বাংলাদেশ, রবিবার, ২৫শে আগস্ট, ২০১৯ ইং, ১০ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

গরমে ও বৃষ্টিতে ঈদ ফ্যাশন ২০১৯

আবছার উদ্দিন অলি

ঈদ মোবারক, ঈদ মোবারক। বছর ঘুরে আবার এল পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর। শান্তি, সৌহার্দ্য আর আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে এ উৎসব। ঈদ হচ্ছে সব ভেদাভেদ ভুলে ভ্রাতেৃত্বের বন্ধনে মিলিত হওয়ার দিন। ধনী-দরিদ্র, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবশেী সব মুসলমান মিলেমিশে ঈদের আনন্দ সমভাগ করে নেন, পারিবারিক হিংসা-বিদ্বেষ, অহংকার ভুলে খুশিমনে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদূঢ় করেন। রোজা ও ঈদে ধর্মীয় অনুভূতি ও উৎসবের আমেজ দুইয়ে মিলে আনন্দ দ্বিগুন হয়ে ওঠে সবার। আর যে কোন আনন্দ উৎসবের মূলেই থাকে নতুন পোশাক। নিজেকে নতুন করে সাজিয়ে নেওয়া। রুচি ও শিল্পবোধকে গায়ে জড়িয়ে বাঙালি উপভোগ করে তাদের প্রিয় দিনগুলো। আর ক দিন পরেই ঈদ, তাই জমে উঠেছে ঈদের বাজার। মার্কেট আর ফ্যাশন হাউস গুলোর বিক্রি-বাট্টা বেড়েছে। ক্রেতাকে সর্বোৎকৃষ্ট পোশাকটি তুলে দিতে ব্যাস্ত রয়েছে দোকানদাররা। এবার ঈদেও আনন্দ আর উল্লাসকে রাঙিয়ে দিতে ফ্যাশন হাউস গুলোর প্রচেষ্টার কমতি নেই। নানা রঙ ও নানা ঢংয়ের কাপড়ে সেজেছে ফ্যাশন হাউস গুলো।

চট্টগ্রাম মহানগরীর শপিংমল গুলোতে ঈদ উপলক্ষে অভিযান শুরু হওয়াতে ক্রেতা সাধারণ বেশ সন্তুষ্ট। দোকানে এসি, বাহারি নাম আর বিলবোর্ড ও রঙচঙ্গা ডেকোরেশন করে ক্রেতাদের পকেট কাটছে প্রতিনিয়ত। টেরিবাজারের নামি দামি দোকান গুলোতে বেশি দামে, বেশি লাভে, পোশাক বিক্রি করে ক্রেতাদের ঠকানোর কাজটি খুব যতœসহকারে করছেন। এক পাঞ্জাবিতে ২৫০০ টাকা মুনাফা অর্থাৎ ১০০০ টাকার পাঞ্জাবি ৩৫০০ টাকা বিক্রি, মিমি সুপার মার্কেটের একটি ড্রেসের দাম রাখা হয়েছে ১৯৫০০ টাকা। রশিদে দেখা যায় এই ড্রেসের প্রকৃত ক্রয় মূল্য ৬৯৯৫ টাকা। অর্থাৎ একটি ড্রেসে ১২৫০৫ টাকা মুনাফা। একই অবস্থা নগরীর অন্য সব মার্কেট গুলোতে। আলহাজ্ব কবির মোহাম্মদ বলেন, এক কেজি আলু কিংবা পেয়াজের দাম ৫ টাকা বাড়লে সারাদেশে হৈ চৈ শুরু হয়ে যায়। এখন ২০০০ টাকা ড্রেস ৮০০০ টাকা, ৫০০০ টাকার ড্রেস ১৫০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এইসব দোকানদের জেল জরিমানা করা উচিত তারা যেন সারা বছরের ব্যবসার লাভ একমাসে করে ফেলবে এমনটি তাদের মনোভাব।

