বাংলাদেশ, রবিবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং, ২৮শে আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

কালুরঘাট সেতু নির্মাণে বিএনপির মিথ্যাচারের প্রতিবাদে ১৪ দলীয় নেতৃবৃন্দ

দক্ষিণ চট্টগ্রামের সংযোগস্থল নামে খ্যাত চট্টগ্রাম কালুরঘাট রেল সেতু দীর্ঘদিন যাবত অত্যন্ত জরার্র্জীন হয়ে যাওয়ায় নতুন সেতু নির্মাণের দাবীতে এলাকার সংসদ সদস্য বর্ষীয়ান পার্লামেন্টারিয়ান মাঈনুদ্দিন খান বাদল বিগত কয়েক বৎসর যাবত এলাকায় এবং সংসদে ব্যাপক জনমত গড়ে তুলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে শুধুমাত্র রেল সেতুর জন্য বাজেট হওয়ায় তা নাকচ করে দিয়ে কালুরঘাট রেলওয়ে সড়ক সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি আদায় ও বাজেট পাশ করানোর জন্য ব্যাপক যোগাযোগ ও তদবির চলাকালীন অবস্থায় হঠাৎ করে বিএনপি নেতা এরশাদ উল্লাহ এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বলেন কালুরঘাট সেতু নিয়ে বর্তমান সাংসদ প্রতারণা করছেন। বিএনপি নেতা এরশাদ উল্লাহ এ বক্তব্যে দক্ষিণ চট্টগ্রাম তথা বোয়ালখালীর সাধারণ মানুষ স্তম্বিত হয়ে যায়। যার প্রেক্ষিতে বোয়ালখালী উপজেলা আওয়ামীলীগ ও ১৪ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ এ জঘন্য মিথ্যাচারের প্রতিবাদে  ৭ অক্টোবর ২০১৯ সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব হলে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বোয়ালখালী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো: ইছা। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সভাপতি আহমদ হোসেন, বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আব্দুল কাদের সুজন, কেন্দ্রীয় জাসদ নেতা মো: সৈয়দ, বোয়ালখালী জাসদ সভাপতি মনির খান, উপজেলা আওয়ামীলীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াদুদ, জাসদ সাধারণ সম্পাদক ওবাইদুল্লাহ, সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল হক বাদশা, সাবেক চেয়ারম্যান দিদারুল আলম, উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা এসএম হাসান, মাসুদ করিম চৌধুরী, মো: মাহমুদ উল্লাহ লিটন, উপজেলা যুবলীগ সভাপতি মো: সেলিম, মো: মাসুম ও বোয়ালখালী উপজেলা আওয়ামীলীগ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো: ফয়জুল আবেদীন।
আওয়ামীলীগ ও ১৪ দলীয় জোট নেতৃবৃন্দ লিখিত বক্তব্যে বলেন, সমালোচনাকে আমরা স্বাগত জানাই। কিন্তু সমালোচনার নামে ষড়যন্ত্রকে প্রত্যাখান করি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেনকে কালুরঘাট সড়ক ও রেল সেতু নির্মাণ করার ঘোষণা জনগণকে জানানোর জন্য বলেছেন। মোরশেদ খান ২৭৫ কোটি টাকা প্রজেক্ট নিয়েছেন বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা ডাহা মিথ্যা। এধরণের কোন তথ্য কখনও কেউ দেখেনাই। মোরশেদ খান বোয়ালখালী বাসীকে ছাগলে কি চায়, ছাগলে কাঁঠাল পাতা পেলে খুশি হয় বলে উপহাস করেছেন বোয়ালখালী বাসীকে। বিএনপির মুখে কালুরঘাট ব্রিজ বা উন্নয়নের কথা মানায় না। ১২ বছর আমরা ক্ষমাতাসীন থাকাকালীন অন্যদের উপর নির্যাতন তো দুরের কথা একটা টুকাও দেওয়া হয়নি। আর আপনাদের ক্ষমাতাসীন সময়ে মিথ্যা মামলা-অত্যাচার-নির্যাতন-জেল-জুলুম এমনকি আমাদের একজন কর্মীকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করে প্রমাণ করেছেন আপনাদের বিএনপির ফ্যাসিস্ট চরিত্র। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছেন অতিসত্বর কালুরঘাট সড়ক ও রেল সেতু নির্মাণ করা হবে। কালুরঘাট সেতু নির্মাণ করার জন্য অত্র এলাকার মাননীয় সাংসদ জনাব মাঈনুদ্দিন খান বাদল সাহেব যখন উক্ত সেতু নির্মাণ করার জন্য নানাভাবে চাপ ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য জনসমাবেশ, মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচী গ্রহণ করেছেন তখন বিএনপি নেতা এরশাদ উল্লাহ সংবাদ সম্মেলন করে আওয়ামীলীগ তথা মাননীয় সাংসদকে প্রতারণা করেছেন বলে দাবি করেছেন এবং তারা উক্ত সেতু নির্মাণ করার জন্য আন্দোলন করার ঘোষণা দিয়েছেন। আমরা বোয়ালখালী থানা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ ও ১৪ দলীয় নেতৃবৃন্দকে এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জনগণকে জানাতে চাই যে, ইতিমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অত্র এলাকার সাংসদ জনাব মাঈনুদ্দিন খান বাদলকে ডেকে গণভবনে নিয়ে গিয়ে বলেছেন তিনি কালুরঘাট সড়ক ও রেল সেতু নির্মাণ করে দিবেন এবং এই ব্যাপারে ওনার পক্ষ থেকে এলাকাবাসীকে জানাতে আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মাননীয় সাংসদ জনাব মোশারফ হোসেন সাহেবকে অনুরোধ করেছেন। এবং জনাব মোশারফ সাহেব গত ২৬/০৯/২০১৯ইং তারিখে স্থানীয় ইঞ্জিনিয়ার ইন্সটিটিউটে এক সম্মেলনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেন যাহা পরের দিন স্থানীয় পূর্বকোণ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। আমরা আরো জানাতে চাই যে, বিএনপি দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিলেন কিন্তু কালুরঘাট সেতু নির্মাণের ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন নি। জনাব এরশাদ উল্লাহ দাবি করেছেন তৎকালীন এমপি মোরশেদ খান একটা ২৭৫ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করেছেন। কিন্তু সময়ের অভাবে পারেন নাই। যাহা একবারে ডাহা মিথ্যা। জনাব মোরশেদ খান কোনদিন কালুরঘাট সেতুর জন্য কোন কাজ করেন নাই। এমনকি বিএনপি দলগতভাবে কোন কাজ করেন নাই। জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য জনাব এরশাদ উল্লাহ উক্ত বক্তব্য দেন। বিএনপির মুখে কালুরঘাট সেতুর কথা মানায় না। আমরা পরিস্কারভাবে জানাতে চাই কালুরঘাট সড়ক ও রেল সেতু এই আওয়ামীলীগের আমলে নির্মিত হবে এবং মাননীয় সাংসদ জনাব মাঈনুদ্দিন খান বাদল ইদানিং উক্ত সেতু করার জন্য যে চেষ্টা ও তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন আমরা তাকে সমবেতভাবে সাহায্য সহযোগিতা করার ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে উক্ত সেতু নির্মাণের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বোয়ালখালীর জনগণ ও বোয়ালখালী আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে আকুল আবেদন করছি।

আরো খবর

Leave a Reply