বাংলাদেশ, সোমবার, ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং, ১লা পৌষ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

প্রকল্প বাস্তবায়নে পাহাড়ি-বাঙ্গালী বৈষম্যের প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ

 

শংকর চৌধুরী,খাগড়াছড়ি

খাগড়াছড়িতে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে পাহাড়ি-বাঙ্গালী বৈষম্য আর বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে ভবন নির্মানের প্রতিবাদে, বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ।

সোমবার দুপুরে শহরের শাপলা চত্ত্বরে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন, পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্রপরিষদের কেন্দ্রীয় আহবায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক কন্দ্রীয় সভাপতি ইঞ্জি. আব্দুল মজিদ। জেলা সভাপতি মোঃ আসাদুল্লাহ আসাদের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন, জেলা শাখার সহ-সভাপতি মোঃ সুমন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহাদাৎ হোসেন কায়েশ, সহ- সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাইফুল ইসলাম প্রমূখ।

এসময়,পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়, ইউএনপিডি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক খাগড়াছড়ির বিভিন্ন উপজেলায় গবাদি পশু, সেচ পাম্প ও পাওয়ার টিলার বিতরণ সহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে পাহাড়ি-বাঙ্গালী বৈষম্য করছে বলে অভিযোগ করা হয়। সকল বৈষমের প্রতিবাদ জানিয়ে বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত পাহাড়ি-বাঙ্গালী সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার স্বার্থে পার্বত্যাঞ্চল থেকে প্রত্যাহারকৃত সেনাক্যাম্পের খাসভূমি দখলরোধ করতে এবং পাহাড় হতে সন্ত্রাস নিমূলে পার্বত্য চট্টগ্রাম হতে ইতিপূর্বে প্রত্যাহারকৃত সকল সেনা ক্যাম্প পুনঃস্থাপন ও নতুন নতুন সেনা ক্যাম্প স্থাপন করতে হবে। এছাড়া পার্বত্য জেলা পরিষদ কতৃক খাগড়াছড়ি জেলা শহরের টিএন্ডটি গেইট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে ভবন নির্মান কাজ বন্ধ করে দ্রুত উক্ত মাঠ বিদ্যালয়ের নামে বন্দোবস্তি দেওয়ার দাবি জানো হয় বিক্ষোভ মিছিল উত্তর প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে।

বক্তারা বলেন, বাঙ্গালিরা যুগ যুগ ধরে সর্বক্ষেত্রে সরকারি সুযোগ সুভিধা থেকে বঞ্চনা ও বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে। সম্প্রতি, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ কর্তৃক জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কৃষি সরঞ্জামাদি বিতরনের খতিয়ান থেকে বিষয়টি আবারো প্রতীয়মান হয়েছে। সর্বশেষ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ইউএনডিপির আওতায় খাগড়াছড়ির বিভিন্ন উপজেলায় কৃষকদের মাঝে সেচ পাম্প ও পাওয়ার টিলার বিতরণের মধ্যেও বৈষম্য সৃষ্টি করেছে, বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ। সরঞ্জামাদি বিতরণ করার ক্ষেত্রে বাঙ্গালিদেরকে নামমাত্র অংশীদার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বক্তারা।

নেতৃবৃন্দ বলেন, কৃষি সরঞ্জামাদি বিতরনের ক্ষেত্রে এই বৈষম্যের দায়ভার পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় কোন ভাবে এড়াতে পারে না। তাছাড়া একজন স্থানীয় প্রতিনিধি অবশ্যই সকল ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করবেন, কিন্তু খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ‘কংজরী চৌধুরী বেশ কয়েকটি উপজেলায় নিজ হাতে সরঞ্জাম বিতরণ করলেও তিনি পাহাড়ি-বাঙালী বৈষম্যের বিষয়টি নিয়ে কোনো আওয়াজ করেননি। সুতরাং এরকম একজন সাম্প্রদায়িক মানসিকতার চেয়ারম্যান দিয়ে পার্বত্য জেলা পরিষদ চলতে পারেনা বলে দাবি পিবিসিপি নেতৃবৃন্দের।

জেলা শহরের টিএন্ডটি গেইট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে প্রবীন হিতৈষী সংঘের ভবন নির্মান করার বিষয়ে নেতবৃৃন্দ অভিযোগ করে বলেন, একজন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কিভাবে একটি বিদ্যালয়ের সাইন বোর্ড ভাংতে পারেন? এ ঘটনায় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরীর পদত্যাগ দাবি করে, অবিলম্বে উক্ত বিবাদমান মাঠ বিদ্যালয়ের নামে বন্দোবস্তির দাবি জানান তারা।

এসময়, পিবিসিপি নেতৃবৃন্দ উক্ত ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরীর মতো একজন অনির্বাচিত, অযোগ্য ও সাম্প্রদায়িক চেতনা সমৃদ্ধ ব্যক্তিকে অপসারণ করে শীঘ্রই নির্বাচনের মাধ্যমে জেলা পরিষদে একজন নির্বাচিত ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার জনপ্রতিনিধিকে দ্বায়িত্ব দিতে স্থানীয় সাংসদের মাধ্যমে সরকারের নিকট জোর দাবি জানানো হয়।

সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে জেলা শাখার যুগ্ন সম্পাদক মোঃ ওমর ফারুক, মোঃ সোহেল রানা, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আশ্রাফুল আলম রনিসহ সংগঠনটির বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরো খবর

Leave a Reply

Close