বাংলাদেশ, বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

নাগরিক নিরাপত্তা ও আইনের শাসন

মাহমুদুল হক আনসারী
ব্যক্তি, পরিবার, সমাজকে নিয়ে রাষ্ট্র। গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচিত সরকারের সুনির্দিষ্ট কিছু জনগণের প্রতি কর্তব্য থাকে। এসব কর্তব্য রাষ্ট্রকে অবশ্যই পালন করতে হয়। রাষ্ট্রের মধ্যে জনগণের সুশৃঙ্খল জীবন পরিচালনায় অনেকগুলো সেক্টর থাকে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী থেকে জনপ্রতিনিধিত্বশীল দায়িত্বশীল বিভিন্নভাবে জননিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জাতীয় সংসদ পর্যন্ত সকলেই জনগণের প্রতিনিধি। তারা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। দেশের জনগণকে সুুষ্ঠ সুন্দর সুশাসনের মাধ্যমে পরিচালনা করতে এসব জনপ্রতিনিধি ভূমিকা রাখার কথা। মন্ত্রী পরিষদের মাধ্যমে দেশের সমস্ত প্রশাসন চলে থাকে। বাংলাদেশের সমস্ত জেলায় রাষ্ট্রের অধীনে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার রয়েছে। তারা রাষ্ট্রীয় বেতনে কর্মচারি। ইউনিয়ন থেকে জেলা পর্যন্ত সমস্ত দেশের সব ধরনের ভালো মন্দের খবর তারা রাখেন। জনগণের সুখ শান্তি নিরাপত্তা সবকিছু উল্লেখিত প্রশাসনের নাগালের মধ্যেই থাকার কথা। আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের নিরাপত্তার জন্য পাঁচ শতাধিক পুলিশি থানা রয়েছে প্রতিটি উপজেলাতে। এর বাইরেও অসংখ্য পুলিশ পাড়ি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য কাজ করছে। এতোসব কিছু শুধুমাত্র নাগরিক প্রশান্তির জন্য। জন নিরাপত্তা ও সামাজিক শান্তির জন্যেই রাষ্ট্রের এসব সেক্টর। তবুও কোনোভাবেই সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক নিরাপত্তা শান্তি মোটেও মিলছে না। একেক সময় একেক ধরনের গুজব ছড়িয়ে সামাজিক ও নাগরিক শান্তি নষ্ট করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে পদ্মা সেতুতে মানুষের কল্লা চায়, এমন ধরনের গুজব ছড়িয়ে সারা দেশে এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ গুজব টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এর ব্যাপকতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ছেলে ধরার নামে শিশু শিক্ষা নিকেতনে ভয়ভীতি চলছে। অনেক জায়গায় ছেলে ধরার নামে গণপিটুনিতে নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এসব বিষয় রাষ্ট্রের অগোচরে নয়। কথা হলো একটা বিষয় যখন মারাত্মক অপরাধে ছড়িয়ে পড়ে তখন রাষ্ট্রের টনক নড়ে। এটা কেন? কারা এ ধরনের অবস্থা পরিস্থিতি তৈরী করে রাষ্ট্রের শৃঙ্খলাকে নষ্ট করতে উঠে পড়ে লেগেছে তারা কারা? সেটা রাষ্ট্র আগেভাগে কেন জানে না, এতোগুলো রাষ্ট্রের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী থাকতে দেশ বিরোধী জননিরাপত্তা ধবংসকারী চক্রান্ত রাষ্ট্রীয় সংস্থা সমূহ কেন উদঘাটন করতে পারে না সেখানেই জনগণের প্রশ্ন। এসব বিষয়ের কী উত্তর আর কী সমাধান, সেটা গভীরভাবে রাষ্ট্রের ক্ষমতাসীনদের বের করার সময়। দেশ যখন উন্নয়ন অগ্রগতি এবং জাতীয়ভাবে কর্মসংস্থান প্রতিষ্টার দিকে এগোচ্ছে, ঠিক তখনি রাষ্ট্রে বিভিন্নভাবে গুজব ও জাতিবিরোধী ষড়যন্ত্র আমরা দেখতে পাচ্ছি। দেশ নানাভাবে অর্থনৈতিকভাবে সফলতার সিড়ি অতিক্রম করছে তখন দেশি বিদেশি নানামুখী চক্রান্ত চলছে। বিজ্ঞমহল এসব ঘটনাকে দেশকে অস্থিতিশীল ও রাজনৈতিক অর্থনৈতিকভাবে পিছনে রাখার ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে। ১৭ জুলাই বাংলাদেশের মতো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি নজিরবিহীন দেশের বিরোদ্ধে এদেশেরই একজন নারী নাগরিক বিদেশের মাটিতে দেশের বিরোদ্ধে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার জন্য