বাংলাদেশ, বৃহস্পতিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং, ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

প্রশাসনের সমন্বয়হীনতা ও জবাবদিহিতার অভাবে চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা- জলমগ্ন চট্টগ্রাম নগরীকে বাঁচাতে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চায় ক্যাব

মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর বিশেষ আনুকূল্যে চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিসরনে ৫ হাজার ৬শত ১৬ কোটি টাকার মেঘা প্রকল্প নেয়া হলেও প্রকল্প শুরুর ৩ বছরের মাথায় ২দিনের বৃষ্ঠিতে পুরো নগর জলমগ্ন হয়ে অতি সামান্য বৃষ্ঠিতে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী, বানিজ্যিক রাজধানী খ্যাত চট্টগ্রাম পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে, ব্যবসা বানিজ্য, অফিস আদালত, বাসা বাড়ী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিল্প কলকারখানা, নগরীর প্রধান সড়কগুলি তলিয়ে জনজীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে যাচ্ছে। অথচ সরকার চট্টগ্রামবাসী এ যন্ত্রনা লাগবে বিপুল বরাদ্ধ প্রদান করলেও প্রকৃতপক্ষে জলাবদ্ধতা নিরসনে কিছু রাজনৈতিক বুলি, কিছু সভা সমাবেশ ও বিলবোর্ড, ফেস্টুন ছাড়া অর্জন হয়নি। আর এ জন্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মাঝে সমন্বয়হীনতা যেরকম ছিলো, তেমনি অর্থ বরাদ্ধ দেবার পরও প্রকল্পের অগ্রগতি না হওয়াকে প্রশাসনের ভেতরে জবাবদিহিতার অনুপস্থিতিকে দায়ী করছেনদেশের ক্রেতা-ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষনকারী প্রতিষ্ঠান কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগ ও মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দ। এ অবস্থায় চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম নগরের উন্নয়নে নিয়োজিত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম ওয়াসা, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় জোরদার ও এ সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

