বাংলাদেশ, শনিবার, ১৫ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং, ১লা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

কানেকটিকাটে ইমামকে লাঞ্ছিতের ঘটনায় মাফ চাইলেন কোষাধ্যক্ষ

বাংলা প্রেস, নিউ ইয়র্ক

যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের ম্যানচেস্টারে বায়তুল মামুর মসজিদের বাংলাদেশি ইমামকে লাঞ্ছিত ও অপদস্থের ঘটনায় মাফ চেয়েছেন মসজিদ কমিটির  কোষাধ্যক্ষ তারেক আম্বিয়া। স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার রাতে মসজিদে এশার নামাজের সময় তারেক আম্বিয়া ইমাম নিজের দোষ স্বীকার করে মাওলানা জোবায়ের আহমেদের কাছে বেয়াদবির জন্য ক্ষমা চাইলে তাকে ক্ষমা করে দেন ইমাম। ফলে শুক্রবার জু’মার নামাজ পড়াতে মসজিদে ফিরে আসন ইমাম। গত ৩ সপ্তাহ  আগে মসজিদের ইমামকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় নামাজ পড়ানো ও মাদ্রাসা পরিচালনা থেকে বিরত থাকেন ইমাম। এ ঘটনাটি ভিন্নরুপে প্রবাহিত হবার আগেই ক্ষমা চাওয়ার মধ্য দিয়ে বিষয়টির মিমাংসা করা হয়।এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা বাংলা প্রেস।
জানা যায়, গত ১২ অক্টোবর শনিবার সকাল ১০টার দিকে বায়তুল মামুর মসজিদের পেশ ইমাম ও মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা জোবায়ের আহমেদ প্রতি সপ্তাহের ন্যায় মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে ক্লাশে বসেছিলেন। মাদ্রাসার নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাসে আসার কথা থাকলেও প্রায় ৫/১০ মিনিট বিলম্বে নিজ সন্তানকে নিয়ে আসেন মসজিদ কমিটির কোষাধ্যক্ষ তারেক আম্বিয়া। তিনি দরজার কড়া নাড়তে থাকেন। ভেতর ক্লাশ চলছিল তাই কড়ার শব্দ বুঝতে পারেননি ইমাম জোবায়ের আহমেদ।দরজা খুলতে দেরি হওয়ায় ইমামের উপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন তারেক আম্বিয়া। অকথ্য ভাষায় গালাগালি করতে থাকেন ইমামকে।ইমাম তাকে ভদ্রভাবে কথার বলার অনুরোধ করলে তিনি আরো ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এক পর্যায়ে তারেক ইমামকে পশুর সঙ্গে তুলনা করেন। এর কারণে ইমাম জোবায়ের আহমেদ চরম লাঞ্ছিতবোধ করেন।মনকষ্ট নিয়ে তিনি নিজ বাসায় ফিরে যান। ওইদিন থেকে তিনি আর মসজিদে আসেননি। মসজিদ কমিটির সকলেই এ ঘটনাটি জানলেও মিমাংসার বদলে  ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।। অন্যদিকে ইমামের সাথে গোপনেও বিষয়টি মিমাংসার চেষ্টা চলে।কিন্ত ইমাম জোবায়ের আহমেদ সাফ বলে দিয়েছেন অভিযুক্ত ব্যক্তি সরাসরি তার কাছে গিয়ে ক্ষমা চাইতে হবে। ইমামের শর্তানুযায়ী গত বৃহস্পতিবার রাতে মসজিদে এশার নামাজের সময় কোষাধ্যক্ষ তারেক আম্বিয়া ইমাম মাওলানা জোবায়ের আহমেদের ম্যানচেস্টারের বাসায় গিয়ে অনাকাংখিত বেয়াদবি জন্য ক্ষমা চাইলে তাকে ক্ষমা করে দেন ইমাম। এ সময় বেশ কিছু মুসল্লী উপস্থিত ছিলেন।
পরদিন শুক্রবার জু’মার নামাজ পড়াতে মসজিদে ফিরে আসন ইমাম। তিনি তাঁর খুতবার শুরুতেই অর্থ ও ক্ষমতার দম্ভ সংক্রান্ত খুতবা পেশ করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষনা করার কথা জানান মুসল্লীদের। ইমামকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় মুসল্লীরা প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে বান প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না। তবে অধিকাংশ মুসলীরাই এ ধরনের জঘন্য অপরাধের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনাসহ  মসজিদ কমিটির কোষাধ্যক্ষ পদ থেকে তারেক আম্বিয়াকে বহিস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে ইমাম মাওলানা জোবায়ের আহমেদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ঘটনাটি অনেকেই জানেন। এ বিষয়ে আর কোন কথা বলতে চাইনা। কেউ যদি নিজের ভুল স্বীকার করে কেউ যদি ক্ষমা চান তাকে ক্ষমা করে দেওয়াটাই মহৎ কাজ। তাই আমি তাকে ক্ষমা করে দিয়েছি।
অভিযোগ রয়েছে প্রায় ১২ বছর আগে মসজিদ নির্মাণের প্রাক্কালে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হারুন আহমেদ ও জাহেদ চৌধুরী লিটন সক্রিয় ভুমিকা পালন করেছেন। এশিয়ান গ্রোসারী দোকানের বেসমেন্টে মুসলীদের জন্য নামাজের জায়গা তৈরি করে দিয়েছিলেন। কয়েক বছর আগে মসজিদের ভেতরেই হারুন আহমেদ কোষাধ্যক্ষ তারেক আম্বিয়ার দ্বারা লাঞ্ছিত করে তাকে মসজিদ থেকে বের করে দেওয়া হয়। তারেক আম্বিয়ার স্ত্রীর হাতে লাঞ্ছিত হয়েছিলেন বাক-এর সাবেক গণসংযোগ সম্পাদক ও সংস্কৃতসেবী রওনাক আফরোজ। এসব ঘটনায় হতবাক হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাংলাদেশিরা। একটি অডিট কমিটির দ্বারা মসজিদের হিসেব নিকাশের অডিট করা হলে ব্যাপক পরিমাণ অর্থের গড়মিল খুঁজে পান অডিট কমিটি। এ বিষয় নিয়ে কেউ কথা বললেই তাকেই মসজিদ কমিটি থেকে বের করে দেওয়া হয়। মসজিদে নেতৃত্বের আধিপত্য ও আঞ্চলিকতা পরিহার করে এসব ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে অবিলম্বে কোষাধ্যক্ষ তারেক আম্বিয়াকে বহিস্কারের দাবি জানিয়েছেন মুসল্লীসহ প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

আরো খবর

Leave a Reply