বাংলাদেশ, রবিবার, ১৯শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং, ৫ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

দ্রব্যমূল্য অস্বস্থি নাগরিক জীবনে

মাহমুদুল হক আনসারী

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না। জনজীবনে নিত্যপণ্য, ভোগ্যপণ্য ছাড়া চলতে পারে না। ভোগ্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব কর্তব্য পালনের জন্য কতিপয় ডিপার্টমেন্ট আছে। তাদের দায়িত্ব হলো ভোগ্যপণ্য নিত্যপণ্যের বাজার তদারকি করা। রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতায় এসব প্রতিষ্টান কাজ করার কথা। তাদের কাজ হলো বাজার মনিটরিং ও তদারকি করা। ভেজাল নি¤œমানের পণ্য থেকে অযৌক্তিক মূল্য বৃদ্ধি জনগণের নাগালের মধ্যে রাখা। কথা হলো রাষ্ট্রীয়ভাবে অনেকগুলো প্রতিষ্টান জনগণের কল্যাণে থাকলেও বাস্তবে জনগণ এসব প্রতিষ্টানের মাধ্যমে যে পরিমাণ উপকার পাওয়ার কথা ছিল তা কিন্তু পাচ্ছে না। কি কারণে হঠাৎ করে ভোগ্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি আর সংকট সে বিষয়ে নাগরিক কিছুই জানে না। হু হু করে ইচ্ছেমতো কারসাজি করে ভোগ্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধিতে সাধারণ জনগণ মারাত্মকভাবে অর্থ ভোগান্তিতে পড়ে। একজন মানুষের আয় ও ব্যয় অবশ্যই একটা রেখার মধ্যে রাখার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। যে রাষ্ট্রের নাগরিক সে নাগরিক তার উপার্জন আয় রোজগারের আনুপাতিক হারে তার খরচ ব্যয় একটা সিস্টেম থাকা চায়। কিন্তু আমাদের দেশে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে বিশালভাবে একটা ফারাক দেখা যায়। অর্থ উপার্জনকারী ব্যক্তি নিজ ও পরিবার পরিজনের জন্য যে পরিমাণে অর্থ রোজগার করে থাকে, তা খরচেরও একটা  সীমারেখা করা থাকে। সে জায়গায় নির্দিষ্ট পরিমাণ উপার্জনকারী ব্যক্তি প্রতিষ্টান তার সে অঙ্ক ঠিক রাখতে পারছে না। না পারার পেছনে অনেকগুলো কারণের মধ্যে অন্যতম একটি কারণ হলো ভোগ্যপণ্য ও নিত্যপণ্যের অযৌক্তিক অস্বাভাবিকভাবে মূল্যবৃদ্ধি। একদিকে ভেজাল ও নি¤œমানের পণ্যের সমাহার, অন্যদিকে কথায় কথায় কোনো কারণ ব্যাতিরেকে মূল্য বৃদ্ধির সমস্যার মারাত্মকভাবে সম্মুখীন আমজনগণ। যে যেখানে দায়িত্ববান তিনি সেখানে  অহেতুকভাবে অর্থের চাপ তুলে দিচ্ছে তার অধিনস্থদের উপর। এ প্রবণতা সমাজের সবগুলো সেক্টরে লক্ষণীয়ভাবে প্রতিষ্টিত। কোনো ডিপার্টমেন্ট চুক্তি মোতাবেক তার লেনদেন বাস্তবায়ন করছে না। চুক্তির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করতে হয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রতিষ্টানকে। স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত এ প্রবণতা। বাজারের চিত্র সেটা মারাত্মক। মাত্র একশো গজের মধ্যে একেকটা ব্যবসা প্রতিষ্টানের বাজার দর ভিন্ন ভিন্ন। জীবন রক্ষাকারী যদি ওষুধের কথা বলি সেখানেও দেখা যায়, পাশাপাশি দু’টি ডিসপেন্সারী সেখানেও একই