বাংলাদেশ, রবিবার, ৮ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং, ২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে বেগম জিয়াকে মুক্ত করা হবে :মিনু

বিএনপি’র ৪১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন

বিএনপি’র ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজশাহী মহানগর ও জেলা বিএনপি আজ রোববার দিন ব্যাপি নানা কর্মসূচী পালন করে। প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার অন্যতম উপদেষ্টা, সাবেক মেয়র ও সংসদ সদস্য জননেতা মিজানুর রহমান মিনু সকাল সাড়ে ৭টায় ভূবন মোহন পার্কে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন, পায়রা অবমুক্ত করণ ও ফেস্টুন উড়িয়ে দিনের কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন। বিকেলে একই স্থানে র‌্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। নগরীর বিভিন্ন স্থানে বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের মিছিলে পুলিশ বাধা প্রদান করে। নেতাকর্মীরা পুলিশি বাধাপ উপেক্ষা করে সমাবেশ স্থলে উপস্থিত হন। কানায় কানায় পার্ক ভরে যায়। অনেক নেতাকর্র্মীকে রাস্তায় অবস্থান নিতে দেকা যায়। এদিকে মহানগর ছাত্রদল পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে মিছিল নিয়ে সোনাদিঘির মোড় হয়ে সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট দিয়ে সমাবেশ স্থলে উপস্থিত হন।

প্রদান অতিথির বক্তব্যে মিনু বলেন, এই সরকার দেশ পরিচালনায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ। তারা দেশকে ভারতের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। বর্তমানে ভারত আসামের বাসিন্দাদের বাংলাদেশর পুশ ইন করার জন্য গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলেও বর্তমান তাবেদার সরকার নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। এই সরকারের নিকট জনগণের মূল্য নেই। তারা সর্বদা নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত। পুলিশ ও প্রশাসন দিয়ে নিজেদের টিকিয়ে রেখেছে। অথচ স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট খখনো প্রাণের মায়া করতেন না। তিনি জনগণ ভালোবাসতেন। দেশর উন্নয়নে সর্ভদা কাজ করতে করতেন।
তিনি আরো বলেন, এ্ সিরকার সকল ক্ষেত্রে দূর্নীতি করছে। মাশা মারা বিষ ক্রয়ের অর্থসহ দেশের সকল মেগা প্রকল্পের টাকা সরকার আত্মসাত করেছে। এই টাকা নিয়ে সরকারের অবৈধ এমপি, মন্ত্রী ও তাদরে দলের নেতাকর্মীরা টাকার পাহার গড়ে তুলেছে। বিদেশে বাড়ি গাড়ি করে করেছে। নিজেদের আরাম আয়েশের জন্য ব্যাংক থেকে হাজার কোটি টাকা টাকা লুট করে ব্যাংকগুলো দেউলিয়া করেছে। তারা দেশের টাকা লুট করে সুইচ ব্যাংকে মজুত করেছে। কিন্তু তাদের কারো বিরুদ্ধে কোন প্রকার মামলা হয়নি। এই সরকার শুধু জানে বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিনা কারনে মামলা দিয়ে আটক করতে। কোন ছাড়াই খুন, গুম ও বিচার বহির্ভূত হত্যা করতে। হাজার নেতাকর্মী এখন জেল হাজতে রয়েছে।
মিনু বলেন, এই সরকার বিনা কারণে শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দি করে রেখেছে। বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়া সত্বেও তাঁকে জামিন দেওয়া হচ্ছে না। আবার নুতন করে বিএনপি নেতার্কীদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হচ্ছে। আইনশৃংখলা বাহিনী সরকার প্রধানকে খুশি করার জন্য এই ধরনের নীতি বিবর্জিত কার্যক্রম করছেন। আইনশৃংখলা বাহিনী ও প্রশাসনের সকল কর্মকর্তাদের জনগণ আইনের আওতায় এনে বিচার করবেন বলে জানান মিনু। বিভাগীয়ূ মহাসম্মেলন থেকে সরকার পতন, বেগম জিয়ার মুক্তি এবং গণতন্ত্র পূণরুদ্ধারে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। আর এই আন্দোলনে বিএনপি. অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকমীদের জীবন বাজি রেখে রাজপথে নামার আহবান জানান মিনু।
উদ্বোধনী ও সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র সভাপতি ও রাসিক সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সহিদুন্নাহার কাজি হেনা, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি এ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা, মহানগর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক আসলাম সরকার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিউল হক রানা, বোয়ালিয়া থানা বিএনপি’র সভাপতি সাইদুর রহমান পিন্টু, রাজপাড়া থানা বিএনপি’র সভাপতি শওকত আলী, মতিহার থানা বিএনপি’র সভাপতি আনসার আলী, শাহ্ মখ্দুম থানা বিএনপি’র সভাপতি মনিরুজ্জামান শরীফ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন, রাজপাড়া থানা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আলী হোসেন, বোয়ালিয়া থানা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক রবিউল আলম মিলু, জেলা বিএনপি’র সদস্য ও নওহাটা পৌর মেয়র শেখ মকবুল হোসেন, তানোর পৌর মেয়র মিজানুর রহমান ও মতিহার থানা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক ডিকেন।
এছাড়াও মহানগর যুবদলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সুইট, জেলা যুবদলের সভাপতি মোজাদ্দেদ জামানী সুমন, মহানগর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হাসনাইন হিকোল, বর্তমানসাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম সমাপ্ত, সহ-সভাপতি মোজাফ্ফর হোসেন মুকুল, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জাকির হোসেন রিমন, সাধারণ সম্পাদক আবেদুর রেজা রিপন, মহানগর যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন বাবলু, মহানগর তাঁতী দলের সভপতি আরিফুল শেখ বনি, মহানগর যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আনন্দ কুমার, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খালেদ বীন তারেক, শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন, মহানগর মহিলা দলের যুগ্ম আহবায়ক অধ্যাপিকা সখিনা খাতুন, নুরুন্নাহার, সামসুন্নাহার, জরিনা, পুতুল, গুলশান আরা মমতা ও রোজি, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি আসাদুজ্জামান জনি, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রবি, যুগ্মা সাধারণ সম্পাদক আকবার আলী জ্যাকি, নাহিন আহম্মেদ ও জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি রবিউল ইসলাম কুসুম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরেফন কনক, ও রাবি’র যুগ্ম সম্পাদক সুলতান আহম্মেদ রানীসহ মহানগর বিএনপি’র সাংগঠনিক ৩৫ টি ওয়ার্ড অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

আরো খবর

Leave a Reply

Close