বাংলাদেশ, শুক্রবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং, ৫ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ধর্ষণের ঘটনা আর কতো?

কাজী অমিত হাসান 

ধর্ষণ সমাজের একটি অভিশাপ। এমনকি ধর্ষণ ক্যান্সারের সমতুল্য। ঘূণ যেমন কাঠকে খেয়ে ফেলে ঠিক তেমনি ধর্ষণ সমাজকে নষ্ট করে ফেলে।আমাদের সমাজে প্রতি-নিয়ত যেখানে সেখানে মা-বোনরা ধর্ষিত হচ্ছে। ধর্ষণ আজকাল দৈনন্দিন পেশার মত হয়ে যাচ্ছে।প্রতিদিন সংবাপত্র খুললেই এখানে সেখানে ধর্ষণ ও ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে। এ সব আর কত?? যতই দিন যাচ্ছে ততই ধর্ষণের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে শিক্ষা ও উন্নতিতে বাংলাদেশ অনেক অগ্রসর হয়েছে।তাহলে কি ধর্ষণ শিক্ষার মূলমন্ত্র হয়ে গিয়েছে? শিক্ষা ও উন্নতির সাথে সাথে ধর্ষণ ও বৃদ্ধি পাচ্ছে।তবে কি বলব আমরা শিক্ষিত হয়েছি কিন্তু স্বশিক্ষিত হতে পারি নি।তবে এটা ভেবে সব চেয়ে বেশি লজ্জা লাগে যে,একজন শিক্ষক কিভাবে ধর্ষক হয়।যারা জাতী গড়ার মহান কারীগর তারাই ধর্ষক! ছি! এর চেয়ে লজ্জা মানব জাতির জন্য আর কি হতে পারে? মহান সৃষ্টিকর্তার পর মামা-বাবা ও শিক্ষকের স্হান। মা-বাবা যেমন প্রিয় শিক্ষক ও তেমনি। সেই শিক্ষকেই যখন ধর্ষক হয় তখন এর চেয়ে অবমাননা মানব জাতির জন্য আর কি হতে পারে? (যেমন যারা ধর্ষণ করে তাদের মধ্য মাদকাসক্ত, মানসিকভাবে অসুস্হ, বাস ড্রাইভার,ছাত্র ও পুলিশের সংখ্যা ইত্যাদি। এরাই বেশি ধর্ষক হয় কিন্ত এদের চেয়ে মারাত্নক ও ভয়াবহ ধর্ষক হলো একজন শিক্ষক।আমাদের দেশে বেশির ভাগ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা ধর্ষণ করে থাকে।এরা নানান ধরনের কৌশল ব্যবহার করে ছাত্রীদের ধর্ষণ করে থাকে।) এই সব শিক্ষকেরা হলো সমাজের ক্যান্সার।যেহেতু ধর্ষণ একটি মারাত্মক ব্যাধি। বর্তমান সমাজে ধর্ষণ মারাত্নক রুপ ধারণ করেছে। যেহেতু বাংলাদেশ মুসলিম প্রধান দেশ।তাই কিছু মুসলিম মানুষ নারীদের পোশাককে ধর্ষণের প্রধান কারণ মনে করেন। পোশাক কখনো ধর্ষণের কারণ কতে পারে না।তাহলে সেই মুসলিম ভাইদের বলতে চাই, আমরা তো মুসলিম জাতি আদর্শ ও শ্রেষ্ঠত্বের সর্বোত্তম অধিকারী।প্রকৃতপক্ষে মুসলিম ব্যাক্তি ধর্ষক হতে পারে না।আমরা তো সবাই হযরত ইউসুফ ও জোলেখার জীবন কাহিনী জনি।জোলেখা সব কাপড় খুলে দিয়েও হযরত ইউসুফ ( আঃ) কে দিয়ে ধর্ষণ করাতে পারে নি। যদি কোনো নারী কোনো মুসলিম ব্যাক্তির সামনে সম্পূর্ণ উলঙ্গ হয়েও থাকে তাহলেও সেই ব্যাক্তি ঐ নারীকে ধর্ষণ করা তো দূরের কথা তার দিকে ফিরেও তাকাবে না।আর সেই মুসলিম ব্যাক্তিরা নারীদের পোশাক নিয়ে মন্তব্য করে।(যেমন আমরা রমজান মাসে রোজা রাখি, ইতারের পূর্বে খানা নিয়ে বসে থাকি। যতই সুস্বাদু খাবার থাক না কেন ইফতারের সময় না হলে কোনো খানাই খাই না। মহান আল্লাহু যখন হুকুম করেছেন তখনেই খাই তার আগে নয়।ঠিক তেমনিভাবে রাস্তাঘাটে কোনো নারীকে দেখে মনে করি আমার বোন, মেয়ে ও মা। তাহলে কিন্তু আমরা ধর্ষণের কথা চিন্তাও করতে পারি না।আচ্ছা আমাদের মা-বোনদের শরীরে যেই পোশাক থাকুক না কেন আমরা কি তাদের দিকে ধর্ষণের নজরে তাকাই? তা পরিশেষে বলি, ধর্ষণ এমনিই একটি ব্যাধি যার ঝাঁঝ এত মারাত্মক যে পৃথিবীর সূচনাকাল থেকে শুরু করে বর্তমান কাল পর্যন্ত ধর্ষণ চলতেছে আর চলবেই। সামাজিক ও সরকারিভাবে যতই আইন-কানুন করা হোক কেন ধর্ষণ সমাপ্তি করা অসম্ভব। ধর্ষণের শাস্তি যদি প্রকাশ্যে মৃত্যুদন্ড করা হয় তবুও ধর্ষণকে সম্পূর্ণ সমাপ্তি ঘটানো যাবে না।ধর্ষণের সমাপ্তি ঘটাতে হলে সর্ব প্রথম আমার নিজেকে পরিবর্তন ও সচেতন হতে হবে।কারণ আমি সচেতন হলে আমার পরিবারকে সচেতন করতে পারব। আমার পরিবার সচেতন হলে সমাজও সচেতন থাকবে।আর সমাজ সচেতন হলে ধর্ষণের সমাপ্তি ঘটবেই। আসুন না আমরা সবাই চেষ্ট করে দেখি,আমাদের সমাজ থেকে ধর্ষণের অভিশাপ মুক্ত করতে পারি কি না?

আরো খবর

Leave a Reply