কোম্পানীর একই ওষুধের দু রকম মূল্য। সেটা যদি দোকানদারকে জিজ্ঞেস করা হয় তখন তার কোনো সদুত্তর পাওয়া যায় না। দু’একটি কথা বললেই  সে আর ওষুধ দিতে চায় না। ইচ্ছেমতো টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ওষুধ কোম্পানী আর ফার্মেসীগুলো। তাদের কাছে কোনো ধরনের মানবতাবোধ দেখা যায় না। ওষুধের মূল্যবৃদ্ধি এটা সম্পূর্ণভাবে ভোক্তার অগোচরেই চলে যায়। ভুক্তভোগী জনগণ ওষুধের মূল্য সম্পর্কে মোটেও অবগত নয়। ফলে এসব জায়গায় হয়রানি আর ভোগান্তির শেষ নেই। নিত্যদিন যেসব মানুষ ভাতের সাথে ওষুধ সেবন করে তারা না পারছে ওষুধ ছাড়তে, না পারছে কিছু বলতে।  এক ধরনের অসহায়ত্ব পরিস্থিতির শিকার হয়ে তাদেরকে জীবন কাটাতে হয়। এসব বিষয়ের কোনো সুরাহা সমাধান সমাজ দেখছে না। নি¤œ ও ভেজাল ওষুধের বিরোদ্ধে কখনো কখনো লোক দেখানো কিছু ব্যবস্থা দেখা গেলেও সারাদেশে অসংখ্য  ওষুধ কোম্পানীর বেপরোয়া এমআরদের দৌরাত্মায় রোগী ডাক্তার কেউই রেহাই পাচ্ছে না। অন্যান্য ভোগ্যপণ্যের মূল্য সম্পর্কে কিছুটা ধারণা ভোক্তাদের থাকলেও ওষুধ সম্পর্কে খুুব স্বল্প সংখ্যক মানুুষই জানে। এ ধরনের ভোগ্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি আমজনতার ভোগান্তি আর অস্বস্থি বাড়াচ্ছে। একইভাবে পিঁয়াজ, রসুন, আদা থেকে গরম মশলা জাতীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি গোটা বছর। মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ববান ও অন্যের প্রতি দায়িত্বশীলতার পরিচয় না দিলে কখনো একমাত্র আইনের মাধ্যমে এসব সমস্যা পরিশোদ্দ করা কখনো সম্ভব নয়। মানুষের মধ্যে একটা প্রবণতা হয়ে গেছে রাতারাতি বাড়ি, গাড়ির মালিক হওয়ার। এসব প্রতিযোগীতায় মানুষ তার হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে অনৈতিক পথে অর্থ উপার্জনে নেমে পড়ে। ফলে স্বল্প সংখ্যক  মানুষের অনৈতিকতার বেড়াজালে বন্দি হয়ে যায় গোটা সমাজ। এসব মানুষের কারণে সামাজিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ হয়। অর্থনৈতিকভাবে নি¤œ আয়ের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ধরনের প্রবণতা রাষ্ট্রকে কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। সমাজে সব ধরনের শ্রেণী পেশার মানুষের মৌলিক অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকার সুযোগ দিতে হবে। যাদের নিকট অট্টালিকা অর্থ তাদের খরচের সমস্যা না হলেও বিপুল সংখ্যক জনগণের প্রয়োজনের দিকে দৃষ্টি দিয়ে রাষ্ট্রের উচিত অবশ্যই ভোগ্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা। কী কারণে হঠাৎ ভোগ্যপণ্যের মূল্য বেড়ে যায় তা জনগণকে অবগত করাতে হবে। এটা জনগণের জানার অধিকার রাখে। এসব না জানিয়ে যথায় তথায় ভোগ্যপণ্যের বাজার বৃদ্ধি সামাজিক ও পারিবারিক স্থিতিশীলতা  নষ্ট করবে। নিত্যপণ্য ও ভোগ্যপণ্যের মূল্য ভোক্তাদের নাগালের মধ্যে রাখা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব।

আরো খবর

Leave a Reply