বাংলাদেশ, শুক্রবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং, ৫ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

হজ্ব প্রশিক্ষণ ও শাহ আমানত হজ্ব কাফেলা

 

মাহমুদুল হক আনসারী

ইসলামের অন্যতম রোকন হজ্ব মুসলিম সমাজে একটি সামর্থ্যবান মুসল্লীদের জন্য গুরুত্ববপূর্ণ ফরয ইবাদত। আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান হলেই শুধুমাত্র হজ্বের মতো একটি ফরয ইবাদত সম্পন্ন করা সহজ বিষয় নয়। হজ্ব সুষ্ঠু সুন্দর সুশৃংখলভাবে ,সুস্থ শরীর নিয়ে আদায় করতে হলে অবশ্যই মুসল্লীকে হজ্বের আরকান, আহকাম, ফরয, ওয়াজিব হজ্বের সুন্নাত ও অন্যান্য নিয়ম কানুন অবশ্যই যেনে নেওয়া ও  জানা থাকা প্রয়োজন। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের ধর্মপ্রাণ মুসল্লী হাজীসাহেবানদের মতো বাংলাদেশের ১ লাখ ২৭ হাজারের অধিক হাজী সাহেবান পবিত্র হজ্ব পালনের জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছে। এসব হাজীগণ সরকারী, বেসরকারীভাবে হজ্ব পালনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে পবিত্র মক্কা শরীফে নির্দিষ্ট সময়ে গমন করবেন। হাজার হাজার হজ্ব কাফেলার মাধ্যমে এসব হাজীগণ হজ্ব পালনে যাবেন। বাংলাদেশের হাজীদের হজ্ব পালন করতে গিয়ে মক্কা শরীফে অনেক অভিযোগ ও আপত্তির কথা শুনা যায়। অনেক হজ্ব কাফেলা চুক্তিমতো হজ্ব যাত্রীদের সাথে কথা রাখেনা। বাংলাদেশ থেকে মক্কা মদীনা যাওয়া আসা পর্যন্ত অসংখ্য অভিযোগ ও ভোগান্তির সংবাদ শুনা যায়। প্রতিবছর কতিপয় হজ্ব এজেন্সী সম্মানিত আল্লাহর ঘরের মেহমানদের সাথে নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করে হাজী সাহেবানদের ভোগান্তির মধ্যে ফেলেন। বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম মন্ত্রণালয় প্রতিবছর কতিপয় অসাধু হজ্ব এজেন্সীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। এরপরও ভোগান্তি ও হয়রানীমুক্তভাবে বাংলাদেশি হাজীগণ হজ্ব সম্পন্ন করে আনতে নির্দিষ্ট কতিপয় এজেন্সী ছাড়া বাকী অসংখ্য এজেন্সীর পক্ষে সম্ভব হয়না। সুশৃংখল পরিকল্পনা ও সেবামূলক মানসিকতা নিয়ে চট্টগ্রামের ‘শাহ আমানত হজ্ব কাফেলা’ কয়েক যুগ থেকে সম্মানিত হাজী সাহেবানদের খেদমাত আঞ্জাম দিয়ে আসছে। এ পর্যন্ত ওই কাফেলার ব্যবস্থাপনায় সারা বাংলাদেশের হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লী হাজী সাহেবানগণ অত্যন্ত সুশৃংখল পরিবেশে হজ্ব সম্পন্ন করেন। হজ্ব ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশে শাহ আমানত হজ্ব কাফেলা একটি ঐতিহ্যবাহী সেবা প্রতিষ্ঠান হিসেবে সরকারী বেসরকারীভাবে সুনাম অর্জন করছে। তাদের দক্ষ ব্যবস্থাপনা, পরিচালনা মুয়াল্লিমিনদের নিরলস সেবা হাজী সাহেবানগণ মুগ্ধ ও প্রশংসায় ভরপুর। বাংলাদেশ হতে সৌদি আরব যাওয়া আসা, সেখানে মক্কা মদীনায় হজ্বের কর্মসূচী সঠিক নিয়মে পালন ও সম্পন্ন করতে ‘শাহ আমানত হজ্ব কাফেলা’ শৃংখলাপূর্ণ একটি দক্ষ মুয়াল্লিম বাহিনী রয়েছে। তারা হাজী সাহেবানদের হজ্ব পালনে  সার্বক্ষণিক সেবা দিয়ে থাকেন। এ কাফেলার সুযোগ্য ও সম্মানিত প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আমীরুল হুজ্জাজ হামিয়ে আহলে সুন্নাত, আল্লামা ছালেহ জহুর ওয়াজেদী (রহ.) এর হাতেগড়া সেবামূলক এ কাফেলা, বাংলাদেশে হাজী সাহেবানদের খেদমাতের