বাংলাদেশ, সোমবার, ৯ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং, ২৪শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ঠাণ্ডা মিয়ার গরম কথা (২২০) মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমীপে

মাননীয়,

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গকন্যা শেখ হাসিনা সমীপে,

শ্রদ্ধেয় হাসিনা আপারে,

গরম গরম কথার শুরুতে আমার লাখ কোটি সালাম জানিবেন।আশা করি, আল্লাহ মালিকের অপার মহিমায় ভালো থাকিয়া ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানে ভিশন ও মিশন কায়েমের লক্ষ্যে নানান ফর্মূলা তৈরী ও বাস্তবায়ন করিয়া মহা- সুখেই আছেন। আমিও গ্রাম বাংলার এক মফস্বল শহরে থাকিয়া দেশের ভবিষ্যতের কথা ভাবিয়া ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্ছার মতো খাইয়া না খাইয়া বাঁচিয়া আছি। গেল বারে ডাক ও টেলি যোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার সমীপে ঠাণ্ডা মিয়ার গরম কথা  লিখিবার সময় এইবার আপনার সমীপে লিখিব বলিয়াছিলাম, এইজন্য লিখিতেছি বলিয়া রাগ করিবেন না বরং শত ব্যস্ততার মধ্যেও গরম কথাটুকু পড়িয়া দেখিবেন ও যাহা প্রয়োজন তাহা করিবেন আর ভুল হইলে নিজ গুনে মাফও করিয়া দিবেন।ইতিপূর্বে আপনার সমীপে যতবার লিখিয়াছি ততবারই আপনি প্রয়োজনীয় কাজ করিয়াছেন বলিয়া শুনিয়াছি।

আপারে,

এশিয়ার লৌহ মানবখ্যাত বাংলাদেশের জাতীর জনক স্বাধীনতার স্হপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় মেয়ে ও বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী আপনি।গোটা দুনিয়ায় আপনার তুলনা শুধু আপনিই। বিশ্বের নারী নেতৃত্ব ও ক্ষমতাধর ব্যাক্তিদের মধ্যে শীর্ষ পর্যায়ের অন্যতম আপনি।দক্ষিন এশিয়ার অন্যতম নেত্রী হিসাবে গোটা দুনিয়ার মানুষ আপনাকে ভাবিয়া থাকেন।আপনার নেতৃত্ব ও আত্নীয়তা যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত বিস্তৃত।সজীব ওয়াজেদ জয় আমেরিকা থেকে বিয়ে করিয়াছেন এবং আপনার বোন বঙ্গবন্ধুর আরেক কন্যা শেখ রেহেনার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিকীতো লণ্ডণের নির্বাচিত পার্লামেণ্ট মেম্বার।এইসব তো আপনার বুদ্ধি ও কৌশলে হইয়াছে।আজ শেখ মুজিব বাঁচিয়া থাকিলে সত্যিই তিনি কিভাবে দুনিয়াবাসীকে কী উপহার দিতেন তাহা দেখিতাম।রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলিতেছে, হয়ত তিনি বাঁচিয়া থাকিলে গোটা দুনিয়ায় তিনি একজন দিক নির্দেশক হিসাবে কাজ করিতেন।যাক, সে সব কথা।

