বাংলাদেশ, শুক্রবার, ২১শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং, ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

অন্ধকারে বিদ্যুতের আলো ঝলমল করছে লামা কেয়াজুপাড়া বাজার

উপজেলার দুর্গম গ্রামগুলোতে এখন আলো জ্বলছে

মো.কামরুজ্জামান, লামা (বান্দরবান) 
লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের কেয়াজুপাড়া বাজার। সন্ধ্যা নামলেই অন্ধকারে হারিয়ে যেত জনবহুল এই বাজারটি। হারিকেন বা মোমের আলো জ¦ালিয়ে দোকানিরা বেচা-বিক্রি করতেন। সন্ধ্যার পর ভূতড়ে পরিবেশ বাজার ব্যবসায়ীসহ সবাইকে এক ধরণের হতাশ করে তুলতো। কিন্তু এখন আর সেই অবস্থা নেই। চারদিকে বিদ্যুতের আলো আর আলো; কেয়াজুপাড়া বাজারটি যেন এখন কোন এক মফস্বল শহর।

৩০০ নং আসনের এমপি’র কমিটমেন্ট অনুযায়ী এবং প্রতিটি এলাকা বিদ্যুতের আওতায় আনার সরকারি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সাম্প্রতিক সময়ে সরই ইউনিয়নকে বিদ্যুতের আওতায় আনা হয়। কিছুদিন আগে পার্বত্য মন্ত্রী এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে বিদ্যুতের সুইচ অন করেছিলেন। এ সময় মন্ত্রী বলেন, জেলার সব কটি ইউনিয়নের প্রতিটি বাড়িতে বিদ্যুতের আলো পৌঁছে দেয়া হবে। বিদ্যুৎ লাইন বিহীন দুর্গম পাহাড়ী গ্রামে স্যোলার প্যানেলের মাধ্যমে আলো নিশ্চিত করা হবে, এবং এই কর্মযজ্ঞ চলছে।
লামা উপজেলা থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে পশ্চিম-উত্তর দিকে অবস্থিত সরই ইউনিয়নের কেয়াজুপাড়া বাজারটি। চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলা সংলগ্ন হওয়ায়, সেখানে সমতল ভূমির অনেক মানুষের যাতায়ত। ফলে বাজারটি ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিনত হয়। দীর্ঘকাল সেখানে বিদ্যুৎ ছিলোনা। সন্ধ্যা নামলেই অন্ধকার ও হতাশায় ভুগতেন ব্যবসায়ীরা। বিদ্যুতের ছোঁয়া লাগার সাথে সাথে কেয়াজুপাড়া বাজারটি মফস্বল শহরের রুপ ধারণ করেন। ইতোমধ্যে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি শপিং মল। বহতল বিশিষ্ট মলগুলোতে গ্রাহক সমাবেশও সন্তোষজনক বলে জানান এক ব্যবসায়ী।
সম্প্রতি কোন এক রাতে এই প্রতিনিধি বাজারটি ঘুরে দেখেন। জানাযায়, কেয়াজুপাড়া বাজারটি বান্দরবান জেলা পরিষদ বাজার ফান্ড প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণাধিন একটি সরকারি বাজার। বাজারে বাণিজ্যিক প্লট বরাদ্দে স্থানীয়রা সুযোগ পেয়েছেন কম। চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া লোকেরাই বাজারের প্রায়ই প্লটের মালিক। বাজারটি জমঝমাট হওয়ার কারণ হিসেবে জানাযায়, পাশ্ববর্তী এলাকায় রয়েছে দেশর নাম করা প্রতিষ্ঠান কোয়ান্টম মেডিটিয়েশন। ফলে নিত্য-নতুন মানুষের আগমন ঘটে এই বাজারে। এ ছাড়া ম্যারিডিয়ান চিপ্স, মোস্তফা গ্রুপ, গাজী গ্রুপসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের রাবার ও ফলজ বাগান রয়েছে এই ইউনিয়নে।
ক্যায়াজুপাড়ার পশ্চিম দিকে রয়েছে বেশ কয়েকটি জলাশয়। প্রতি বছর সেখানে ভর্শি দিয়ে মাছ ধরার প্রতিযোগিতা হয় দেশের বিভিন্ন শহর থেকে এই প্রতিযোগিতায় টিকেট কেটে অংশ নেয় শত মানুষ। এর মালিক সৌদি প্রবাসী ‘হারেচ কোম্পানী’। কেয়াজুপাড়া বিদ্যুতায়ন হওয়ায় বর্তমানে পর্যটকদের আগমন যতেষ্ট বেড়েছে। এর ফলে সেখানকার মানুষের জীবনমান অনেক উন্নত হয়েছে বলে মন্তব্য স্থানীয়দের।

আরো খবর

Leave a Reply