ঈদ-এই একটি দিনের জন্য পুরো বছর জুড়ে চলে অপেক্ষা। নানা পরিকল্পনা, নানা আয়োজন। সেই আয়োজন বা পরিকল্পনার বিশাল একটি অংশ জুড়ে থাকে পোশাকের ব্যাপারটি। কে কত নতুন ডিজাইনের পোশাকটি পরে অন্য সবার চাইতে নিজেকে আলাদা করে তুলতে পারেন সেই চেষ্টার অন্ত থাকে না প্রায় সবারই। একটা সময় ছিল যখন ঈদের আগে পার্শ্ববর্তী দেশের কোন ডিজাইনের পোশাকটির জনপ্রিয়তা কেমন বা কোন নায়ক-নায়িকা কোন ডিজাইনের পোশাক পরছেন তার উপর নির্ভর করেই ঈদের পোশাকের পরিকল্পনা করতেন অনেকেই। কিন্তু সুখের বিষয় এখন আর ব্যাপারটি সেই রকম নেই। দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলোর নিত্য নতুন ডিজাইনের পোশাক এখন প্রিয় সবার কাছেই। ফ্যাশন প্রিয়রা এখন ঈদের আগে থেকেই খোঁজখবর নেয়া শুরু করেন কোন হাউস কি কি নতুন ডিজাইনের পোশাক আসছে তার। আর আমাদের দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলোও ফ্যাশন প্রিয়দের চাহিদার কথা মাথায় রেখে বছর জুড়ে পরিকল্পনা করতে থাকেন ঈদ কালেকশনে দারুণ সব ডিজাইনের পোশাক সবার কাছে পৌঁছে দেয়ার। এবারের ঈদেও ব্যতিক্রম নেই তার। দেশের বড় ছোট সব ফ্যাশন হাউসগুলোই এবারের ঈদে এনেছে নানা ডিজাইনের পোশাক।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রত্যেক মার্কেটে অভিযোগ বক্স রাখা, ক্রয় মূল্যের রশিদ সংরক্ষণ করা, সব বিক্রয়ে ক্রেতাদের রশিদ দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ব্যতয় ঘটলে জেল জরিমানা করা হবে এবং প্রতিদিন সব মার্কেট গুলোতে অভিযান চালানো হবে অভিযোন চলবে চাঁদরাত পর্যন্ত। সংগীত শিল্পী বোরহান উদ্দিন চৌধুরী টিপু বলেন, আখতারুজ্জামান সেন্টার ও সানমান শপিং কমপ্লেক্স উপরের ফ্লোরে ফুড কর্ণার গুলোতে ভেজাল বাঁসি ও নোংরা খাবার পরিবেশন করা হয় এবং খাবারের দাম অতিরিক্ত এখানেও অভিযান প্রয়োজন। ডিজিটাল ব্যানার আর পোস্টার করে ১০০০ টাকা পাঞ্জাবি ৩০০০ টাকা থেকে ৫০০০ টাকায় বিক্রি করছে। এভাবে প্রতিদিন অভিযান চললে ঈদ বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। সংবাদ পাঠক জামিল আহমেদ চৌধুরী বলেন, চিনি, ছোলা, কাঁচামরিচ, শষা, মাছ, মাংসের পরে এবার ঈদ বাজারের অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন চট্টগ্রামবাসী। ঈদ মৌসুমে ক্রেতাদের পকেট কাটা যেন মার্কেট গুলোর দোকান মালিকদের নিয়মনীতিতে পরিণত হয়েছে। লাভ করবি তাই বলে ১টাকার মাল ১০টাকা এ যেন মগের মুল্লুক। নগরীর মিমি সুপার মার্কেট, নিউ মার্কেট, তামাকুমন্ডি লেইন, আমিন সেন্টার, টেরিবাজার, লাকি প্লাজা, আকমি প্লাজা, সেন্ট্রাল প্লাজা, হকার মার্কেট, সানমার শপিং সেন্টার, আখতারুজ্জামান সেন্টার, চিটাগাং শপিং কমপ্লেক্স, হাইওয়ে প্লাজা অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রির অভিযোগ করেছেন একাধিক ক্রেতাসাধারণ। মডেল সাগর বলেন, নামিদামি ব্যান্ড পরিচয়ে পাঞ্জাবির দোকান গুলোতে অতিরিক্ত মুনাফায় পাঞ্জাবি বিক্রি করছে মডেল দিয়ে ছবি তুলে সেটা পুঁজি করে অতিরিক্ত মুনাফা আদায় করছে। শপিংমল সমূহে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনাকে চট্টগ্রামবাসী সাধুবাদ জানিয়েছেন।

