বাংলাদেশ, মঙ্গলবার, ২০শে আগস্ট, ২০১৯ ইং, ৫ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচীর উদ্যেগে চট্টগ্রামে কর্মশালা

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা সেক্টর কর্মসূচী  এর অধীন টিবি-এল এন্ড এএসপির অপারেশনাল প্ল্যানের আওতায় ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচীর উদ্যেগে আজ ৩১ জুলাই/২০১৯ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রামের একটি হোটেলে দিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত হলো একটি কর্মশালা। উক্ত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক, এমবিডিসি এবং লাইন ডাইরেক্টর (টিবি-ল্যাপ্রোসী) অধ্যাপক ডাঃ মোঃ শামিউল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন-
০১। অধ্যাপক ডাঃ সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, অধ্যক্ষ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ।
০২। অধ্যাপক ডাঃ মুজিবুল হক খাঁন, সভাপতি, বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ), চট্টগ্রাম জেলা শাখা।
০৩। ডাঃ ফয়সল ইকবাল চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ), চট্টগ্রাম জেলা শাখা।
০৪। অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আবুল হাসান চৌধুরী, পরিচালক, বাংলাদেশ ইনষ্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল ইনফেকসাস ডিসিজেস (বিআইটিআইডি), ফৌজদারহাট, চট্টগ্রাম।
০৫। অধ্যাপক ডাঃ এ কিউ এম সিরাজুল ইসলাম, প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ), চট্টগ্রাম জেলা শাখা।
০৬। ডাঃ মোহাম্মদ আজিজুর রহমান সিদ্দিকী, উপ-পরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সিভিল সার্জন, চট্টগ্রাম।
০৭। ডাঃ সেলিম আকতার চৌধুরী, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডাঃ হাসান শাহরিয়ার কবীর এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় আরো উপস্থিত ছিলেন-

ক্স চট্টগ্রামের সরকারী-বেসরকারী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষগণ।
ক্স চট্টগ্রাম, ফেনী এবং নোয়াখালী জেলার জেনারেল/সদর হাসপাতাল সমূহের তত্ত্বাবধায়কগণ।
ক্স চট্টগ্রাম, ফেনী, লক্ষ্মীপুর এবং নোয়াখালী জেলার সিভিল সার্জনগন।
ক্স চট্টগ্রাম, ফেনী, লক্ষ্মীপুর এবং নোয়াখালী জেলার সরকারী-বেসরকারী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন, নিউরো সার্জারী, সার্জারী, শিশু, প্যাথলজি, মাইক্রোবায়োলজি, গাইনী, নিউরোমেডিসিন, রেসপিরেটরি এবং রেডিওলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধানগণ।
ক্স চট্টগ্রামের প্রশাসন, পুলিশ এবং পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের প্রতিনিধিগণ।
ক্স বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠান/সংস্থা/এনজিও প্রতিনিনিধি।
এবং
ক্স সাংবাদিক প্রতিনিধিগণ।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন- যক্ষা হল একটি ইনফেকশন বা প্রদাহ যা সাধারণত ফুসফুসে আক্রান্ত হয়ে থাকে। যদিও হৃৎপিন্দ, অগ্ন্যাশয়, মাংসপেশি ও থাইরযয়েড গ্রন্থি ছাড়া শরীরের প্রায় যে কোন স্থানেই যক্ষা হতে পারে। এমনকি কিডনি, মেরুদন্ড অথবা মস্তিস্ক পর্যন্ত আক্রান্ত হতে পারে। এটি একমাত্র জীবাণু দ্বারা সৃষ্ট প্রদাহজনিত রোগ যা সারা বিশ্বে মৃত্যু কারন হিসেবে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে। ১৮৮২ সালে জার্মান বিজ্ঞানী রবার্ট কোঁখের এই রোগের কারন আবিষ্কারের পূর্ব পর্যন্ত ১৮ ও ১৯ শতকে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকাতে মহামারি হিসেবে দেখা দিয়েছিল। রবার্ট কোঁখের এই আবিষ্কারের পরে এই রোগ নির্মূলে ভ্যাক্সিন আবিষ্কার হয় ও পরবর্তীতে বিভিন্ন ওষুধ আবিষ্কারের কারনে বিশ্ব ব্যাপী এই রোগ ধীরে ধীরে কমে আসছে।
বাংলাদেশ ন্যাশনাল টিবি প্রোগ্রামের আওতায় ২০৩০ সালের মাঝে যক্ষার কারনে ৯০ শতাংশ মৃত্যুহার ও ৮০ শতাংশ প্রকোপ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তা ছাড়াও দেশজুড়ে বিনামূল্যে যক্ষারোগ নির্ণয়, রোগী সনাক্তকরণ ও চিকিৎসা প্রদানের জন্য বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী ও সহকারী অঙ্গসংগঠন, মেডিকেল কলেজ, গ্রাম, উপজেলা, থানা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্র কাজ করে আসছে। বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে টিবি বা যক্ষা আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসছে, যা প্রশংসনীয়। উপমহাদেশের মাঝে বাংলাদেশের অবস্থান প্রথম যা এম ডি আর যক্ষার দ্রুত চিকিৎসার ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ সাফল্য লাভ করেছে। এভাবে চলতে থাকলে, আশা করা যায় একসময় বাংলাদেশ যক্ষামুক্ত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে।

আরো খবর

Leave a Reply