বাংলাদেশ, বৃহস্পতিবার, ২১শে আগস্ট, ২০১৯ ইং, ৭ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

রহমতের মাস মাহে রমজান

 

আবছার উদ্দিন অলি

বছর ঘুরে আবার এলো রোজা। মাহে রমজান রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত তিন ভাগে বিভক্ত। সে-ই সৌভাগ্যবান যে এই মাসে পূর্ণ ভক্তি, শ্রদ্ধা ও সংযমের সাথে রোজা পালন করবে। মুসলমানদের প্রধান ইবাদত-বন্দেগীর মাস রমজান। সব ধরনের অন্যায় অসত্য ত্যাগ করে আদর্শ নীতি-নৈতিকতা ও উত্তম চরিত্র দিয়ে মানুষকে আল্লাহর রহমতের বৃত্তে আসার চেষ্টা করতে হবে। আল্লাহর কাছে প্রিয় হতে পারলে মানুষের কাছে প্রিয় হওয়া যায়। রোজা আমাদের শিক্ষা দেয় আত্মশুদ্ধি, ব্যক্তিত্বের সংস্কার এবং নিজস্ব সংকীর্ণতা গুলো কাটিয়ে ওঠার। মাহে রমজান। রাসুল (সা:) এর প্রবর্তিত পবিত্র ইসলাম এই রমজান মাসে জগতের সকল আস্তিক মানুষের জন্য এনে দিল অফুরণীয় আনন্দ, সিয়াম সাধনার প্রার্থীত পথের সন্ধান। যুগ সমস্যার প্রচন্ড ব্যাতি ব্যস্ততার মাঝে একটি স্বর্গীয় আনন্দপূর্ণ সময় এই রমজান। সমাজ, রাষ্ট্র, পরিবারে ভালবাসার নিবিড় বন্ধন অটুট করতে রমজানের গুরুত্ব অপরিসীম। নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত থেকে মানুষ এই মাসেই স্রষ্টার সান্নিধ্য লাভ করতে আকুল হয়ে উঠে। রোজা আমাদের নতুন করে আত্মশুদ্ধির পথ দেখায়। ভালভাবে পথ চলতে শেখায়। রোজা আমাদের জন্য আল্লাহ প্রদত্ত একটি শিক্ষা। রোজার আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে আলোর পথে নিজের জীবন পরিচালিত করা উচিত। রোজা আল্লাহ পাকের নৈকট্য লাভের একটি মাধ্যম। আমরা রোজা রাখব, পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ ও তারাবিহ’র নামাজ পড়ব, গরীবকে সাহায্য করব। এর মাধ্যমে আল্লাহ্র প্রিয়পাত্র হব।

মাহে রমজানের মাস মূলত প্রতিটি মানুষের মাঝে লাগামহীন ব্যয় বাহুল্য বর্জনের শিক্ষাকে রপ্ত করার মাস। অথচ আধুনিক সমাজ ব্যবস্থায় ইসলামের যুগোপযোগি শিক্ষা-সংযম, নীতি-নৈতিকতা আর আত্মসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য যে জীবন বিধান প্রিয় নবী রাসুলুল্লাহ (সাঃ) মানুষের জন্য বিধান করে দিয়েছেন তা থেকে আমাদের যোজন ব্যবধান লক্ষ্য করি। তবুও ধনী-দরিদ্রের এক কাতারে আনার এই আয়োজনে বিশ্বের রোজার সংস্কৃতির সাথে আমাদের চট্টগ্রামের রোজাদারী মুসল্লীদের ব্যবধান নেই। দেখা যায় প্রতিটি মানুষ অবলীলায় অন্তরের উদারতা দিয়ে জানা কিংবা অপরিচিত যে কাউকেই সাথী করে ইফতারে অংশ নেবার ঐকান্তিক, মহত্তম আকুতি আমরা প্রায়স দেখতে পাই। রোজার একটি বড় অংশ হচ্ছে ইফতার। অঞ্চল ভেদে ইফতারের আয়োজন ভিন্নরকম। চট্টগ্রামের ইফতার সংস্কৃতির আলাদা বৈশিষ্ট রয়েছে। এই অঞ্চলের মানুষজন এমনিতেই ভোজন রসিক। তাই বাহারি রঙের আইটেম থাকে ইফতারিতে। মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব মাহে রমজান, উৎসব মুখরভাবে পালিত হচ্ছে। রমজান মাসে ইফতারির কদর বেশ আকর্ষনীয়। সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতার রোজাদারদের কাছে খুব প্রিয় বিষয় হয়ে এসেছে যুগ যুগ ধরে। এর ধর্মীয় গুরুত্ব যেমন রয়েছে তেমনি সামাজিক গুরুত্ব বহন করে। পরিবার পরিজন নিয়ে এক সাথে ইফতার এবং অফিস আদালত কলকারখানা মালিক শ্রমিক মিলিয়ে একসাথে ইফতারের সংস্কৃতি আমাদেরকে ঐক্যের বন্ধনে অটুট থাকার মানষিকতা জাগিয়ে তোলে। আমরা সবাই এক হয়ে শ্রেণী বৈষম্য ভূলে আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় একসাথে ইফতার করে থাকি।

রমজানের ইফতার সংস্কৃতি চট্টগ্রাম নগরীতে একটি সার্বজনীন আয়োজন হিসাবেই আমরা দেখতে পাই। কুলী-মজুর সকলেই কাতারভুক্ত হয়ে ইফতারে অংশগ্রহণ এমন আনন্দ বিশ্বের কোন উৎসবে অনেকটা বিরল। দরিদ্র ভূখাদের জন্যও রোজার আনন্দ ঈদ অবধি ইত্যাকার প্রাত্যাহিক হৃদয় ঘনিষ্ঠ আয়োজন। রোজা রাখি কি না রাখি তাতে কোন বাধ্যবাধকতার বালাইও যারা নাই বলে মনে করেন সেই তারা রোজাদারদের সাথে সমানে ইফতারের মাহফিলে একিভূত হতে কোন কসুর নেই।

আত্মশুদ্ধি ও খোদাভীতিই সিয়াম-সাধনার মূল লক্ষ্য। রমজানে আমাদের মন-মানসিকতা পরিবর্তণ করতে হবে। রোজা সৎ, সুন্দর ও সুশৃঙ্খল হতে শেখায়। এতসব অনিশ্চয়তার পরও রমজানের বাকী দিনগুলো ভালই ভালই কাটুক- এমনটিই প্রত্যাশা। ৩০ রোজার পর মহা-মিলনের ঈদ বয়ে আনুক আনন্দের জোয়ার। রোজাদারের নিকট ইফতারের যে আনন্দ তা তুলনা করা যায় না। জগতের তাবৎ, ইনসানের জন্য রোজা যে নেয়ামত পরিবহন করে এনেছে জঠিল জীবন ব্যবস্থা, মহার্ঘ বাজার দর, অসহনীয় যানজট, দূঃসহ আদ্রতা কোন কিছুই তাকে ম্লান করে দিতে পারেনা। সৃষ্টিকর্তার নামে সারা বেলা উপোষ করে ইফতার মুখে যে প্রশান্তির হাসি আর তারই গুণগান এর নমুনা কিংবা উপমা স্বর্গীয় বিষয় ছাড়া প্রার্থিব কোন আয়োজন হতে পারেনা। পুরো রমজান মাস জুড়ে সবাই ভালো থাকুন সৃষ্টি কর্তার কাছে এটাই প্রত্যাশা।

আরো খবর

Leave a Reply