ঈদের পোশাকে প্রতি বছরই কোনো না কোনো পরিবর্তন আসে। বিশেষত মেয়েদের পোশাকের ক্ষেত্রে। আবার এমন কিছু পোশাক রয়েছে, যার আবেদন সবসময় প্রায় একই রকম। ছেলেদের পোশাকের ক্ষেত্রে ঈদ মানে পাঞ্জাবি হলেও ইদানীংকালে এসে সেই ধারাটা পাল্টে গেছে। রঙিন ফেব্রিকে চেক কিংবা ক্যাজুয়াল নানান ডিজাইন শার্ট ছেলেদের পছন্দের তালিকায় ঢুকে পড়েছে সহজেই। সঙ্গে কালারফুল গ্যাবার্ডিন প্যান্ট। আর যদি বাহারি এক্সেসরিজের ব্যবহার থাকে তাহলে তো সোনায় সোহাগা।

ঈদ উৎসবে ছেলেরাও পিছিয়ে নেই। এবার পোশকে কিছুটা ভিন্নতা এসেছে। অনেকেই ক্যাজুয়াল শার্ট বেছে নিচ্ছেন। এর সঙ্গে গ্যাবার্ডিন, জিন্স তো রয়েছেই। চেক আর রঙিন শার্ট-প্যান্টের দিকেই ঝোঁক বেশি। একটু ক্যাজুয়াল পোশাক হলেও সমস্যা নেই। বৈচিত্র্য এনে দিয়েছে হাতঘড়ি আর জুতার ফ্যাশন। সবমিলিয়ে ঈদে ছেলেরা চাইলেই বেছে নিতে পারেন এই নতুন লুক। উৎসবে এই পোশাকগুলোয় কেমন লাগবে সেটা নিয়ে যারা মাথা ঘামাচ্ছেন তারা নিশ্চিন্ত হতে পারেন। দেশি-বিদেশি ফ্যাশন হাউসগুলো রঙিন শার্টে এনেছে নানা ডিজাইন। একরঙা শার্ট তো থাকছেই সঙ্গে চেক মিলবে বিভিন্ন রঙের জমিনে। এর সঙ্গে মানানসই গ্যাবার্ডিন ও ভারী প্যান্ট বেছে নিতে পারেন। শার্টের সঙ্গে রং মানিয়ে প্যান্টের কাটতি খুব। সেই সঙ্গে মিলবে এক্সেসরিজ। এবারের ঈদ ফ্যাশন হিসেবে গাঢ় রঙের প্যান্টগুলোর বেশি ভাগেরই হাঁটু থেকে গোড়ালির দিকে ন্যারো হয়ে এসেছে। হালফ্যাশনের এসব সুতি প্যান্ট আরামদায়ক বলে চাহিদা বেশি। সময়োপযোগী পরিবর্তনের ছোঁয়া জাগাতে নতুন কাট ও ডিজাইনের নান্দনিক শার্টে সেজে উঠেছে ছেলেদের ঈদ-বাজার। এছাড়াও রেডিমেড শার্ট ও প্যান্ট অনেকের মাপ অনুযায়ী ফিট হয় না বলেই নিজের শারীরিক গঠন অনুযায়ী পোশাক তৈরি করে নিতে নামিদামি টেইলার্সে ভিড় জমাচ্ছেন তরুণরা।

