বাংলাদেশ, রবিবার, ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং, ৩০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে ফার্স্ট ক্লাস পেলেন জিনিয়া আকতার পিয়ানো

বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠান। আর এই অনুষ্ঠানটি ঘিরে মিলন মেলায় পরিণত হয় নগরীর নেভি হল কনভেনশন হল। দীর্ঘদিনের চেনা জানা সহপাঠীদের পেয়ে ছাত্র/ছাত্রীরা আনন্দে আত্মহারা ছিলেন। জিনিয়া আকতার পিয়ানো প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত একজন মেধাবী ছাত্রী। জিনিয়া আকতার পিয়ানো বলেন- অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ছাত্র জীবনের অবসান ঘটিয়ে বিশেষ দিনটিকে আলিঙ্গন করলাম সমাবর্তনের মধ্য দিয়ে আমার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে ফার্স্ট ক্লাস পেয়ে আমি অনার্স ডিগ্রী সম্পন্ন করেছি। সমাবর্তনটি ২১ জুলাই নগরীর নেভি কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত হয়। পুরো কনভেনশন প্রাঙ্গণে আমার মত হাজার গ্র্যাজুয়েট এর কলকাকলিতে মুখরিত ছিল। অনুষ্ঠানের পাশাপাশি চলছিল দুর্লভ মুহূর্তগুলো ক্যামেরা ফ্রেমে বন্দীর প্রচেষ্টা। ক্যাপ আকাশ মুখে ছুড়ে জানালাম, আজ থেকে আমি গ্র্যাজুয়েট। আমাদের নির্দিষ্ট পোশাক আর বিশেষ “গ্র্যাজুয়েট ক্যাপ” পেয়ে কতটা গর্বিত লাগছিল, ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়। আমার এই সাফল্য আমার মা-বাবা, ছোট ভাই, শিক্ষক শিক্ষিকাদের উৎসর্গ করছি। বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি মরহুম এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী’র প্রতিষ্ঠিত প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের একটি প্রতিষ্ঠিত বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ৮ হাজার শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা গ্রহন করছে। দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ১ হাজার ১১২ জনকে ডিগ্রী প্রদান করেন।

টাইগারপাস নেভি কনভেনশন সেন্টারে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন একুশে পদক প্রাপ্ত সমাজ বিজ্ঞানী ও প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য প্রফেসর ড. অনুপম সেন। সমাবর্তনে বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- ইস্ট ওয়েষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্ণর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফরাস উদ্দিন। প্রধান অতিথি ছিলেন- শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। শিক্ষা মন্ত্রী ড. দীপু মনির উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে তিনি আসতে পারেননি। কালো গাউন আর মাথায় ক্যাপ পরে আসা গ্র্যাজুয়েটরা ব্যস্ত হয়ে পড়েন সেলফি আর নিজেদের ক্যামেরায় বন্দি করতে, আনন্দে উচ্ছ্বাসে কাটলো একটি দিন। দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে আজীবন। বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে চলে যাওয়ার বেদনার পাশাপাশি গ্র্যাজুয়েট স্বীকৃতির আনন্দ রয়েছে। একজন শিক্ষার্থীর কাছে তার জীবনের বড় পাওয়া হলো- গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রীর স্বীকৃতি। আর এই স্বীকৃতি যদি একটি আদর্শ বিদ্যাপীঠ থেকে হয়, তাহলেইতো কথাই নেয়। একটি সুন্দর জীবনের চলার পথের জন্য একটি আদর্শ বিদ্যাপীঠের গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রীর স্বীকৃতি যেমন সম্মানজনক তেমনি আনন্দদায়াকও। সামনের দিনগুলোতে ফেলে আসা স্মৃতিগুলোকে মনে করে অভিজ্ঞতাটি কাজে লাগিয়ে আরো বহুদুর এগিয়ে যাবো এমনটি প্রত্যাশা রাখি। যখন যেখানেই থাকিনা কেন, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি দিনগুলোর কথা মনের মনি কোটায় গেঁথে থাকবে চিরদিন।

আরো খবর

Leave a Reply

Close