বাংলাদেশ, বৃহস্পতিবার, ১৪ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং, ২৯শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

লামায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজে বৈষম্যতা

লামা সংবাদদাতা : ১৬ অক্টোবর
লামা পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডে মধুঝিরি খাল পূন:খননোত্তর ভাঙ্গনরোধে প্রকল্প বাস্তবায়নে বৈষম্যতার পরিচয় দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কম বেশি ভাঙ্গন কবলিত ঝিরির পাড়ে বল্লি-বস্তা দিয়ে ভাঙ্গনরোধ করা হলেও এক কৃষকের বসত ঘর ঘেসে ভাঙ্গন রোধে চরম কার্পন্যতার পরিচয় দিয়েছে পাউবি। প্রধান সড়ক ঘেষে মধুঝিরি বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পাঠাগারের বিপরীত দিকে কৃষক সিরাজ মিয়ার চার দশকের বসতঘর পাশে দেড়শ্ ফুট ঝিরির পাড়, অনেক অনুরোধ করেও ভাঙ্গন রোধে কর্তৃপক্ষের মন গলানো যায়নি। ঝিরির ভাঙ্গন কবলিত বাড়ির আঙ্গিণাসহ বসতঘরটি দৃশ্যমান হওয়ায়, উন্নয়ন বৈষম্যের প্রশ্ন জাগে সবার।
লামা বাজার পয়েন্ট থেকে এঁেকবেকে দক্ষিণে প্রায় এক কিলোমিটার কলেজ গেইট নুনার ঝিরি পর্যন্ত মধুঝিরি-খালটি ৮০ লক্ষ টাকা ব্যায়ে, গেলো অর্থ বছরে পূন:খনন করেন পানি উন্নয়ন বোর্ড। কাজের শুরুতে স্থানীয়দের বাঁধা উপেক্ষা করে তড়িগড়ি করে খনন সম্পন্ন করে। এর মাস খানেক পরই প্রবল বৃষ্টিপাতে তীব্র স্রোতে দু’পাড়ের বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি, উঠান, ফসলী জমিসহ ফল-ফলাদির গাছ বিলীন হয়ে যায়।
ভাঙ্গন কবলিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠির দূর্দশা অনুধাবন করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ঝিরি ভাঙ্গনরোধে দ্রুত ব্যাবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। মন্ত্রীর নির্দেশানুযায়ী পাউবি বান্দরবান সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ পাঁচশ্ মিটার ঝিরির পাড় ভাঙ্গনরোধে ১৫ লক্ষ টাকা ব্যায় বরাদ্দ দেয়।
ঠিকাদারের লোকজন পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীদের নির্দেশিত ঝিরির কিনারায় বিভিন্ন পয়েন্টে বল্লি-বস্তা দিয়ে মোট ৫০০ মিটার ভাঙ্গন রোধ করে। ভাঙ্গন কবলিত প্রায়ই জায়গায় বল্লি-বস্তা দেয়া হলেও বেশি ভাঙ্গন কবলিত কৃষক সিরাজ মিয়ার বসত ঘরের পাশে আনুমানিক ১২০ ফুট পাড়ে কাজ করা হয়নি। ফলে এই কৃষকের বসতঘরটি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। প্রধান সড়ক ঘেষে চার দশকের পুরাতন বাড়িটি একতৃতীয়াংশ ঝিরিতে তলিয়ে গেছে। বাড়ির দক্ষিণ পাশে মধুঝিরি বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পাঠাগারের অংশে বস্তা-বল্লি দিয়ে শক্ত বাঁধা পড়ায়, পানির ¤্রােতে বিপরীত দিকের এই বাড়িটি বিলীন হওয়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে। সবখানে ভাঙ্গনরোধ করা হলেও চোখের সামনে ভাঙ্গন কবলিত বাড়িটি, উন্নয়ন সমতার প্রশ্নে, সবার কাছে দৃষ্টি কঠোর মনে হচ্ছে।
প্রান্তিক কৃষক রোগাক্রান্ত বৃদ্ধ সিরাজ মিয়া আক্ষেপ করে জানায়, বৈষম্যতার শিকার হয়ে তিনি সাংবিধানিক অধিকার বয়স্কভাতাও পাচ্ছেন না(!)। তিলে তিলে গড়া আশ্রয়স্থলটুকু ভেঙ্গে যাওয়ার দৃশ্য, সকাল-সন্ধ্যা কৃষক সিরাজ মিয়া চোখের জলে ভুলে থাকার চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রধান সড়ক ঘেষে এটি দৃশ্যমান হওয়ায় সচেতন বিবেককে বিস্ময়ে হতবাক করে।
লামা পৌর মেয়র জহিরুল ইসলাম জানান, বাঙ্গনরোধে তিনি ব্যাবস্থা নিবেন। কিন্তু পাউবি’র পক্ষ থেকে এর কোন সন্তোষজনক জবাব মিলছেনা।
বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ড-এর সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি নজরে আনা দরকার।

আরো খবর

Leave a Reply