বাংলাদেশ, বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুলাই, ২০১৯ ইং, ৩রা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ।

সুন্দরগঞ্জের সাবেক সাংসদ লিটন হত্যার অস্ত্র মামলায় কাদের খানের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
গাইবান্ধা-১ সুন্দরগঞ্জ আসনের প্রয়াত সাংসদ মনজুরুল ইসলাম লিটন হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী কর্ণেল (অব.) ডা. আবদুল কাদের খানের বিরুদ্ধে দায়ের করা অস্ত্র মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে বিচারক।আজ মঙ্গলবার গাইবান্ধা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক দিলীপ কুমার ভৌমিক এই আদেশ দেন। এই মামলার আরেকটি ধারায় আবদুল কাদের খানকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, অস্ত্র মামলার পৃথক ধারায় একটিতে যাবজ্জীবন ও আরেকটিতে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে আবদুল কাদের খানকে। চাঞ্চল্যকর এই মামলায় ১৮ জন স্বাক্ষী আদালতে স্বাক্ষ্য দেন। রায় চলাকালীন সময় আবদুল কাদের খান আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি উপজেলার ছাপড়হাটী ইউনিয়নের পশ্চিম ছাপড়হাটী খানপাড়া গ্রামের মৃত নয়ান খানের ছেলে।
২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সুন্দরগঞ্জের সর্বানন্দ ইউনিয়নের উত্তর সাহাবাজ মাষ্টারপাড়া গ্রামের নিজ বাড়ীতে কয়েকজন দুর্বৃত্তের হাতে গুলিবিদ্ধ হন তৎকালীন সাংসদ মনজুরুল ইসলাম লিটন। পরে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই তিনি মারা যান। পরদিন ১ জানুয়ারি মনজুরুল ইসলাম লিটনের বোন ফাহ্মিদা বুলবুল কাকলী বাদী হয়ে ৪/৫ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। লিটন হত্যাকা-ের পর আবদুল কাদের খান তার ব্যবহৃত একটি পিস্তল সুন্দরগঞ্জ থানায় জমা দেন। এই হত্যা মামলার তদন্তে জাতীয় পার্টি (জাপা) কেন্দ্রীয় কমিটির তৎকালীন ভাইস চেয়ারম্যান ও একই আসনের সাবেক সাংসদ কর্নেল (অব.) ডা. আবদুল কাদের খানকে মূল হোতা ও পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পরে ২০১৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বগুড়া শহরের রহমান নগরের বাসা থেকে গাইবান্ধা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে গাইবান্ধায় নিয়ে আসে। পরদিন ২২ ফেব্রুয়ারি তাকে আদালতে হাজির করে রিমা- চাওয়া হলে আদালত ১০ দিনের রিমা- মঞ্জুর করেন। রিমা- চলাকালীন মনজুরুল ইসলাম লিটন হত্যাকা-ের ঘটনায় দোষ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেন আবদুল কাদের খান। রিমা- চলাকালীন সময় আবদুল কাদের খান জানান পশ্চিম ছাপড়হাটী খানপাড়া গ্রামে তার নিজ বাড়ীতে লিটন হত্যাকা-ে ব্যবহৃত পিস্তল ও গুলি মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা আছে। ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে পুলিশ গিয়ে তল্লাশী করে একটি খালী ম্যাগজিনসহ পিস্তল ও ছয় রাউ- গুলিসহ আরেকটি ম্যাগজিন উদ্ধার করে জব্দ করে পুলিশ। এই পিস্তল ও গুলির কোন বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি আবদুল কাদের খান। পরে এ ঘটনায় ২৫ ফেব্রুয়ারি সুন্দরগঞ্জ থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবু হায়দার মো. আশরাফুজ্জামান এজাহার দায়ের করলে মামলা নং ৪১ হিসেবে রুজু করা হয়। এই মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় সুন্দরগঞ্জের কঞ্চিবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মুক্তারুল আলমকে। তিনি ২০১৭ সালের ৫ এপ্রিল কর্ণেল (অব.) ডা. আবদুল কাদের খানকে একমাত্র আসামী করে আদালতে অভিযোগপত্র দায়ের করেন।

আরো খবর

Leave a Reply