বাংলাদেশ, মঙ্গলবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং, ২রা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

পার্বত্য চট্টগ্রামে বঙ্গবন্ধুর অবদান তুলে ধরা দরকার : কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা

 

শংকর চৌধুরী,খাগড়াছড়ি॥ পলাতক বঙ্গবন্ধুর খুনীদের দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসি কার্যকরের মাধ্যমে এদেশকে কলঙ্কমুক্ত করা দাবি জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী মর্যাদাসম্পন্ন ভারত প্রত্যাগত শরণার্থী পুনর্বাসন বিষয়ক টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি বলেছেন, স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম না হলে এদেশের মানুষ কখনো উন্নত দেশের স্বপ্ন দেখতো না। বঙ্গবন্ধু আর পার্বত্য চট্টগ্রাম একে অপরের পরিপূরক। পার্বত্য চট্টগ্রামে বঙ্গবন্ধুর অবদান পার্বত্যবাসীর কাছে তুলে ধরা দরকার।

খাগড়াছড়িতে স্বাধীনতার মহান স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪৪ তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে শোক র‌্যালি শেষে পৃথক আলোচনা সভা প্রধান অতিথির বক্তব্যে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তিনবার পার্বত্য চট্টগ্রামে এসেছিলেন। বঙ্গবন্ধুই একমাত্র পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়নের জন্য একটি সার্বিক পরিকল্পনা করে ছিলেন। স্থানীয় এমপি, সার্কেল চীফ, হেডম্যান, কারবারী, আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ এবং অগনিত জনসাধারণের সামনে ঘোষণা করেছিলেন, “ জাতীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার অবশ্যই রক্ষা করা হবে”। বলেছিলেন উপজাতীয়দের ঐতিহ্য ও কৃষ্টি সংস্কৃতি পুরোপুরিভাবে সংরক্ষণ করার কথা। অনগ্রসর সম্প্রদায় এবং এলাকার উন্নয়নের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহনের কথাও জানিয়েছিলেন।

আর এখন বাবার স্বপ্ন পুরোপুরি বাস্তবায়ন এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠায় তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দুরদর্শীতায় “পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি” (শান্তি চুক্তি) সম্পাদনের মাধ্যমে আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। আজ পার্বত্যাঞ্চলের আনাচে কানাচে প্রতিটি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য, দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়েছে। পার্বত্যবাসীর ভাগ্য বদলে দিয়েছে শেখ হাসিনা। তাই বর্তমান সরকারের ভিশন বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করে সরকারের উন্নয়ন বাস্তবায়নে জেলাবাসীর সহযোগীতা চেয়ে আওয়ামী লীগের সকল নেতাকর্মীকে সাধারণ জনগনের পাশে দাঁড়ানোর আহবানও জানান, খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্থানীয় সাংসদ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা।

বৃহস্পিবার ১৫ আগস্ট সকাল সাড়ে ৮ টায় কলেজ রোডস্থ দলীয় কার্যলয়ে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তলন আর বিশেষ দোয়া ও মুনাজাতের মধ্য দিয়ে জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে, জেলা প্রশাসনের আয়োজনে খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোক র‌্যালি বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পৌর টাউন হল প্রাঙ্গনে এসে শেষ হয়। সেখানে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিত পুস্পমাল্য অর্পন করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, ভারত প্রত্যাগত শরণার্থী পুনর্বাসন বিষয়ক টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান (প্রতিমন্ত্রী মর্যাদা) কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি, পার্বত্য চট্টগ্রামের সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি বাসন্তী চাকমা, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কংজরী চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো: শহিদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহা: আহমার উজ্জামান, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মো: শানে আলম, পৌর মেয়র মো: রফিকুল আলম, জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা নুরুন্নবী চৌধুরী, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মংসুইপ্র“ চৌধুরী অপু, শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক দিদারুল আলম দিদার, সাংগঠনিক সম্পাদক এড.আশুতোষ চাকমা, জেলা পরিষদ সদস্য জুয়েল চাকমা, আ: জব্বার, পার্থ ত্রিপুরা জুয়েল, শতরূপা চাকমা। জেলা যুবলীগের সভাপতি যতন কুমার ত্রিপুরা, ছাত্রলীগের সভাপতি টিকো চাকমাসহ আওয়ামী লীগের অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা এতে অংশ নেয়।

র‌্যালি শেষে পৌর টাউন হল প্রাঙ্গনে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। পরে দুপুরে দলীয় কার্যালয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, উপজাতীয় শরণার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি।

আরো খবর

Leave a Reply