রঙ হোক তারুণ্যের জয়ধারা, এ বিষয়টিকে মাথায় রেখেই ছেলেদের জন্য এবারের ঈদ কালেকশনে গাঢ় রঙের ব্যবহার করা হয়েছে। ছেলেদের জন্য এরই মধ্যে বাজারে এসেছে এক্সক্লুসিভ ফরমাল ও ক্যাজুয়াল শার্ট, জিন্স প্যান্ট। তরুণদের কথা মাতায় রেখে শর্ট শার্টও রয়েছে। ফরমাল বা ক্যাজুয়াল দুই ধরনের পোশাককেই প্রাধান্য দিচ্ছে স্থানীয় ফ্যাশন হাউসগুলো। ফ্যাশন প্রিয়স্তার আসাদ বলেন, এবার ফ্যাশন ট্রেন্ডে রঙ-বাহারি শার্ট ও প্যান্ট বাজারে এসেছে। চেক শার্টের বৈচিত্র্য পাওয়া যাবে এবার। গ্যাবার্ডিন প্যান্টের সঙ্গে ক্যাজুয়াল শার্টের জোড় ঈদ উৎসবে ছেলেদের আরও স্মার্ট লুক দেবে। সঙ্গে চামড়ার জুতো, বেল্ট পাল্টে দিতে পারে আউটলুক। এবার ছেলেদের প্যান্টে রং লেগেছে। সময় যেমন পাল্টাচ্ছে, তেমনি পাল্টাচ্ছে ফ্যাশন ট্রেন্ড। এরই মধ্যে চালু হয়ে গেছে রঙিন প্যান্টের নতুন এই ট্রেন্ড। রঙিন প্যান্ট এখন ফ্যাশন সচেতন তরুণদের প্রথম পছন্দ। অন্যদের থেকে একটু আলাদা, স্মার্ট লুক। কেবল জামা-জুতাই নয়, ঈদের দিন পরিপাটি বেরোতে হলে চাই আরও কিছু আনুষঙ্গিক বিষয়ও। ক্রেতাদের বোকা বানিয়ে পকেট কাটা চলছে প্রতিযোগিতা দিয়ে। একদাম আর মূল্য হ্রাসের নামে চলছে অভিনব প্রতারণা। সারা বছরের লাভ এক মাসে করবে এই মনোভাব পরিহার করা প্রয়োজন। মার্কেট গুলোর এই অবস্থা ডাকাতির চেয়ে জঘন্য।

ঈদকে সামনে রেখে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। সেটা টের পাওয়া যায় বাইরে বেরোলেই। কেউ কেউ গায়ে দেবে ফুটপাতের পোশাক। কেউবা বিলাসবহুল মার্কেটের দামি পোশাক। সবার লক্ষ্য কিন্তু একটা ঈদে চাই নতুন পোশাক। অবশ্য মূল কেনাকাটার শুরু রোজার প্রথম সপ্তাহ থেকেই। তাই বিভিন্ন বিপণিবিতান, দোকান, ফ্যাশন হাউস, ফ্যাক্টরি বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, দেশের বাইরে থেকে অর্ডারকৃত নতুন পোশাক ও নতুন মালামাল রমজান শুরুর আগে থেকেই আসতে থাকে। এই ঈদকে সামনে রেখে বিক্রেতারা নিয়ে এসেছেন এক্সক্লুসিভ ডিজাইনের দারুণ দারুণ সব লেহেঙ্গা, দামি শাড়ি ও মেয়েদের থ্রি পিস। সংখ্যায় খুব বেশি আয়োজন না থাকলেও দামটা কিন্তু বেশিই।

দামের দিক থেকে মসলিন, গাদোয়ান, কাঞ্জিপুরান, কাতান, জর্জেট ও শিফনের কাজ করা শাড়িগুলোই এগিয়ে। নেটের ওপর স্টোনের কাজ করা অনেক শাড়িই ক্রেতাদের চোখ ঝলসে দেবে। তবে অনেকের মতে , বিপণিবিতানগুলো ঈদকে সামনে রেখে মূলত বিয়ের লেহেঙ্গা শাড়ি বেশি দামে নিয়ে আসে। কোনো কোনো লেহেঙ্গার দাম আড়াই লাখ টাকারও বেশি। এ ছাড়া ৫০ হাজার থেকে এক লাখ, এক লাখ ১০ হাজার, এক লাখ ২০ হাজার, দেড় লাখ ও দুই লাখ টাকার লেহেঙ্গা পাওয়া যাচ্ছে দোকানগুলোতে। দামি লেহেঙ্গাগুলোর বেশির ভাগই নেট ও শিফনের ওপর কাজ করা।

