বাংলাদেশ, সোমবার, ২০শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং, ৫ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

৮ ঘন্টা কর্মদিবসসহ শ্রম আইন কার্যকর ও সরকার ঘোষিত মজুরি বাস্তবায়নের দাবি

মৌলভীবাজারের শেরপুরে হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সভা

 

৮ ঘন্টা কর্মদিবস, নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র প্রদানসহ শ্রমআইন কার্যকর ও হোটেল সেক্টরে সরকার ঘোষিত নি¤œতম মজুরির গেজেট কার্যকর করার দাবিতে মৌলভীবাজার জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিঃ নং চট্টঃ-২৩০৫ এর শেরপুর আঞ্চলিক কমিটির উদ্যোগে এক শ্রমিক সভা অনুষ্টিত হয়। ৩১ আগষ্ট শনিবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার শেরপুর বাইপাসরোডস্থ কার্যালয় অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন শেরপুর আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি শংকর দাশ। আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মুজিবুর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস ও জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ মোস্তফা কামাল। সভায় ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক সংসদ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অমলেশ শর্ম্মার মাতা রেনুবালা শর্ম্মার মৃত্যুতে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দাড়িয়ে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন সদর উপজেলা কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক ও শেরপুর আঞ্চলিক কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এমডি দুলাল আহমেদ, শেরপুর আঞ্চলিক কমিটির সহ-সভাপতি মোঃ ইকবাল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ আমরুল হোসেন, হোটেল শ্রমিক মহিলা কমিটির সভাপতি লালবানু বেগম, সাধারণ সম্পাদক স্বপ্না বেগম, মহিলানেত্রী রাফিয়া বেগম, সেলিা বেগম, সাবিনা বেগম, হোটেল শ্রমিক নেতা রিপন দাশ, বাবুল মিয়া, নন্দলাল গোস্বামী।
সভায় বক্তারা বলেন হোটেল শ্রমিকরা কাক ডাকা ভোর হতে গভীর রাত পর্যন্ত হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম করেও ন্যায্য মজুরি ও আইনগত অধিকার হতে বঞ্চিত হ”্ছনে। ২০১৭ সালে সরকার হোটেল সেক্টরের শ্রমিকদের জন্য নি¤œতম মজুরির গেজেট(এসআরও নং ৩৮-আইন/২০১৭) প্রকাশ করলেও অদ্যাবধি তা কার্যকর করা হয়নি। বাংলাদেশ শ্রম-২০০৬(অদ্যাবধি সংশোধিত) এর ধারা ২(২ক) এবং বাংলাদেশ শ্রমবিধিমালা-২০১৫ এর বিধি ১১১(৫) অনুযায়ী প্রত্যেক শ্রমিককে উৎসব বোনাস ও ছুটি প্রদান করা আইনত বাধ্যতামূলক। কিন্তু ঈদ ও পূজায় হোটেল-রেস্টুরেন্ট-মিস্টি-বেকারি শ্রমিকদের উৎসব বোনাস থেকে বঞ্চিত করা হয়। এমন কি অধিকাংশ হোটেল শ্রমিকদের ঈদ ও পুজায় কোন ছুটিও প্রদান করা হয় না, বরং দুর্গা পূজায় অধিকাংশ হোটেল শ্রমিকদের অতিরিক্ত কাজ করতে বাধ্য করা হয়। আর যে সকল শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয় তাদের ছুটির দিনের বেতনও দেওয়া