আপারে,

গত তিন মাস ধরিয়া আপনার বক্তব্য বিবৃতি সত্যিই আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের বিবেক – মননে আকর্ষণ করিতেছে।ত্যাগী, নির্যাতিত ও অবহেলিত আওয়ামী লীগের নেতা কর্মী উজ্জিবিত হইতেছে। দূর্নীতি, ক্যাসিনো ও মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করা যথাযথ হইয়াছে বলিয়া দেশপ্রেমিক মানুষের বলিতেছে।দলে সাংগঠনিক কমিটিতে ত্যাগীদের স্হান  দিবার আহবান দেশ জুড়িয়া প্রশংসনীয় হইলেও এইটিকে লইয়া ত্যাগী নেতা কর্মীরাই সমালোচনা করিতেছে।তাহারা বলিতেছে ত্যাগী ও অরজিনাল নেতাকর্মীদের  সাংগঠনিক কমিটিতে ইন করিবার কোন ফর্মূলা প্রধানমন্ত্রী দেন নাই । ফলে অবহেলিত ত্যাগী, অরজিনাল ও নির্যাতিত নেতা-কর্মীরা সাংগঠনিক কমিটিতে ঢুকিবার কোন সুযোগ পাইতেছে। অবহেলিত, ত্যাগী, অরজিনাল ও নির্যাতিত নেতা-কর্মীরা যাহাতে সাংগঠনিক কমিটিতে সহজ ঢুকিতে পারে সেইজন্য ঠাণ্ডা মিয়া দলের নেতা – কর্মী,  রাজনৈতিক সচেতন মানুষ, দেশ প্রেমিক জনতা, রাজনৈতিক গবেষক ও মুক্ত চিন্তার মানুষের সাথে কথা বলিয়া একটি ফর্মূলা তৈরী করিয়াছে । এই ফর্মূলাটি সদয় বিবেচনা করিয়া নির্বাহী নির্দেশ প্রদান করিবার জন্য আপনার কাছে করুণ আবদারও করিয়াছেন।  ফর্মূলাটি হইল প্রতিটি ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা/ থানা, জেলা কিংবা যে কোন সাংগঠনিক কমিটিতে আপনার সিলেক্ট করা ৫/১০জন কর্মী ইন করাইবেন।এই ৫/১০ ব্যাক্তি হইবেন শিক্ষিত ও ছাত্র জীবনে ছাত্র রাজনীতি করিয়াছেন বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করিয়াছেন, তিলে তিলে ক্লীন ইমেজ গড়িয়া এখনো মুজিব আদর্শ ধারণ করিয়া নৌকার কাণ্ডারী হিসাবে এলাকাতে গ্রহণযোগ্যতা আছে।আপনার বিশ্বস্ত গোয়েন্দা সংস্হা কিংবা নিজস্ব কৌশলে এই ৫/১০ জন লোক কমিটিতে ইন করান।দেখিবেন হাইব্লীড, মুখোসধারী, সুবিধাবাদী ও দলের ক্ষতিকারকেরা ধরা পড়িয়া যাবে।   

আপারে,

দেশজুড়িয়া গুজবে গুজবে দেশটার মহা ক্ষতি হইতেছে।সম্প্রতি লবণ গুজব এর আগে পদ্মা সেতু ও বঙ্গবন্ধু ট্যানেলের জন্য গলা কাটা, কল্লা লাগা গুজব, ছেলে ধরা  সত্যিই গোটা দেশে একটা আতংক ছড়িয়া পড়িয়াছে।কিন্তু পিয়াঁজের মূল্যবৃদ্ধি এটাতো গুজব নয়।পেয়াজের এই সংকট তৈরীর জন্য একটি কুচক্রী মহল কাজ করিতেছে বলিয়া দেশপ্রেমিক লোকেরা ধারণা করিতেছে। পিয়াজ সংকটে পিয়াজ বিক্রির কৌশল দেখিয়া মনে হইতেছে টিসিবিতেও ওই চক্রের লোকজন জড়িত আছে।১ কেজি পেয়াঁজের জন্য এক ব্যাক্তি ২/৩/৪ ঘণ্টা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াইয়া থাকা এটা কেমন কথা।পিয়াঁজ ওজন করিবার ফাঁদে সময় ক্ষেপন করিয়া থাকে টিসিবির লোকেরা।আগেতো ওজন করিয়া রাখিলে লোকজনকে একটুও লাইনে দাঁড়িয়া থাকিবার দরকার নাই।এই কৌশলটুকুও প্রধান মন্ত্রী হইয়া শিখাইয়া দিতে হয় এইসব জনবলের আর কী দরকার ? কোথায় শুভাংকরের ফাঁদ রহিয়াছে তাহা খুঁজিয়া বাহির করিয়া টাইট করিয়া দিন।শক্ত হোন, নইলে দেশটারে লুটপাঠের স্বর্গ রাজ্য বানানোর লোকের অভাব নাই।সাধারণ জনগণ আপনার সাথে আছে তাহাদের জন্য আপনি কাজ করুন।অনেক কথা বলিবার আছে।আজ আর না।আগামীতে সময় ও সুযোগ পাইলে আবার বলিব।

আপনার সুস্বাস্হ্য ও মঙ্গল কামনায়।ইতি আপনার গ্রামবাংলার অখ্যাত ঠান্ডা মিয়া

গ্রন্হনা : ম. আ.  হ

তারিখ ০১- ১২- ২০১৯

আগামী সংখ্যায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিষ্টার মহিবুল হাসান নওফেল সমীপে ঠান্ডা মিয়ার গরম কথা ( ২২১) সম্প্রচার করা হইবে।

 

 

 

 

 

 

 

আরো খবর

Leave a Reply

Close