ঈদ সামনে রেখে নানা ডিজাইন ও বাহারি কারুকার্যের পোশাকে দৃষ্টি কেড়েছে ফ্যাশনসচেতন ক্রেতাদের। বিশেষ করে কুর্তি ও কামিজের প্রতি বিশেষ ঝোঁক দেখা গেছে তরুণীদের। কামিজ ও কুর্তিগুলোতে নতুনত্ব এনেছে ফ্যাশন হাউসগুলো। বৈচিত্র্যপূর্ণ ও বর্ণিল এসব পোশাকের দামও ক্রেতাদের হাতের নাগালের মধ্যে। টিনএজাররা আবার বেছে নিতে পারেন শর্ট কুর্তি অথবা শর্ট কামিজ। দেশের প্রায় সব ধরনের পোশাকের মার্কেটে কিংবা শো-রুমে মিলবে দেশি বিদেশি বিভিন্ন ডিজাইনের কুর্তি। দামেও সহজলভ্য হওয়াতে ফ্যাশন সচেতন তরুণীরা অনাসেই বেছে নিচ্ছেন এসব কুর্তি-কামিজ। তাই সময়ের ট্রেন্ড হিসেবে কুর্তা-কামিজই হয়তো ফ্যাশনের অন্যতম অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে। প্রচন্ড গরমে কুর্তা, কামিজ ফ্যাশন প্রিয় নারীদের সেরা পছন্দ। এতে করে গরমে স্বস্তির সঙ্গে এ পোশাকে আপনাকে লাগবে স্টাইলিশ। এসময়ের তরুণীরা রঙিন পোশাকে বেশি প্রাধান্য দেন। সাদা, সবুজ, লাল, হলুদ, ফিরোজা, কমলা, গোলাপি, মেরুন, নীলের মতো উজ্জ্বল সব রংয়ের পোশাকগুলোকে রঙিন করে তুলছে। ফ্যাশনের পরিবর্তনের সঙ্গে মিল রেখে প্রতিটি ফ্যাশন হাউসে কুর্তা ও কামিজের কাটিং ও প্যাটার্নে পরিবর্তন আনা হয়েছে। রোদ, বৃষ্টি, গরম সেই সাথে তীব্র যানজট সব মিলিয়ে চলছে ঈদের কেনাকাটা। ঈদের ফ্যাশন ফ্যাশনের ঈদ বলে কথা।

ভারতীয় সিরিয়ালের নাম করণে পোশাক বিক্রির হিড়িক এবার কমেছে। বিভিন্ন সিরিয়ালের নাম দিয়ে ক্রেতাদের বোকা বানানো কাজটি আপতত বন্ধ রয়েছে। পোশাক শিল্পে আমরা এখন অনেকটা স্বনির্ভর। আন্তর্জাতিক বাজারেও আমাদের দেশের পোশাকের কদর বেশ। শাড়ি, জুতা, স্যান্ডেলসহ আমরা নিজেরাই এখন অনেক কিছু তৈরি করছি। ধারণা করা হচ্ছে, এবার ঈদে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি পোশাক বিক্রি হবে। সেই হিসাবে মাত্র ১ হাজার কোটি টাকার পোশাক নিজেদের। বাদবাকি সবই বাইরের। পরিসংখ্যানটি নিশ্চয়ই আমাদের জন্য সুখকর নয়। বিদেশি পোশাক আমাদের অর্থনীতিতে প্রভাব খাটাবে তা কাম্য হতে পারে না। তাই এসবের আভিজাত্যের পোশাকের যেহেতু আমরাও পিছিয়ে নেই তাই আমাদের তৈরি পণ্যে হোক এবারের ঈদের আনন্দ। ঈদের আয়োজনে মেতে উঠুন ঈদ আনন্দে। আর ক’দিন পরেই ঈদ। ফ্যাশন প্রিয়রা ঈদ ফ্যাশনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন, চলছে কেনাকাটা। পছন্দের পণ্যটি সংগ্রহ করতে এখন সবার মনোযোগ মার্কেটে। সময়ের সাথে সাথে ঈদ ফ্যাশন, ফ্যাশনের ঈদ জমজমাট হয়ে উঠুক।

আরো খবর

Leave a Reply