বাংলাদেশ, শনিবার, ১২ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং, ২৭শে আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

আলীকদমে সদ্য জাতীয়করণকৃত প্রাইমারী স্কুলে স্থানীয় ৮জনকে বাদ দিয়ে, অন্য জেলার বাসিন্দাদের নিয়োগ দেয়ার পায়তারা

বান্দারবান প্রতিনিধি

শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারির স্ত্রী, ভাই, বোন ভাতিজাসহ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার জেলার ৮ জনকে দুর্নীতির মাধ্যমে নিয়োগ তালিকা চুড়ান্ত করার পায়তারার অভিযোগ।

বান্দরবানের আলীকদমে ইউএনডিপির সুপারিশে নতুন জাতীয় করণকৃত কয়েকটি বিদ্যালয়ে শিক্ষক হালনাগাদ করণে অনিয়ম। পূর্বতম স্থানীয় শিক্ষকদের বাদ দিয়ে দুর্নীতির মাধ্যমে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার জেলার ৮ জনের নিয়োগ তালিকা চুড়ান্ত করার পায়তারা চলছে। স্থানীয়দের বাদ দিয়ে শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারির স্ত্রী, ভাই, বোন ভাতিজাসহ ৮ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে।
সম্প্রতি কয়েকজন শিক্ষক কর্তৃক সরকারের বিভিন্ন মহলে প্রেরিত অভিযোগ সূত্রে আলীকদম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে এতদসংক্রান্ত ভয়াবহ অনিয়েমর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে প্রকাশ, ২০১৩ সালে ইউএনডিপি’র পরিচালনাধীন বিশটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানীয় শিক্ষিত যুবক/যুবতীরা স্বল্প কিংবা বিনা বেতনে শিক্ষক হিসেব নিয়োগ পেয়ে অদ্যবধি পাঠদান করিয়ে আসছে।
পার্বত্য দূর্গম পাহাড়ী গ্রামের প্রজম্মকে শিক্ষামুখি করার তাগিদে ইউএনডিপি স্কুলগুলোকে জাতীয় করণের সুপারিশ করলে, সরকার তাই করেন।
শিক্ষকদের অভিযোগ, জাতীয়করণের বিষয় জেনে ২০১৫ সালে স্থানীয় পাহাড়ি/বাঙ্গালী ৮জন শিক্ষকের নাম শিক্ষক তালিকা থেকে বাদ দেয়! স্থানীয় এই ৮জনের তালিকায়, আলীকদম শিক্ষা অফিসের অফিসসহকারী তার স্ত্রী, বোন, ভাই, ভাতিজা, আত্মীয়স্বজনসহ লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও চকরিয়ার মানিকপুরসহ পার্বত্যাঞ্চলের বাহিরের ৮ জন নাগরিকের নাম বসিয়ে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি এডিয়ে, ভুল তথ্য দিয়ে একটি অন লাইন হালনাগাদ করে মন্ত্রণালয়ে তালিকা প্রেরণ করেছিলেন বলে জানা যায়।
স্থানীয় শিক্ষকরা ওই সময় অফিস সহকারীর স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির বিষয়টি আঁছ করতে পেরে, পূনরায় ২০১৭ সালে স্থানীয় শিক্ষকদের নাম বহাল রেখে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে আরেকটি তালিকা প্রেরণ করেন।
অতি সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের হালনাগাদ তথ্য যাচায়ের জন্য পত্র প্রেরণ করেন। মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রেরিত পত্রের সাথে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ২০১৫ সালের বিতর্কিত বহিরাগত ভূয়া শিক্ষকদের নামের তালিকাটি সংযুক্ত করে যাচাই-বাচাইয়ের জন্য আলীকদম প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে প্রেরণ করেন। এর ফলে এলাকার স্থানীয় বাদ পড়া শিক্ষকরা বঞ্চিত হওয়ার আশংকায় বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেন।

স্থানীয় চেয়ারম্যান, এসএমসির সভাপতিরা জানান, বর্তমানে হঠাৎ আবির্ভাব হওয়া এমন ৮জন শিক্ষক তারা আগে কখনো দেখনি! যাঁদেরকে নিয়িমত পাঠদান করতে দেখছেন, তারা এখনো রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘিদন কষ্ট করে আসা স্থানীয় ৮জন শিক্ষক কেন বাদ দেয়ার পায়তারা চলছে? এ প্রশ্নের উত্তর মিলছেনা কোন মহল থেকে।
স্থানীয় বিদ্যামিন পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উথোয়াইপ্রুসহ সহকারী শিক্ষকরা জানান, আমাদের দীর্ঘ শ্রম ও প্রত্যাশাকে কর্তৃপক্ষ যথাযথ মুল্যায়ন করবেন। তারা আরো জানান, তদন্ত সাপেক্ষে সঠিকতা নিশ্চিত না হলে তারা হাইকোর্টে আশ্রয় নিবেন।
আলীকদম উপজেলা শিক্ষা অফিসের একজন অফিসসহকারী শিক্ষক নিয়োগ তালিকায় তার স্ত্রী, বোন, ভাতিজাসহ পার্বত্যাঞ্চলের বাহিরের ৮ জনকে কিভাবে অন্তর্ভুক্ত করে, তা আবার কর্তৃপক্ষ দ্বারা জায়েজ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে: এমন প্রশ্ন বর্তমান সরকারের নিয়োগ ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও পার্বত্য অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্টিকে অগ্রাধিকারের আন্তরিকতায় ঘাটতি বলে জানায় স্থানীয়রা। এ নিয়ে স্থানীয় মানুষের মাঝে রাজনৈতিকভাবে বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে বলে জানান অনেকেই।
বিষয়টি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী; বীর বাহাদুর এমপি’র হস্তক্ষেপ আশা করছেন স্থানীয়রা।

আরো খবর

Leave a Reply