাস হলেও এ বছরের ১ নভেম্বর থেকে কার্যকরের ঘোষণা দিয়ে প্রজ্ঞাপন দেয় সরকার। ১৭দিন প্রচার প্রচারণার পর থেকে সোমবার প্রয়োগ শুরু করেছে পরিবহন নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিআরটিএ। রাজধানীর ছয় স্পটে আটটি আদালতের মাধ্যমে ক্রুটিপূর্ণ পরিবহনগুলোকে জরিমানা করা হয়। অভিযানের প্রথম দিনে জরিমানা করা হয় একলাখ ২১ হাজার নয়শ টাকা। আজও দ্বিতীয় দিনের মতো রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে চলছে অভিযান। অভিযানে যেসব যানবাহনের ফিটনেস, রুট পারর্মিট, ট্যাক্স টোকেন এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই তাদের জরিমানা করা হচ্ছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, বাংলা‌দেশ ট্রাক কাভার্ডভ্যান পণ্য পরিবহন মা‌লিক-শ্র‌মিক ঐক্য প‌রিষদের আহবায়ক রুস্তম আলী খান, সদস্য সচিব তাজুল ইসলাম, যুগ্ম আহবায়ক মুকবুল আহম্মেদ, যুগ্ম সদস্য সচিব তালুকদার মো. মনির।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সড়কে দুর্ঘটনা ও শৃঙ্খলা ফেরাতে বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ মোটরযান অধ্যাদেশ-১৯৮৩ এবং মোটরযান বিধিমালা-১৯৮৪ পরিবর্তন চায়। তবে এই বছরের ১লা নভেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ পরিবহন শিল্পকে ধ্বংসের একটি সুক্ষ নীল নকশা। পরিবহন সংশ্লিষ্ট বিশাল জনগোষ্টীকে বর্তমান সরকারের মুখোমুখি দাঁড় করানোর পাঁয়তারা। যার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি আমরা।

আরও বলা হয়, কোন মানুষ যেখানে ক্রটি মুক্ত নয় সেখানে যান্ত্রিক যানবাহনে ক্রটি থাকতে পারে। ক্রটিকে অপরাধ হিসেবে নিয়ে বড় শাস্তি বা জরিমানা মালিক-শ্রমিকরা মেনে নিতে পারে না। বর্তমানে দেশে যে পরিমাণ যানবাহন চলাচল করে সেখানে চালকের সংখ্যা অর্ধেক। নতুন আইনে দুর্ঘটনায় জামিন অযোগ্য, ফলে চালকের সংকট আরো তীব্র হবে। তাছাড়া লাইসেন্স না থাকলে অথবা ফিটনেস ঝামেলা থাকলে জরিমানা ২৫ হাজার করা হয়েছে। যা একজন চালককে দুই মাসের বেতন দিয়ে জরিমানা পরিশোধ করতে হবে। এই ধরণের জরিমানা খুবই অসামাঞ্জস্য। তাছাড়া ফিটসেন পরীক্ষা করাতে বিআরটিএতে সময় লাগে ১৫ দিন। তাই মেয়াদউত্তীর্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মামলা করা বন্ধ করতে হবে।

এছাড়া রুট পারমিট, ট্যাক্স টোকেনের জরিমানা সহনশীল পর্যায় রাখারও দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।

তাদের নয়টি দাবি হলোঃ-

১। সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ স্থগিত করে মালিক শ্রমিকদের আয়ের সাথে সামাঞ্জস্যপূর্ণ জরিমানার বিধান ও দণ্ড উল্লেখ পূর্বক সংশোধন করে একটি যুগোপযোগী বাস্তবসম্মত ও বিজ্ঞান ভিত্তিক সঠিক আইন প্রণয়ন করতে হবে।

২। বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা কমিটি
সড়ক পরিবহন আইনশৃঙ্খলা কমিটি এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় কর্তক গঠিত যেকোন পণ্য পরিবহন সংশ্লিষ্ট কমিটিতে প্রতিনিধি হিসেবে অংশ গ্রহনের জন্য অন্তর্ভূক্ত করতে হবে।

৩। সড়ক দুর্ঘটনায় চালককে এককভাবে দায়ী করা যাবে না। সড়ক দুর্ঘটনাজনিত কোন মামলায় চালক আসামী হলে তা অবশ্যই জামিনযোগ্য ধারার হতে হবে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত দোষী নির্নয় করতে মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধিগনকে সংসুক্জ করে তদন্ত কমিটি গঠন পূর্বক সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনার মানলায় কোন গাড়ির
মালিককে গ্রেফতার বা হয়রানি করা যাবে না।

৪। বিআরটিএ কর্তৃক রেজিষ্ট্রেশনপ্রাপ্ত নভেম্বর-২০১৯ এর আগে পর্যন্ত যে সকল পণ্য পরিবহন গাড়ি রপ্তানীযােগ্য পণ্য পরিবহনের সুবিধার্থে দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, উচ্চতা নির্ধারন পূর্বক তৈরি করা হয়েছে সে সকল গাড়ির মডেল থাকাকালীন অবস্থায় চলাচলের অনুমতি দিতে হবে।

৫। সড়ক-মহাসড়ক ও হাইওয়েতে গাড়ির কাগজপত্র চেকিং এর নামে পুলিশি হয়রানি বন্ধ করতে হবে। সকল জেলী টার্মিনাল ও ট্রাক স্ট্যান্ড অথবা লোডিং পয়েন্টে গাড়ির কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স চেকিং করতে হবে। বিআরটিএ কর্তৃক গাড়ির কাগজপত্র হালনাগাদ ও ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকলে অযথা বিভিন্ন অযুহাতে পুলিশ কর্তৃক মামলা করা যাবে না।

৬। সহজ শর্তে স্বল্প সময়ের মধ্যে ড্রাইভিং লাইসেন্স দিতে হবে। যে সকল চালক যে সমস্ত গাড়ি চালনায় পারদর্শী সে সকল চালককে সে রকম লাইসেন্স প্রদান করতে হবে। বর্তমানে হালকা পেশাদার লাইসেন্স দিয়ে ভারী যানবাহন চালানোর অনুমতি দিতে হবে। জরিমানা মওকুফ করে গাড়ির কাগজপত্র হালনাগাদ করার নুযনতম ৬ মাস সময় দিতে হবে। বিগত পণ্য পরিবহন আন্দোলনে ও ধর্মঘটে যে সকল মালিক-শ্রমিকের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।

৭। সকল জেলা শহর ও হাইওয়ে মহাসড়কের পাশে, সিটি কর্পোরেশনের, পৌরসভার ও গুরুত্পূর্ণ ব্যবসায়ীক স্থানে পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধাসহ টার্মিনাল নির্মাণ করতে হবে। টার্মিনাল নির্মাণের পূর্বে রং পার্কিংয়ের মামলা দেয়া বা গাড়ি রেকারিং করা যাবে না।

৮। সমগ্র বাংলাদেশে একই নিয়মে একই ওজনে ওভারলোডিং নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, মোটরযানের শ্রেণি বিন্যাস অনুযায়ীএকটি বাস্তবসম্মত বোঝাইকৃত ওজন এর হার নির্দিষ্ট করে ওভারলোডিং সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হবে।

৯। সড়ক-মহাসড়কে ৩০ মিটারের মধ্য কোন স্থাপনা থাকা যাবে না। প্রতি ১০০ কিলোমিটার পর পর পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা পূর্ণ বিশ্রামাগার সহ গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখতে হবে। জনসাধারণের চলাচলের সুবিধার্থে পর্যাপ্ত পরিমান ফুটপাত, ওভারবীজ, আন্ডারপাস, জেব্রাক্রসিং ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

আরো খবর

Leave a Reply

Close