বাংলাদেশ, বুধবার, ২৪শে জুলাই, ২০১৯ ইং, ৯ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সিন্ডিকেটের পকেট নিরাপদ রাখতে জনগণের পকেট কাটছে সরকার

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উদ্যোগে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে কেন্দ্র ঘোষিত বিক্ষোভ সমাবেশে ডাঃ শাহাদাত হোসেন

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডাঃ শাহাদাত হোসেন বলেছেন, মধ্যরাতের নির্বাচনের সরকার সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে বিনা কারণে গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। গ্যাসের মূল্য এক লাফে গড়ে ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়ানো হলো। দেশের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় হারের মূল্য বৃদ্ধি। এই পর্যন্ত গত ১০ বছরে ৬ বার গ্যাসের দাম বাড়ালো। অপ্রয়োজনীয় এল এন জি আমদানীর ঘাটতি মিটাতেই গ্যাসের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিলো সরকার। এ দাম বৃদ্ধির ফলে বছরে সব গ্রাহকের অতিরিক্ত খরচ হবে আট হাজার ৬২০ কোটি টাকা। এভাবে দাম বৃদ্ধির কারণে জীবন যাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সাধারণ মানুষের জীবন যাপন হবে আরো কষ্টকর। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষগুলোকে জীবন চালাতে হিমশিম খেতে হবে। শুধুমাত্র সরকার দলীয় ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটকে আরো বেশী লুটপাটের সৃুযোগ দিতে এই সিদ্ধান্ত। সিন্ডিকেটের পকেট নিরাপদ রাখতে জনগণের পকেট কাটছে সরকার। তিনি ২ জুলাই মঙ্গলবার বিকালে নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয় মাঠে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উদ্যোগে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে কেন্দ্র ঘোষিত বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে এ কথা বলেন। এতে তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রামে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী ২৫ হাজার আবাসিক গ্রাহকের কাছ থেকে ডিমান্ড নোটের কোটি কোটি টাকা গ্রহণ করেও আজ পর্যন্ত আবাসিক সংযোগ প্রদান করেননি। এটা শুধু অমানবিক নয় এটা গ্রাহকের সাথে প্রতারণাও। তিনি বলেন, দেশে এখন গণতন্ত্র নেই, মানুষের জীবনের নিরাপত্তা ও বেঁচে থাকার অধিকার নেই