একটি অনন্য সেবা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্থান করে নিতে সক্ষম হয়েছে। শৃংখলাপূর্ণ এ কাফেলার কাজের অগ্রগতির প্রশংসা সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে শুনা যায়। সারা বছর এ কাফেলা হাজীদের খেদমাতের সাথে সম্মানিত ওমরাহ যাত্রীদের নিরলসভাবে অত্যন্ত সময়োপযোগী প্যাকেজে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। কাফেলার বর্তমান চেয়ারম্যান আমিরুল হুজ্জাজ , শিক্ষা ও ধর্মানুরাগী সমাজ সেবক, আল্লামা আলহাজ্ব মুহাম্মদ ইয়াছিন মাহমুদ ছিদ্দীকী, তার সময় ও যুগোপযোগী ব্যবস্থাপনা দিয়ে হাজীদের সেবায় কাজ করে যাচ্ছেন। পবিত্র মক্কা নগরীতে কীভাবে আল্লাহুর ঘরের মেহমানদের পরিচ্ছন্ন ও পরিতৃপ্তির সাথে সেবা দেয়া যায়, সে বিষয়ে সব সময় এ কাফেলা প্রস্তুত থাকে। কাফেলার অপরাপর ডাইরেক্টর আলহাজ্ব মহিউদ্দীন, আলহাজ্ব সাইফুদ্দীন জহুর, সালাহউদ্দীন জহুরসহ সমস্ত ডাইরেক্টরগণ সর্বদা সেবামূলক চিন্তা চেতনা নিয়ে হাজীদের খেদমাত আঞ্জাম দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকেন। এ পর্যন্ত কোনো হাজী এ কাফেলার মাধ্যমে হজ্বে গিয়ে কিঞ্চিৎ পরিমাণ অভিযোগ করতে শুনা যায়নি। অন্য সব কাফেলার নানা বিশৃংখলা ও সমস্যার কথা শুনা গেলেও সবস্তরের হাজীদের মধ্যে শাহ আমানত হজ্ব কাফেলার শৃংখলা ও প্রশংসার কথা নানাভাবে শুনতে পাওয়া যায়। অর্থ এবং শ্রমের সমন্বয়ে হজ্বের আরকান আহকাম সম্পন্ন করতে হয়। হজ্ব সম্পন্ন করার জন্য হজ্বের নিয়মনীতি জানতে হবে এবং শিখতে হবে। আর এ জানা এবং শিখার জন্যেই হজ্বের প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা। প্রতিবছর হজ্বপূর্বক সময় একটি নির্দিষ্ট দিনে শাহ আমানত হজ্ব কাফেলা হাজী সাহেবানদের প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার ব্যবস্থা করে থাকে। দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামা , মুফতী , মুহাদ্দিস , মাশায়েখগণ হাতে কলমে প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষক হিসেবে থাকেন। হাজী সাহেবানদের জানার বুঝার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা এখানে থাকে। প্রশিক্ষণ ছাড়া কখনো একজন হাজী সুশৃংখলভাবে হজ্বের হুকুম আহকাম সম্পন্ন করতে  কঠিন হয়ে যায়। তাই প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার বিকল্প নেই। অত্যন্ত সুন্দর ও মনোরম পরিবেশে চট্টগ্রাম ,ঢাকায় দুই দিন  নির্ধারিত তারিখে শাহ আমানত হজ্ব কাফেলা তাদের হাজীদের হজ্ব প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে। ২২ জুন ২০১৯ শনিবার সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে চট্টগ্রাম জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ কম্প্রেক্সে এবং ২৯ জুন শনিবার ৮টা ৩০ মিনিট থেকে এ্যাবাকাস কনভেশন সেন্টার রেড ক্রিসেন্ট, বোরাক টাওয়ার  ইস্কাটন গার্ডেন রমনা ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। প্রশিক্ষণ সুন্দর ও সফল করতে ইতিমধ্যে কাফেলার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যান আল্লামা ইয়াছিন মাহমুদ সিদ্দীকী, একাধিক পরামর্শ সভা সম্পন্ন করেছেন। সম্মানিত হাজীদের সেবায় ওই সব প্রশিক্ষণ ও কর্মশালাকে সর্বাত্মক সফল করতে সকলের সহযোগীতা প্রত্যাশা করেন।

আরো খবর

Leave a Reply