বাংলাদেশ, সোমবার, ১৬ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং, ১লা পৌষ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে বিশেষায়িত হাসপাতালের উদ্বোধনীতে ডা. দেবী  শেঠী

দেশে স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতায় বহুসংখ্যক রোগী বিদেশে যেতে বাধ্য হচ্ছে

 

শনিবার (১৫ জুন) সকাল ১০টায় ৩৭৫ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক এবং বহুমুখী বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্র ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল লিমিটেড উদ্বোধনকালে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানকে মানবতার মুক্তিতে কাজে লাগিয়ে হয়ে ওঠা কিংবদন্তী ডা. দেবী প্রসাদ শেঠী বলেন, ‘ভালো চিকিৎসার জন্য প্রতিবেশী দেশ ভারত, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাওয়া বাংলাদেশি মানুষের সংখ্যা প্রতিবছরই বাড়ছে। এই হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার ফলে এমন প্রবণতা অনেকাংশে হ্রাস পাবে বলে আমি আশাবাদী।

’ এ সময় তিনি ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল বাংলাদেশের সঠিক উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নতুন সংযোজন বলে উল্লেখ করেন। প্রধান অতিথি ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল পরিদর্শন করে অবকাঠামো আধুনিক যন্ত্রপাতির স্থাপনা এবং আনুষঙ্গিক থেকে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল ( আই এইচ এল ) বোর্ড চেয়ারম্যান ও চিটাগাং আই ইনফারমারি অ্যান্ড ট্রেনিং কমপ্লেক্স (সিইআইটিসি) ম্যানেজিং ট্রাস্টি অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন উপস্থিত সকলকে স্বাগত জানান। তিনি তার স্বাগত বক্তব্যে হাসপাতালের কয়েকটি বিশেষ দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, উন্নত মানের স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতায় বহুসংখ্যক রোগী বিদেশে যেতে বাধ্য হচ্ছে। তাদের ও তাদের পরিবারকে আর্থিক শারীরিক এবং মানসিক চাপের মুখে পড়তে হয়। এমন অবস্থা থেকে কিছুটা মুক্তি পেতে উন্নত বিশ্বের আদলে হাসপাতালটির প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সরকার স্বল্পমূল্যে হাসপাতালের জন্য জায়গা দিয়ে কাজকে আরও সহজতর করে দিয়েছে। এক্ষেত্রে বিশ্ব ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংক সহযোগিতা প্রদান করে এবং কতিপয় বেসরকারি ব্যাংক সহযোগিতা প্রদান করে যার নেতৃত্বে ছিলেন ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক।

তিনি আরও বলেন, এই হাসপাতালের এক ছাদের নিচে সব ধরনের চিকিৎসা সেবা রয়েছে। বিত্তবান, মধ্যবিত্ত অসুস্থ থেকে শুরু করে সব ধরনের রোগীরা চিকিৎসা সেবা পাবে শুধু চিকিৎসাসেবা নয় একজন রোগী ভর্তি থেকে শুরু করে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করা পর্যন্ত হসপিটালিটি বিভাগের মাধ্যমে যাবতীয় সেবা প্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া দক্ষ মানবসম্পদ ধরে লোকে চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনিশিয়ানের জন্য প্রশিক্ষণসহ আবাসিক ব্যবস্থা, অচল রোগীদের জন্য ১০ শতাংশ চিকিৎসা সুবিধা, দূরবর্তী দর্শনার্থীদের থাকার সুবিধাসহ আবাসন সুযোগ রয়েছে।

অনুষ্ঠানের সভাপতি  এম এ মালেক বলেন, বিশ্বের খ্যাতনামা চিকিৎসকদের ও হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। আমরা এখানে সর্বোচ্চ সেবা দিতে চাই। বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি এবং যন্ত্রপাতি এখানে সন্নিবেশিত করা হয়েছে। শুধু মুনাফা অর্জনের নয় চট্টগ্রামসহ দেশের স্বাস্থ্যখাতের অভাব ঘুচাতে আমাদের এই উদ্যোগ। তিনি ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি ও চট্টগ্রামের ক্যান্সার হাসপাতাল অপ্রতুল হওয়ায় ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের সাথে যৌথ উদ্যোগে একটি আন্তর্জাতিক মানের ক্যান্সার হাসপাতাল স্থাপন ও পরিচালনার জন্য ডাক্তার দেবি প্রসাদ শেটিকে অনুরোধ জানান।

ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমজাদ উল ফেরদৌস চৌধুরী অনুষ্ঠানে আগত সমস্ত অতিথিবৃন্দকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং প্রেস মিডিয়াকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে হাসপাতালে ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ড জনগণের সামনে তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

 

আরো খবর

Leave a Reply

Close