নালিশ করেছে। এটাকে নিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে বিশ্লেষণ ও প্রতিবাদ আসছে। ক্ষমতাসীন ও রাজনৈতিক, সামাজিকসহ দেশের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ প্রতিবাদে মুখর হয়ে উঠেছে ওই নারীর বিরোদ্ধে। একটি কথা এখন দেশের সবত্রই শুনতে পাচ্ছি, সেটি হচ্ছে এসবের মধ্যে দেশবিরোধী গভীর ষড়যন্ত্রের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আট-দশ দিন পূর্বে খবরের কাগজে দেখলাম বাংলাদেশে এগারো লাখের অধিক রোহিঙ্গা শরণার্থী সম্পর্কে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিছুই জানে না। অথচ ওই আমেরিকার রাষ্ট্রদূত বছরে অন্তত পাঁচবার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। তার দেশের অনেক এনজিও সেখানে কর্মরত আছে। আন্তর্জাতিক হাজারের অধিক সেচ্ছাসেবী সংগঠন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাজ করছে। সারা পৃথিবী নানাভাবে মায়ানমারের সামরিক সরকারের সমালোচনা করছে। রোহিঙ্গা নাগরিকদের প্রতি সহানুভূতি সহমর্মিতা সাথে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে মানবিক সাহায্যে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় প্রদানে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন। অথচ এতোগুলো রোহিঙ্গা নির্যাতিত মানুষ বাংলাদেশে আশ্রয় পেয়েছে, কিন্তু সে কথা নাকি মিস্টার ট্রাম্প জানেন নি। এ হচ্ছে প্রকৃতপক্ষে বিশ্বের নির্যাতিত মুসলমান ও মুসলিম বিশ্বের প্রতি তাদের অবস্থান। মায়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গা উদ্বাস্ত মানুষগুলো বাংলাদেশের নিরাপত্তা, অর্থনীতি উন্নয়নের জন্য গভীর সংকট। এ সংকটের পেছনে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র এখন পরিষ্কার। যেকোনো মূল্যে রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন জাতির এক নম্বর দাবি। এটা দ্রুততার সাথে সমাধান করতে সরকারকে সমস্ত কিছুর উপর গুরুত্ব দেয়া উচিত। এবং বাস্তবায়ন করতে হবে। সচেতন মহল মনে করছে উদ্বাস্ত এসব জনগণকে দিয়ে বাংলাদেশকে যেকোনো ধরনের আইনশৃঙ্খলা বিরোধী সংকটে ফেলতে পারে। ধর্মীয় হানাহানি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও জঙ্গি কর্মকান্ড তৈরী হতে পারে। এসব কিছুর পেছনে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র আছে বলে মনে হচ্ছে। উপরে যেসব বিষয় আলোচনায় আনা হয়েছে সবকিছুর সাথে একটা যোগসূত্র রয়েছে। রাষ্ট্রকে অস্থির করার জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং আইনের শাসন ধ্বংস করতে পারলেই যথেষ্ট। বর্তমানে সে ধরনের পরিস্থিতির দিকে দেশকে নিয়ে যাচ্ছে বলে সচেতন মহল মনে করছে। এ ধরনের পরিস্থিতি কোনোভাবেই একটি গণতান্ত্রিক স্বাধীন দেশে চলতে দেয়া যায় না। কোনো অবস্থায় গুজব রচনাকারী এবং গুজবের মাধ্যমে আইনকে নিজের হাতে নিয়ে কোনো জীবনকে ধ্বংস করতে দেয়া যায় না। শক্ত হাতে রাষ্ট্রকে এসব ষড়যন্ত্রের মূলকে চিহ্নিত করতে হবে। কোথা থেকে এসব আসছে এবং নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে তা বের করার দায়িত্ব দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। এভাবে আইন যদি চক্রান্তকারীরা নিজের হাতে নিয়ে একের পর এক ঘটনা ঘটাতে থাকে তাহলে রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা যেকোনো মুহুর্তে ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে বেশি সময় লাগবে না। অবৈধ অস্ত্র সন্ত্রাসী সে যেই হোক না কেন, তাকে প্রচলিত আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তির মাধ্যমে দেশ ও জাতির স্বস্তির স্থিতিশীল পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব সরকারের।

শেয়ার করুনঃ

আরো খবর

Leave a Reply