চট্টগ্রামে বৃষ্ঠিতে জলমগ্ন হওয়ায় প্রশাসনের নির্লিপ্ততায় এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল লোকজন ও স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে অক্ষমতার কারনে বরগুনার চাঞ্চল্যকর রিফাত হত্যার মূল আসামি নয়ন ভন্ড ও রিফাত ফরায়েজীদের ধরতে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীকে নির্দেশ দিতে হচ্ছে। চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগা প্রকল্প নেয়া হলেও অগ্রগতি শুন্যের কৌটায়। যদিও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে সাবেক চেয়ারম্যান জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য ৫ হাজার ৬শত ১৬ কোটি টাকার প্রকল্পের কথা বলে পুরো নগরীতে বিলবোর্ড ও ফেস্টেুনে ছড়িয়ে দেবার পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়েও ওঠান বৈঠকসহ নানা সমাবেশ করে নিজের ডাকঢোল পিঠালেও জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রকৃত কোন অর্জন হয়নি। যার কারনে একটুখানি বৃষ্ঠি হলেওই নগরী তলিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে নগরবাসীর জীবনযাত্রা ও নরগ যন্ত্রনা লাগবের দায়িত্ব নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন দায় এড়ানোর যে বক্তব্য দিচ্ছে তা কোন ভাবেই গ্রহনযোগ্য নয়। কারন চট্টগ্রাম সিটিকর্পোরেশন জনগনের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি দ্বারা পরিচালিত। সিডিএ বা ওয়াসা জলাবদ্ধতার জন্য দায়ী বলে পার পাবার কোন সুযোগ নেই। নগরীর নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসাবে সিটিকর্পোরেশনকে জনগনের যাবতীয় সুখ ও দুঃখের অংশীদার হতে হবে।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন সরকারের সংস্লিষ্ঠ দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, এমপি ও জনপ্রতিনিধিরা জলমগ্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে নিজেরা জলাবদ্ধতা তাদের আওতা বর্হিভুত দাবি করে নিজেরা দায় এড়ানোর চেষ্ঠা ও জলমগ্ন মানুষগুলিকে উদ্ধার করে দ্রুত চট্টগ্রাম নগরীকে জলাবদ্ধতা থেকে বাঁচানো তাৎক্ষনিক উদ্যোগ না নিয়ে এবং পানিতে তলিয়ে যাওয়া রোধে করনীয় নিয়ে সীমাহীন দায়িত্বহীনতার পরিচয় প্রদানের কারনে চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা ও পাহাড় ধ্বস এর মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারনে শিল্প, ব্যবসা বানিজ্য, অফিস আদালতের কর্মঘন্টা, শিক্ষা ও জীবন জীবিকায় কোটি কোটি টাকার ক্ষয় ক্ষতি হচ্ছে যা জাতীয় অর্থনীতিতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্ঠি করছে। জলাবদ্ধতার কারনে রাস্তাঘাট যেভাবে চলাপচলের অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে, সেভাবেই এর ক্ষয়ক্ষতির পরিমানও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ধীরে ধীরে চট্টগ্রাম নগরী ব্যবসা, বানিজ্য ও বসবাসের অযোগ্য হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে নতুন নতুন প্রকল্পের আশ্বাস ছাড়া নগরবাসীর নরক যন্ত্রনা লাগবে তাৎক্ষনিক প্রতিকারে কোন কার্যকর উদ্যোগ নেয়া না হলে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড সম্পর্কে জনগনের মনে নেতিবাচক ধারনা তৈরী হবে। যা সরকারের যাবতীয় উন্নয়ন কর্মকান্ডকে ম্লান করবে।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন ক্যাবসহ বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন নালা নর্দমা ও খালগুলি দ্রুত সংস্কার করে জলাবদ্ধতা নিরসণের দাবি জানালেও প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষ সেখানে কর্নপাত না করার কারনে বর্তমানে চাক্তাই খালের উপরের অংশে প্রশস্ততা ৩৫ফিট হলেও নীচের অংশে গিয়ে ১৫ফিটে দাঁড়িয়েছে, ফলে বৃষ্ঠি হলেই পানি নিষ্কাষনের পরিবর্তে নগরী জলমগ্ন হয়ে উঠে। নগরীর পানি নিস্কাষনের ড্রেন, নালা, নর্দমা ও খাল গুলি ভরাট হয়ে গেছে, অনেকগুলি স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের দখলে গিয়ে দালান বিল্ডিং নির্মিত হয়ে নগরীর পানি নিষ্কাষনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্ঠি করছে, এ চক্রটি চাক্তাইখাল খননে প্রতিবন্ধকতা তৈরী করছে, ফলে নগরীতে একটু বৃষ্ঠি হলেই নীচু এলাকা তলিয়ে যাচ্ছে। সিটিকর্পোরেশন ও সিডিএ নগরীর খাল ও নালাগুলি সংস্কারের নামে বিপুল অংকের অর্থ খরচ দাবি করলেও অদ্যবদি দখলে যাওয়া খাল ও ভরাট হয়ে যাওয়া খাল-নালাগুলি দখলমুক্ত ও যথাযথ সংস্কার করেনি। সামান্য বৃষ্ঠি ও জোয়ারের পানিতে নগরীর বহদ্দারহাট, চান্দগাঁও, মুরাদপুর, খাতুনগঞ্জ, ২নং গেট, চকবাজার, সাবানঘাটা, মোহরা, বাকলিয়া, আগ্রাবাদ, বন্দর, হালিশহর, নিউ মুরিং, মাইজপাড়া, পতেঙ্গাসহ অনেক এলাকা জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত হয়ে যাচ্ছে। চাক্তাই খালের দু’ধারে ওর্য়াকওয়ে নির্মান ও অবৈদখলমুক্ত করার সিদ্ধান্ত  রহস্যজনক কারনে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না এবং এপর্যন্ত একটি অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করা হয়নি, অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে সিডিএ, সিটিকর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে একটি মামলাও করা হয়নি।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ সরকারের অর্থে গৃহিত প্রকল্পগুলির গা ছাড়া ভাব, যে যার ইচ্ছামতো অর্থ প্রকল্পের নামে ব্যয় না করে বিদেশ ভ্রমন, শিক্ষা সফর, কয়লা প্রকল্পের ন্যায় বালিশ কিনতে ও তুলতে বিপুল অপচয়ের মতো নয়-ছয় করা হলে জনগনের করের টাকার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত না হলে জনগন কর প্রদানে বিরূপ হবে। আর বিভিন্ন প্রকল্পে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে নাগরিক পরীবিক্ষন যেমন দরকার তেমনি প্রশাসনের সত্যিকারের জববাদিহিতা নিশ্চিতে সর্বস্তরে নাগরিক সমাজের সত্যিকারের অংশগ্রহন ও মতামত নিশ্চিত করা প্রয়োজন। যদি এটা না হয় তাহলে জবাবদিহিতার নামে প্রতিবেদন তৈরী হবে, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হবে না।

বিবৃতিতে যারা স্বাক্ষর করেছেন তারা হলেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, যুগ্ন সম্পাদক আবু মোশারফ রাসেল, মহানগর সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু, সাধারন সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, যুগ্ন সম্পাদক এএম তৌহিদুল ইসলাম, দক্ষিন জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল মান্নান প্রমুখ।

আরো খবর

Leave a Reply