বাংলাদেশ, শনিবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং, ৬ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনার ট্রেনে হামলা: ৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন ২৫

 

পাবনা প্রতিনিধি

ঈশ্বরদীর বহুল আলোচিত শেখ হাসিনার ট্রেনবহরে গুলিবর্ষণের মামলার রায় আজ বুধবার সকালে জনাকীর্ণ আদালতে ঘোষণা করা হয়েছে। রায়ে ৫২ জন আসামির মধ্যে ৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, ২৫ জনের যাবজ্জীবন এবং ১৩ জনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে ৫ জন ইতোমধ্যেই মারা গেছেন। বুধবার দুপুর ১২টায় এ রায় ঘোষণা করেন পাবনার স্পেশাল ট্রাইবুনালের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-১ এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক রুস্তম আলী।

পাবনার ঈশ্বরদীতে ১৯৯৪ সালে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ট্রেনে গুলি ও বোমা হামলা করা হয়। ঘটনার ২৫ বছর পর এ মামলার রায় ঘোষণা করা হল। এ ঘটনায় ঈশ্বরদী রেলওয়ে পুলিশের দায়েরকৃত এ মামলার মোট ৫২ আসামির মধ্যে জীবিত আছেন ৪৭ আসামি। তাদের মধ্যে কারাগারে থাকা ৩২ জনকে বুধবার আদালতে হাজির করা হয়।

১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় কর্মসূচিতে ট্রেন বহর নিয়ে খুলনা থেকে ঈশ্বরদী হয়ে সৈয়দপুর যাচ্ছিলেন। যাত্রাপথে সন্ধ্যার দিকে ট্রেনটি ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্টেশনে প্রবেশের সময় রেলগেট এলাকায় হঠাৎ করেই ট্রেন ও শেখ হাসিনার কামরা লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ ও বোমা নিক্ষেপ করা হয়। এ ঘটনায় পরবর্তীতে ঈশ্বরদী রেলওয়ে পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করে।

মামলায় প্রথমে বিএনপি নেতা জাকারিয়া পিন্টুসহ ৭ জন আসামি থাকলেও পরবর্তীতে সিআইডি অধিকতর তদন্ত শেষে মোট ৫২ জনকে আসামি করে চার্জশিট দাখিল করে। এদের মধ্যে ৫ জন মারা গেছেন। বাকি ৪৭ আসামির ৩২ জন কারাগারে ও ১৫ জন এখনও পলাতক রয়েছেন।

এরপর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে পুলিশ মামলাটি পুনঃ তদন্ত করে। তদন্ত শেষে নতুনভাবে ঈশ্বরদীর শীর্ষ স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ ৫২ জনকে এই মামলার আসামি করা হয়। মামলাটি দায়েরের পর এই মামলায় পুলিশ কোনো সাক্ষী না পেয়ে আদালতে চূড়ান্ত রিপোর্টও দাখিল করে। কিন্তু সে সময় আদালত সে রিপোর্ট গ্রহণ না করে অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি সিআইডির হাতে হস্তান্তর করে। পরে সিআইডি তদন্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।

প্রথম চার্জশিটের ৭ আসামির বাইরেও এই মামলায় যাদের নতুনভাবে যুক্ত করা হয় তাদের মধ্যে রয়েছেন, ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মকলেছুর রহমান বাবলু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র শামসুল আলম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন বিশ্বাস, পাবনা জেলা বিএনপির মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক কে এম আক্তারুজ্জামান আক্তার, পাকশীর সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, সাহাপুরের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নেফাউর রহমান রাজু, সাবেক ছাত্রনেতা মাহবুবুর রহমান পলাশ, সাবেক ভিপি রেজাউল করিম শাহীন, যুবদল নেতা আজিজুর রহমান শাহীন, সেলিম আহমেদ, পৌরসভার কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন জনি, বিএনপি নেতা ইসলাম হোসেন জুয়েল, শহীদুল ইসলাম অটল ও আব্দুল জব্বারসহ প্রমুখ। এদের সবাই বিএনপি নেতা।

আরো খবর

Leave a Reply