সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২১ ২:৫৮ পূর্বাহ্ণ

যে মুখে মা, সে মুখে মাদকে না

যে মুখে মা বলি, সে মুখে মাদকে না বলার আহবানের মধ্য দিয়ে স্মাইল প্রকল্প কারিতাস চট্টগ্রাম অঞ্চলের উদ্যোগে আয়োজিত মাদক প্রতিরোধে সরকারি ও সমমনা প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধন করেন কর্মশালা প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার  বিজয় বসাক বিপিএম (বার)।বিজয় বসাক  বলেন, যথাযথ পারিবারিক গঠনই পারে যুবসমাজকে মাদক মুক্ত রাখতে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এক অন্যের পরিপূরক। পুনর্বাসনের সহায়তা পেয়েও যারা আবারো মাদকে ফিরে যাবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর মাদক নির্মূল পরিবারের পাশাপাশি সমাজেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

 

 

প্যানেল আলোচকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আফজাল হোসেন, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মজিবুর রহমান পাটোয়ারী, সেবার আলোর পথ রিহ্যাব সেন্টারের পরিচালক মোহাম্মদ তানভীর তারেক। প্রত্যেকের যার যার অবস্থান থেকে মাদক প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে। প্রতিরোধ সম্ভব না হলে প্রতিবাদ করতে হবে, তাও সম্ভব না হলে মাদক বিক্রেতােেদর ঘৃণার মাধ্যমে সমাজ থেকে বয়কট করতে হবে। শুধু প্রশাসন নয় সমাজের সকল স্তরের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গকে মাদক প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে। মাদকাসক্তি একটা রোগ। এটি ক্রনিক ডিজিস এর ন্যায়। মাদকাসক্তদের ঘৃণা না করে দরকার সুচিকিৎসা। তা শুরু হবে পরিবার হতেই। পুর্নবাসনই হলো মাদক থেকে ফিরে আসার একমাত্র পথ। অদ্য নভেম্বর ১৩, ২০১৯ খ্রিঃ তারিখে কর্মসূচি কর্মকর্তা মোহাম্মদ এমদাদুল ইসলাম চৌধুরীর সঞ্চালনায় স্মাইল প্রকল্প কারিতাস চট্টগ্রাম অঞ্চল কর্তৃক আয়োজিত এ কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন কারিতাস চট্টগ্রাম অঞ্চলের সিনিয়র একাউন্টস এন্ড এডমিন অফিসার রিমি সুভাস দাশ। তিনি উপস্থিত অতিথিবর্গকে শুভেচ্ছ জানান এবং কর্মশালার উদ্দেশ্য বর্ণনা করেন। মূলত মাদক প্রতিরোধের সরকারি সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর, সেবাদানকারী বিভিন্ন সমমনা প্রতিষ্ঠান এবং মিডিয়া পর্যায়ে সমন্বয়ের উদ্দেশ্যই এ কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ তৈয়ব আলী, বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়, চট্টগ্রামের সহকারি পরিচালক জনাব মোহাম্মদ শাহী নেওয়াজ, ব্র্যাক প্রতিনিধি মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, ব্রাস্ট প্রতিনিধি লাকি বড়ুয়া, আশার আলো সোসাইটি প্রতিনিধি জনাব হাফিজ আহমেদ, সূর্যের হাসি প্রতিনিধি শাহীন সুলতানা, ইউসেপ প্রতিনিধি অঞ্জন চক্রবর্তীসহ বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধি, স্মাইল প্রকল্পের ইয়ুথ, কমিউনিটি টাস্ক ফোর্স, নেটওয়ার্কিং ফোরাম নেতৃবৃন্দ, টিচার্স ফোরাম এবং বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিসহ মোট ৮১ জন।

উপস্থিত অতিথিবৃন্দ মাদক প্রতিরোধে যার যার অবস্থান থেকে সচেতন হওয়ার এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সরকারি- বেসরকরি যৌথ পদক্ষেপ গ্রহণের উপর গুরুত্বরোপ করেন। কর্মশালার শেষে মাদকমুক্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা ১১ জন নারী-পুরুষকে (পুরুষ-৬, নারী-৫) সেলাই মেশিন, ক্ষুদ্র ব্যবসার উপকরণ, ভ্যান গাড়ি, রিক্সা’সহ বিভিন্ন উপকরণ প্রদান করা হয়। পাশাপাশি মাদক নির্মূলে সচেতনতামূলক কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ স্মাইল প্রকল্পের দুটি ড্রপ ইন সেন্টারের নেটওয়ার্কিং ও ইয়ুথ ফোরাম প্রতিনিধিবৃন্দকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

শুধু অর্থের পিছনে না ছুটে সন্তানদের যথাযথ যত্নের মাধামে বড় করতে হবে। শুধু শাসন না করে সন্তানদের ভাল কাজে উৎসাহ দিতে হবে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং স্মাইল প্রকল্প কারিতাস চট্টগ্রাম অঞ্চলের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত চট্টগ্রামে মাদকের বিস্তার রোধে পরিবারের ভূমিকা শীর্ষক অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ অভিমত তুলে ধরেন । মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মেট্রো উপ-অঞ্চল কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন কারিতাস চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের কর্মসূচি কর্মকর্তা মোহাম্মদ এমদাদুল ইসলাম চৌধুরী।

 

 

 

 

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply