বাংলাদেশ, মঙ্গলবার, ২০শে আগস্ট, ২০১৯ ইং, ৫ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

পশুবাহী গাড়িতে চাঁদাবাজি থামাতে হবে

মাহমুদুল হক আনসারী
আর মাত্র কয়েকদিন পরেই মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আযহা অনুষ্টিত হবে। অধীর আগ্রহে পৃথিবীর ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ এ দিবসের অপেক্ষায় আছে। দিবসের প্রধান ও অন্যতম ইবাদত হচ্ছে পশু কোরবানী। সামর্থ্যবান মুসলমানগণ পৃথিবীতে পশু কোরবানীর মাধ্যমে আল্লাহর রেজমন্দী অর্জনের চেষ্টা করেন। পশু কোরবানীর জন্য বাংলাদেশে সারাবছর লাখ লাখ পশুকে মোটা তাজা করতে কৃষকগণ মাথার ঘাম পায়ে ফেলে পরিশ্রম করতে দেখা যায়। তারা কোরবানীকে সামনে রেখে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পশু পালনের খামার গড়ে তোলে। লাখ লাখ কোটি কোটি টাকা খরচ করার মধ্য দিয়ে পশু মোটা তাজা ও পালন করে থাকে। উদ্দেশ্য একটাই কোরবানীর চাহিদা পূরণ করা ও অর্থনৈতিক সাবলম্বী অর্জন করা। পশু কোরবানীর মাধ্যমে কৃষক থেকে রাষ্ট্র পর্যন্ত অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক সমৃদ্ধি অর্জন করে। কথা হচ্ছে এ পশু কোরবানীকে সামনে রেখে এ মৌসুমে দেশব্যাপী আইন শৃঙ্খলাবাহিনী, রাজনৈতিক ক্যাডার, সন্ত্রাসী কতৃক সড়ক মহাসড়কে চাঁদাবাজির এক মহা উৎসব লক্ষ্য করা যায়। একটি পশু এক অঞ্চল থেকে অন্য জেলায় পৌছাতে ব্যাপরীদের কষ্ট ও ভোগান্তির সীমা থাকে না। কারণ বাজার থেকে পশু ক্রয় করা থেকে অন্য জেলার বাজারে এ পশু পৌছাতে অর্থ, ভোগান্তি পথে পথে চাঁদাবাজির সম্মুখীন হতে হয়। চাঁদাবাজদের এক ধরনের মহা উৎসব ও আনন্দ পরিলক্ষিত হয়। পশুর গাড়ির চাঁদাবাজির কারণে অহেতুকভাবে পশুর মূল্য বৃদ্ধি পায়। ডাইরেক্ট ইনডাইরেক্টলি কোরবানী দাতার উপর এ অর্থ চাপার হয়। কোরবানীর পূর্বে দেখা যায় রাষ্ট্রের বিভিন্ন সেক্টর আইনশৃঙ্খলাবাহিনী নানা বিবৃতি বক্তব্য দিয়ে থাকে। প্রশাসনের বিভিন্ন দায়িত্বশীল মহল কোরবানীর আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ভোগান্তি লাঘবে বক্তব্য দিয়ে থাকেন। বাস্তবে দেখা যায় অন্যরকম পরিস্থিতি। সারা দেশে পশুবাহী গাড়ি থেকে বিভিন্ন গোষ্ঠীর চাঁদাবাজি লক্ষ্য করা যায়। সাথে অন্যান্য গণপরিবহন মালবাহী ট্রাক থেকেও নানা অজুহাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চাঁদা আদায় করতে দেখা যায়। এটা একটা চলমান অপরাধ। নাগরিকের উপর এ জাতীয় অনধিক ও অমানবিক কার্যক্রম কোনো অবস্থায় মেনে নেয়া যায় না। রাষ্ট্রের সবগুলো গোয়েন্দা সেক্টরে এসব বিষয়ে তথ্য থাকলেও পুলিশের এসব চাঁদাবাজির কোনো সমাধান অথবা নিস্তার মিলছে না। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে অথবা ঢাকা হতে বিভিন্ন উপশহরে প্রবেশ করার পথে অসংখ্যভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চেকপোস্ট দেখা যায়। এসব চেক পোস্টে অহরহ ঘটনা দেখা যায় যেখানে নিরীহ যাত্রী ও মালবাহী পরিবহনকে হয়রানি করে ভোগান্তিতে ফেলে উৎকোচ আদায় করা হয়। সূর্যের আলোর মতো সত্য এসব কার্যকলাপ হরহামেশা চোঁখে পড়ে। চট্টগ্রামের সিটি গেইট এলাকার দোপাশে চেক পোস্টের নামে চব্বিশ ঘন্টা জনগণকে কারণে অকারণে হয়রানি করতে দেখছি। পুলিশি পোশাকের সাথে এখানে কতিপয় সাদা পোশাকের লোকজনকে দেখা যায়। খবর নিয়ে জানা যায় আসলে সাদা পোশাকের লোকগুলো আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর লোক নয়। তারা পুলিশের পক্ষ হয়ে চাঁদাবাজি করে। এ ধরনের লোকজন কার্যক্রম পুরো শহরেই স্পটে স্পটে চোঁখে পড়ে। ওই লোকগুলো পরিবহন থেকে চাঁদা উঠিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এসব বিষয়ে জনগণ খুবই অতিষ্ট। বিশেষ করে ঈদকে সামনে রেখে মানুষ যখন গাঁ গ্রামে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেয় তখন পথে এসব ভোগান্তি দেখে তাদের মাথা হেট হয়ে যায়। কোথায় গিয়ে কার কাছে এর নিস্তার মিলবে তাও কাজ করে না। জনগণ রাষ্ট্রের নিকট এসব ভোগান্তি থেকে নিস্তার চায়। পবিত্র কোরবানীর ঈদে এবং সারাবছর যেভাবে রাস্তায় ট্রাক থেকে চাঁদাবাজি করা হয় তা বন্ধ করতে হবে। রাষ্ট্রের সেবক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রশাসন জনগণের জন্য। জনগণের কষ্টের টেক্সের অর্থে এসব বাহিনী ও সেক্টর পরিচালিত হয়। অন্যায় উৎকোচ চাঁদাবাজি ভোগান্তি যেকোনো মূল্যে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। যেসব চিহ্নিত পুলিশ এসব অনৈতিক কাজের সাথে জড়িত তাদের বিরোদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। বন্ধ করতে হবে রাস্তার সব ধরনের অনৈতিক চাঁদাবাজী। এতসব সুযোগ সুবিধা দেয়ার পরও যেসব পুলিশ চাঁদাবাজীর সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। জনশান্তি নিরাপত্তা, ভোগান্তিমুক্ত ঈদ উদযাপন ও পশু কোরবানী প্রত্যাশা করে জনগণ।

আরো খবর

Leave a Reply