বাংলাদেশ, বৃহস্পতিবার, ১৩ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং, ২৯শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ঘনিয়ে আসছে চসিক নির্বাচন মেয়র প্রার্থী হতে আগ্রহী একঝাঁক প্রবীণ ও নতুন মুখ

 এম. আলী হোসেন ও বিপ্লব কান্তি নাথ
  বর্তমান নির্বাচন কমিশনার ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের জন্য দফায় দফায় বৈঠক ও সিদ্ধান্তের পর অবশেষে আশার বাণী শুনিয়েছেন।  রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নির্বাচনে অংশ গ্রহণের সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌঁড়, প্রথম পর্যায়ে ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকা দুই সিটির নির্বাচন সম্পন্ন করতে আগ্রহ দেখিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার একটি সম্ভাব্য মন্তব্য প্রদান করেছে এবং এর পর ২০২০ সালে মার্চে চট্টগ্রাম ও ধাপে ধাপে মেয়াদ উত্তীর্ণ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন সম্পন্ন করবেন।
 প্রধান নির্বাচন কমিশানারের বক্তব্যের পর বেশ কয়েক মাস ধরে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে প্রার্থীতা নিয়ে নানা গুঞ্জন। দেশের প্রধান প্রধান দলগুলোর ব্যানারে নিজের ও দলীয় ছবিযুক্ত পোষ্টার দিয়ে নানাভাবে দলীয় প্রধানের দৃষ্টি আকর্ষনে মরিয়া হয়েছে উঠেছে রাজনৈতিক দলের নেতারা। অন্যান্য বার নির্বাচনের আগে বেশ কিছু রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে অনাগ্রহ দেখালেও এবারের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নিজেদের দলীয় প্রার্থী দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে চট্টগ্রামে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক নেতাদের মনোনয়ন দৌঁড়। সাধারণ মানুষের নির্বাচনী ভাবনা দেখাতে বেশ সভা-সমাবেশে সাধারণ মানুষের অধিকারের কথা বলে বক্তব্য দিয়ে আসছে চট্টগ্রামের একঝাঁক প্রবীণ ও নতুন মুখ। আগামী বছরের প্রথম দিকে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচন। আসন্ন এই নির্বাচন সামনে রেখে এখন থেকেই তোড়জোড় শুরু করেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। এবারও আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, সাবেক মেয়র এম. মঞ্জুরুল আলম, সাবেক সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুছ ছালাম, প্রয়াত সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন পত্নী হাসিনা মহিউদ্দিন, খোরশেদ আলম সুজন সহ অনেকে। ফলে নির্বাচনের বেশ আগেভাগেই মনোনয়ন নিয়ে আওয়ামী লীগে চলছে অন্যরকম এক যুদ্ধ।
 নগর আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান ও ত্যাগী অনেক নেতাদের ভাষ্যমতে, মহিউদ্দিনের মৃত্যুর পর দলে বেশ ভালো অবস্থান তৈরি করেছেন আ জ ম নাছির, দলে সার্বজনীন একটি ভাবমূর্তি তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। মতবিরোধের কথা ভুলে সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চাইছেন তিনি। বিরোধী পক্ষের অনেক নেতাকর্মীও তার এই আগ্রহকে ভালো চোখে দেখছেন। তবে সিটি নির্বাচনে যেহেতু বিএনপিসহ সকল রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্তে দলীয় প্রার্থী দেয়া হবে সেই দিক বিবেচনা করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে চসিক নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করবে কে ? অপরদিকে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। কেন্দ্রের এমন সিদ্ধান্তের পর নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর ও সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান ছাড়াও অনেকে দলীয় প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এ অবস্থায় বিএনপি থেকে নতুন প্রার্থী দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রিয় কমিটি। সেক্ষেত্রে নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর ও সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান আলোচনায় রয়েছেন। এ ছাড়া কারাগারে থাকা বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর নামও আলোচনায় আছে। তবে মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া নিয়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে। সূত্রমতে, গত জাতীয় নির্বাচনে কোতোয়ালী আসনে প্রার্থী ছিলেন ডা. শাহাদাত হোসেন। কিন্তু এ আসনে নির্বাচন করার কথা ছিল সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্করের। ওই সময়ে ডা. শাহাদাত তাঁকে বলেছিলেন, মেয়র পদে নির্বাচনে তাকে সুযোগ দেবেন। ডা. শাহাদাতের এমন আশ্বাসে আবুল হাশেম বক্কর ওই সময় কোতোয়ালী আসনে প্রার্থী হননি। এদিকে, জাতীয় পার্টি থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হতে মরিয়া সোলাইমান আলম শেঠ, তপন চক্রবর্তী, মোরশেদ মুরাদ ইব্রাহী, মেহজাবীন মোরশেদসহ অনেকে। জাতীয় পার্টি থেকে বেশ কয়েক বার অংশগ্রহণ করেও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদকে জাতীয় পার্টির হয়ে এই সিটিটি উপহার দিতে পারেননি সোলাইমান আলম শেঠ। অন্যদিকে ঐক্যফ্রন্ট ও অন্যান্য বামদলগুলোর মধ্যেও অনেকে প্রার্থী হতে আগ্রহ নিয়ে ঘুরছে চট্টগ্রামের শীর্ষ নেতাদের ধারে ধারে। সিটি নির্বাচনকে ঘিরে বেশ কিছু নেতা বেশ কিছু দিন ধরে দলীয় প্রধানের আশির্বাদ নিতে বিভিন্ন প্রিন্টি ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় সাক্ষাৎকার ও নেতাকর্মীদের নিয়ে ঘরোয়া বৈঠকের আয়োজন করে নির্বাচনের প্রচারণা শুরুর অপেক্ষায় রয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে এখন থেকেই তোড়জোড় শুরু করেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।এদিকে ইসলামী ফ্রণ্ট থেকে এম এ মতিন প্রার্থী হবেন বলে জানা গেছে।তিনি প্রার্থী হলে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী কৌশল পাল্টাতে হবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা ভাবছেন।

 

আরো খবর

Leave a Reply