আওয়ামী সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে বিশ্বজিতকে কুপিয়ে হত্যা করলেও আসামীরা ছাড়া পেয়ে যায়। রিফাতকে সরকারী দলের ক্যাডাররা প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করেছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে দেশে এভাবে হত্যাযজ্ঞ চলছে। গণতন্ত্র না থাকায় মানুষের নীতি নৈতিকতা হারিয়ে যাচ্ছে। সমৃদ্ধির বাংলাদেশ এখন অগণতান্ত্রিক, অনিরাপদ ও সর্বোচ্চ দুর্নীতিগ্রস্ত রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। তিনি বেগম খালেদা জিয়ার জামিন প্রক্রিয়ায় বাঁধা সৃষ্টি এবং গণবিরোধী গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসার আহবান জানান। অন্যথায় এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে চট্টগ্রামবাসীকে সাথে নিয়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম বক্কর বলেন, গণবিরোধী বিরোধী গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সার্বিক কুপ্রভাব পড়বে শিল্পায়ন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের উপর। বিদ্যুৎ, গণপরিবহন এবং শিল্প উৎপাদনসহ নানা ক্ষেত্রে খরচ বেড়ে যাবে। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন খরচ বেড়ে বিদ্যুতের দাম আরো এক দফা বেড়ে যাবে। উৎপাদন ব্যয় বাড়ার ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিযোগিতায় ঠিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি বলেন, ক্ষমতাসীসদের দুর্নীতি ও চুরি বন্ধ করে সিস্টেম লস কমালে গ্যাসের দাম বরং কমানো সম্ভব। এখন হিসাবের মারপ্যাচে সরকারি সিন্ডিকেটের পকেট ভরবে এবং সাধারণ জনগনের পকেট খালি হবে। এ দাম বৃদ্ধি সেই অন্যায্য পরিস্তিতি তৈরী করেছে। তিনি গ্যাসের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে চট্টগ্রামের গ্রেফতারকৃত বিএনপি নেতাকর্মীদের অবিলম্বে মুক্তির দাবী জানান। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান বলেন, অতি মুনাফালোভীদের অপতৎপরাতায় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্ধ্বগতিতে মানুষ হাঁসফাঁস করছে। এই অবস্থায় গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত দেশের শিল্প কারকানাও সাধারণ মানুষের জন্য এক দু:সংবাদ। এতে জনগণের সার্বিক জীবন যাত্রায় ব্যয় বেড়ে যাবে। উৎপাদন থেকে শুরু করে ভোগ্যপণ্যসহ সবকিছুতেই বাড়তি খরচের খড়গ নেমে আসবে। শুধুমাত্র এল এন জি আমদানীর ঘাটতি মিটাতে জনগণের কাঁধে এই বিশাল বোঝা তুলে দিয়েছে সরকার। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলামের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি এম এ আজিজ, নিয়াজ মো. খান, এস এম আবুল ফয়েজ, যুগ্ম সম্পাদক কাজী বেলাল উদ্দিন, মো. শাহ আলম, ইসকান্দর মির্জা, আর ইউ চৌধুরী শাহীন, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আবদুল মান্নান, আনোয়ার হোসেন লিপু, শাহেদ বক্স, সহ-সাধারণ সম্পাদক সামশুল আলম, ইসহাক চৌধুরী আলিম, সম্পাদকবৃন্দ শিহাব উদ্দিন মুবিন, এম আই চৌধুরী মামুন, কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম মনি, হামিদ হোসেন, এড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ইব্রাহিম বাচ্চু, আবদুল বাতেন, থানা সভাপতি মনজুর রহমান চৌধুরী, মামুনুল ইসলাম হুমায়ুন, মো. সেকান্দর, আবদুল্লাহ আল হারুন, সহ-সম্পাদকবৃন্দ মো. সেলিম, রফিকুল ইসলাম, সালাহ উদ্দিন কায়ছার লাবু, মো. ইদ্রিস আলী, অধ্যক্ষ খোরশেদ আলম, মো. শাহাজাহান, খোরশেদ আলম কুতুবী, ইসমাইল বাবুল, জেলী চৌধুরী, বেলায়েত হোসেন বুলু, আবু মুসা, আবুল খায়ের মেম্বার, আবদুল হাই, নুরুল হক, এড. আবদুল আজিজ, মামুনুর রশিদ শিপন, থানার সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, আবদুল কাদের জসিম, জসিম উদ্দিন জিয়া, হাবিবুর রহমান, নগর সদস্য আঁখি সুলতানা, আতিকুর রহমান, ইউসুফ সিকদার, মোহসীন আলী, রেজিয়া বেগম মুন্নি, শাহেদা বেগম, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আকতার খান, এস এম মফিজ উল্লাহ, নবাব খান, মো. বেলাল, কাজী সামশুল আলম, আবদুল্লাহ আল ছগীর, আলাউদ্দিন আলী নূর, হুমায়ুন কবীর সোহেল, ফারুক আহমেদ, মো. সেকান্দর, রাসেল পারভেজ সুজন, সাধারণ সম্পাদক ছাদেকুর রহমান রিপন, সাব্বির আহমদ, নূর হোসেন নুরু, হাজী মো. জাহেদ, হাসান ওসমান চৌধুরী, ছৈয়দ আবুল বশর, এস এম আজাদ, আবু সাঈদ হারুন, আবু ফয়েজ, এস এম আবুল কালাম আবু, এম এ হালিম বাবলু, সিরাজুল ইসলাম মুনসি, এমরান উদ্দিন, ফিরোজ খান, জসিম মিয়া, অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ আজমল হুদা রিংকু, ফজলুল হক সুমন, এম এ গফুর বাবুল, মিয়া হারুন, আসাদুজ্জামান দিদার, শেখ রাসেল, হাবিবুর রহমান মাসুম, ইকবাল পারভেজ, মো. সেলিম, তৌহিদুল ইসলাম রাসেল, সেলিম উদ্দিন রাসেল, আবদুল হামিদ পিন্টু, জমির উদ্দিন নাহিদ, এমদাদুল হক বাদশা, জিয়াউর রহমান জিয়া, আসাদুর রহমান টিপু, রাসেল নিজাম, জিল্লুর রহমান জুয়েল, হাসান রুবেল, মো. সাগির, মনোয়ার হোসেন মানিক, মো. আলাউদ্দিন, মো. নওশাদ প্রমুখ।

আরো খবর

Leave a Reply