বাংলাদেশ, সোমবার, ৯ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং, ২৪শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ইতিহাসের খসড়ার ৫ম বর্ষপুর্তি উপলক্ষে সেমিনারে প্রফেসর ড.অনুপম সেন

ইতিহাসের খসড়া তরুণ প্রজন্মকে বাংলাদেশের সঠিক ইতিহাস চর্চায় উদ্বুদ্ধ করবে

 

ইতিহাস- ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাময়িকী ‘ইতিহাসের খসড়া প্রকাশনার ৫ম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে “ইতিহাস চর্চার অনন্য ক্ষেত্র ইতিহাসের খসড়া” শীর্ষক এক আলোচনা সভা গতকাল ৩ অক্টোবর বিকেল ৫টায় বিশিষ্ট ভাষাবিজ্ঞানী ও লেখক ড.মাহবুবুল হকের সভাপতিত্বে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড.অনুপম সেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আবদুস সালাম, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের উপ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, বিশেষ আলোচক হিসেবে ইতিহাসের খসড়ার মূল্যায়ন করে বক্তব্য রাখেন প্রাবন্ধিক অধ্যাপিকা ফেরদৌস আরা আলীম, দৈনিক প্রথম আলোর বার্তা সম্পাদক কবি ওমর কায়সার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক এবিএম আবু নোমান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইতিহাসের খসড়ার সম্পাদক সাংবাদিক মুহাম্মদ শামসুল হক। কবি মোজাম্মেল মাহমুদের পরিচালনায় এতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক শহীদজায়া মুশতারি শফি, সৃজনশীল প্রকাশনা পরিষদের সভাপতি শাহ আলম নিপু, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড চট্টগ্রামের উপ সচিব মোঃ বেলাল হোসেন।

এতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপিকা সালেহা বেগম, খেলাঘর সংগঠক অমল কান্তি নাথ, প্রফেসর ডাঃ মাহমুদ এ চৌধুরী রাজু, সাংবাদিক বালাগত উল্লাহ, অধ্যক্ষ মো: আবু তৈয়ব, সাংবাদিক আসিফ সিরাজ, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের শিক্ষা ও মানবকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক বেদারুল আলম বেদার, অধ্যাপক অভিজিৎ বড়ুয়া মানুসহ আরো অনেকে। সভায় ড.অনুপম সেন ইতিহাসের খসড়াকে একটি অসাধরণ প্রকাশনা উল্লেখ করে বলেন, সম্পাদক শামসুল হক মুক্তিযুদ্ধসহ ইতিহাসের এমনসব বিষয় তুলে ধরছেন যা বাঙালি জাতির চেতনাকে জাগ্রত করার জন্য খুবই গুরুত্বপুর্ণ। তিনি নতুন প্রজন্মকে অধঃপতন থেকে রক্ষার লক্ষ্যে মহত মনিষীদের আত্নত্যাগের ইতিহাস আয়ত্ত বেশি করে তুলে ধরার আহবান জানান। প্রধান অতিথি আরো বলেন বিশ্বের ১০০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বাংলাদেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয় স্হান না পাওয়া সত্যি খুব দুর্ভাগ্যজনক। বর্তমানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নতির বছরের ১মদিনে বিনামুল্যে ৩৫ কোটি বই দিচ্ছে। তারপরেও ৫ বছরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বাংলা রপ্ত করতে পারছেনা। তিনি বলেন ইতিহাসের খসড়া সম্পাদক শামসুল হক বহুদিন ধরে একটি অসাধ্য কাজ করে যাচ্ছেন। এ রকম কঠিন কাজ একসময় আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ করে আমাদের বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন। তিনি বলেন বাংলা সাহিত্যের সমৃদ্ধিতে মুসলাম কবি সাহিত্যিকের অবদান উল্লেখযোগ্য। মানুষের মধ্যে মনুষ্যত্ব সৃষ্টি করাই সত্যি কঠিন কাজ। তিনি বলেন যে মহান নেতা বাংলাদেশ সৃষ্টি করেছেন। দীর্ঘ ১৩ বছর জেল জুলুমের ত্যাগ স্বীকার করেছেন সেই মহান নেতা বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে সেদিন ঘাতকরা স্বপরিবারে হত্যা করে বাঙালীর ইতিহাসকে কলঙ্খিত করেছেন। বঙ্গবন্ধুকে যারা হত্যা করেছে তারা মানুষ হতে পারেনা। তিনি বলেন মানুষ এখনো তার মনুষ্যত্বকে সর্বত্র অর্জন করতে পারেনি। ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু বাঙালীকে একটি অসাধরণ সংবিধান দিয়েছিলেন। যে সংবিধানের মুল কথা ছিল সকল ক্ষমতার উৎস হল জনগণ। তিনি বলেন আমাদের যেমন গৌরবের ইতিহাস আছে ঠিক তেমনি আছে কলংক আর অধঃপতনের ইতিহাস। তাই আমাদের সকলকে ইতিহাসের থেকে সত্যময় শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। এদেশের মুক্তিযুদ্ধ, আত্মত্যাগের ইতিহাস জানার চেষ্ঠা করতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে ইতিহাস সচেতনায় মনোযোগী করতে উদ্ধুদ্ধ করতে হবে। সভার সভাপতি ড.মাহবুবুল হক বলেন ইতিহাসের খসড়া সম্পাদনা ও প্রকাশনা করে শামসুল জক আমাদের ইতিহাস সচেতন করেছেন। আমাদের জাতীয় ইতিহাসের উপাদানগুলি সন্ধান, সংগ্রহ ও সংকলন করে জাতীয় কর্তব্য পালন করেছেন। ইতিহাসের বিকৃতির স্বরুপ উম্মোচন করে নতুন প্রজন্মের সামনে ইতিহাসের সত্যকে তুলে ধরেছেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সঞ্জীবিত করে অসামান্য অবদান রেখেছেন তিনি। ইতিহাসের এই চর্চা নতুন প্রজন্মকে পথ দেখাবে।

আরো খবর

Leave a Reply

Close