হয় না। বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট সুইটমিট শ্রমিক ফেডারেশন রেজিঃ বি-২০৩৭ এর নেতৃত্বে সারা দেশের হোটেল শ্রমিকদের ধারাবাহিক আন্দোলন সংগ্রামের কারণে ২০০৯ সালের ২৪ নভেম্বর সরকার হোটেল শ্রমিকদের জন্য নি¤œতম মজুরির গেজেট প্রকাশ করেন, ঘোষিত গেজেট অনুযায়ী প্রত্যেক শ্রমিককে এক মাসের বেতনের সমপরিমান বছরে ২টি উৎসব বোনাস প্রদানের আইন করা করা হয়। এরপর ২০১২ সালের ২৬ এপ্রিল সরকার ঘোষিত গেজেট ও শ্রম আইন বাস্তবায়নের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ রেঁস্তোরা মালিক সমিতি এবং বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট সুইটমিট শ্রমিক ফেডারেশনের মধ্যে লিখিত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কিন্তু চুক্তি করলেও ঈদ ও পূজায় কোন মালিকই শ্রমিকদের চুক্তি অনুযায়ী বেতনের সমপরিমান বোনাস প্রদান করেননি। শুধু তাই নয় বাংলাদেশ শ্রমআইন অনুযায়ী নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র, সার্ভিস বই, প্রতিবছর চাকুরীর জন্য ৪৫ দিনের গ্রাচুইটি, চাকুরীচ্যূতি জনিত ৪ মাসের নোটিশ পে, দেড়দিন সাপ্তাহিক ছুটি, দৈনিক ৮ ঘন্টা সপ্তাহে ৪৮ ঘন্টা কাজ, অতিরিক্ত কাজের জন্য দ্বিগুণ মজুরি প্রদান, বছরে ১০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি, ১৪ দিন অসুস্থ্যতার ছুটি, প্রতি ১৮ দিন কাজের জন্য ১ দিন অর্জিত ছুটি, ১১ দিন উৎসব ছুটি প্রদানের আইন থাকলেও আমাদেরকে এই সকল আইনগত অধিকার হতে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশ শ্রম-২০০৬(অদ্যাবধি সংশোধিত) এর ধারা ২(২ক) এবং বাংলাদেশ শ্রমবিধিমালা-২০১৫ এর বিধি ১১১(৫) অনুযায়ী প্রত্যেক শ্রমিককে উৎসব বোনাস ও ছুটি প্রদান করা আইনত বাধ্যতামূলক। অথচ হোটেল মালিকরা সরকারী আইন ও চুক্তি লঙ্ঘন করে সম্পূর্ণ বেআইনীভাবে এই সকল কর্মকান্ড চালালেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এব্যাপারে নির্বিকার। উপরোল্লেখিত সবই হচ্ছে সরকার ঘোষিত আইন। এই আইন বাস্তবায়নের দায়িত্বও সরকারের। কিন্তু আমাদের দেশের সরকারগুলো হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদ ও তার দালাল শাসক-শোষক শ্রেণির স্বার্থের পাহারাদার। এ কারণে কাগজে কলমে আইন থাকলেও তার কোন বাস্তবায়ন নেই। শ্রমিক শ্রেণি বাঁচার দাবিতে আন্দোলন সংগ্রামে নামলে তাদের উপর নেমে আসে সরকারি বিভিন্ন আক্রমণ নির্যাতন-নিপীড়ন, মামলা-হামলা । নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিষপত্রসহ গ্যাস, বিদ্যুত, বাড়িভাড়া, গাড়িভাড়া, চিকিৎসা ব্যয় লাগামহীন বৃদ্ধিতে শ্রমিক-কৃষক-শ্রমজীবী জনগণের অবস্থা ত্রাহি ত্রাহি।

সভা থেকে বর্তমান বাজারদেরে সাথে সঙ্গতিপূর্ণ মূল মজুরি ২০ হাজার টাকা ঘোষণা, গণতান্ত্রিক শ্রমআইন প্রণয়ন ও অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার, মাসিক বেতনের সমপরিমান উৎসব বোনাস প্রদান, হোটেল সেক্টরে ৮ ঘন্টা কর্মদিবসসহ শ্রমআইন বাস্তবায়ন ও সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি কার্যকর ও কর্মক্ষেত্রে সার্বিক নিরাপত্তা প্রদান করার দাবি জানানো হয়।

আরো খবর

Leave a Reply