বাংলাদেশ, বৃহস্পতিবার, ৫ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং, ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বাজার ব্যবস্হাপনায় আমাদের ঘাটতি অতঃপর

  জিল্লুর রহমান
  গত ৭ /৫ বছর বিশ্বের বড় সাল্পাই চেইন টেকনলজি কোম্পানীর দেশীয় প্রতিনিধি হবার সুবাধে সাল্পাই চেইন ম্যানেজম্যান্ট এবং সাপ্লাই চেইন ফাইন্যান্স নিয়ে কাজ করার সুযোগ হয়েছে যেখানে ক্রেতা-বিক্রেতা -উৎপাদক- ডেলিভারি -অর্থ- গুদামজাত এবং পরিবহন ব্যবস্হাপনা নিয়ে সমাধান এবং গবেষনা করাই আমার কাজ । এই অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে পারি সপ্লাইচেইন ব্যাবস্হপনা সঠিক না হলে পন্যের বাজার ঘাটতি/উদ্ধৃতি . মুল্যের উর্দ্ধ/নিম্ম গতি , ক্যাশপ্লো সহ নানা রকম জটিলতার সৃষ্টি হয়ে বাজার যেমন অস্হির হয় তেমনি ক্রেতার ভোগান্তি হয় যারই প্রেক্ষিতে ক্ষুদ্র বা মাঝারি বিনোয়োগকারীরা দেউলিয়াও হয়ে পড়ে এবং একশ্রেনীর অসাধুদের হাতে বাজারের নিয়ন্ত্রন যায় যাতে ভোগান্ত পোহাতে হয় উৎপাদক -বিক্রয়ক- ক্রেতা এবং কনজুমারদের ।
পৃথিবীর সব দেশে খাদ্য সহ সকল নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী এবং লাইফ স্টাইল পণ্যের জন্য সাপ্লাই চেইন ব্যবস্হাপনা ইনভেষ্টরা মেইনটেইন করেন যার জন্য সরকারকে একটা উচ্চ পর্যায়ের বোর্ড থাকে যারা অর্থ-বাণিজ্য-খাদ্য-স্বরাষ্ট -আইন মন্ত্রানালয়ের সমন্বয়ে কেন্দ্রীয় এবং পাবলিক প্রতিনিধিদেরও রাখা হয় যারা মুলত ২/৫ বছরের প্রত্যেক পণ্যের বাজার ব্যবস্হাপনা/ আমদানী/রপ্তানী এবং উৎপাদন নিয়ে গবেষনা , মনিটরিং এবং সমাধান দিয়ে থাকেন যা আমাদের দেশে অনেক আগেই করা সম্ভব ছিল । আমরা নামে অনেক কিছুই করি কিন্ত আমাদের যারা জনবল আছে তারা বড় ডিগ্রী বা ক্যাডার হয়ে বড় বড় আমলা হয়ে যে যার চেয়ারে বসে আখের ঘুছানোর কাজে ব্যস্ত থাকেন আর দিন শেষে সরকার /অমুক /তমুক বা এটা ওটা এমন ধরনের দায়সারা অজুহাত দিয়ে সরকার এবং জনগনের টাকায় বিলাসী জীবন যাপন করেন । তাদের যেমন সমস্যা সমাধানের উদ্দ্যোগ নেই তেমনি দেশের প্রতি কোন কমিটমেন্টও নেই । সাপ্লাই চেইন ব্যবস্হাপনা গ্রামীন কৃষক থেকে  ইন্ডাষ্ট্রিয়ালিষ্ট -সাপ্লাইয়ার – আর্থিক প্রতিষ্ঠান -পরিবেশক -বিক্রেতা পর্যায়ে যথাযথ প্রয়োগ না হলে ৩০০/৪০০ (কেজি ২০/৩০) টাকার পেয়াজ যেমন ১৫০০ (কেজি ২৫০) টাকায় কিনা লাগে তেমনি ৫/৮ টাকার সবজি ৬০/৮০ টাকায় কিনতে হয় আর এর মধ্যে ভেজাল , সিন্ডিকেট সহ নানা মাফিয়াদের আসা যাওয়াও হয় । আমরা ফিগারে ধনী বলছি কিন্ত গঠনে কি ধনী ? পরিবর্তন এখনি না এলে ভবিষৎতে দারিদ্রাতা / বেকারত্ব এবং অর্থনৈতিক মন্দা , টাকার অবমুল্যায়ন সহ নানা ধরনের অসংগতি পরিলক্ষিত হবে আর কিছু লোকের কাছে টাকা চলে যাবে যার নিয়ন্ত্রন হয়ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিংবা অন্য কারও থাকবে না ।

আরো খবর

Leave a Reply

Close