বাংলাদেশ, বুধবার, ২৪শে জুলাই, ২০১৯ ইং, ৯ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

মীরসরাই ট্র্যাজেডি দিবস আজ

জিয়াউর রহমান জিতু
৮ বছর আগে আজকের এই দিনে ২০১১ সালের ১১ জুলাই মীরসরাই স্টেডিয়াম থেকে বঙ্গবন্ধু ফুটবল টুর্নামেন্ট খেলা দেখে ট্রাকে করে বাড়ি ফিরছিল আবু তোরাব উচ্চ বিদ্যালয়, আবু তোরাব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রফেসর কামাল উদ্দিন চৌধুরী কলেজ ও আবুতোরাব মাদ্রাসার প্রায় ৭০ জন ছাত্র। এ সময় বড়তাকিয়া-আবুতোরাব সড়কের সৈদালী এলাকায় ছাত্রদের বহনকারী ট্রাক উল্টে গিয়ে সৈদালীর একটি রাক্ষুসী খাদে পড়ে ৪৩ জন ছাত্রসহ মোট ৪৫ প্রাণের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। সেই দিনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আজও তাড়া করে বেড়ায় মীরসরাইয়ের মানুষকে। মীরসরাই ট্র্যাজেডি এক বিভীষিকার গল্পের নাম। একে একে ৪৫টি জীবনের কঠিন নিয়তির গল্প। ৪৫টি পরিবারের সারা জীবনের অশ্রুপাতের গল্প। মুহূর্তেই হইচই পড়ে গেল ঘটনাস্থলে। আশপাশের সবাই ছুটে এল ঠিকই, বাঁচানো গেল না পিকআপের তলানিতে আটকে পড়া কোনো ক্ষুদে ছাত্রদের। একে একে নিস্প্রাণ হলো ৪৫টি তাজা জীবন। বিশ্বের আলোচিত মীরসরাই ট্র্যাজেডির ৮ম বার্ষিকী আজ ১১ জুলাই।
৮টি বছর পার হয়ে গেলেও এখনো কান্না থামেনি সন্তান হারা মায়েদের। এখনো ছেলের ছবি নিয়ে নীরবে নিভৃতে কাঁদেন গর্ভধারিণী মায়েরা।  গভীর রাতে ভেসে আসে কান্নার রোল। স্মৃতি বলতে শুধু ছবির ফ্রেমই রয়েছে। ছেলে হারা বাবা-মায়ের সেই ছবি নিয়ে বুক চাপড়াতে চাপড়াতে আহাজারি করতে থাকেন। আবার কখনো কখনো নীরব নিস্তব্ধ হয়ে একেবারেই নির্বাক। সন্তান জন্ম নেয়ার পর অনেক বাবা-মা তাদের আদরের সন্তানের জন্মদিন পালন করে থাকেন। কাটা হয় কেক। আয়োজন করা হয় হয়ে থাকে রকমারি খাবারের। কিন্তু কোনো মা-বাবা কি আদরের সন্তানের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করতে পারে! ২০১১ সালের ১১ জুলাই মীরসরাইয়ে ঘটেছিল তেমনি একটি ঝড়। ঝড়ের কবলে পড়ে বাবার কাঁধে উঠেছিল আদরের সন্তানের লাশ।
সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের উদ্যোগে সেই খাদে নির্মিত হয়েছে স্মৃতিসৌধ অন্তিম এবং বিদ্যালয়ের মূল ফটকে স্মৃতিসৌধ আবেগ নির্মাণ করেন তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া।

আরো খবর

Leave a Reply