বাংলাদেশ, রবিবার, ২১শে জুলাই, ২০১৯ ইং, ৬ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ।

চট্টগ্রামের যে সব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল ও স্থগিত

মানহীন পণ্যের জন্য

নিম্নমানের পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করছে চট্টগ্রামের আটটি বহুল পরিচিত প্রতিষ্ঠান।

পরীক্ষায় নিম্নমানের বলে প্রমাণিত হওয়ায় সম্প্রতি যে ৫২ খাদ্যপণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এরপর জাতীয় মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বিএসটিআই ৫২টি খাদ্যপণ্যের সবকয়টির লাইসেন্স বাতিল ও স্থগিত করেছে, সেখানে চট্টগ্রামের আটটি প্রতিষ্ঠানের পণ্য রয়েছে।

সর্বশেষ আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের এস এস কনজ্যুমার প্রোডাক্টের ‘পিওর হাটহাজারী’ ব্রান্ডের মরিচের গুড়া এবং নওগাঁর কিরণ ট্রেডার্সের ‘কিরণ’ ব্রান্ডের লাচ্ছা সেমাইয়ের লাইসেন্স বাতিলের ঘোষণা আসে।

এদিন লাইসেন্স স্থগিত করা চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠানগুলো হল-

১. চট্টগ্রামের মিঠাই সুইটস অ্যান্ড বেকারীর মিঠাই ব্রান্ডের লাচ্ছা সেমাই

২. চট্টগ্রামের ওয়েল ফুড অ্যান্ড বেভারেজের ‘ওয়েল ফুড’ ব্রান্ডের লাচ্ছা সেমাই

৩. চট্টগ্রামের মিষ্টি মেলা ফুড প্রোডাক্টসের ‘মিষ্টি মেলা‘ ব্রান্ডের লাচ্ছা সেমাই

৪. চট্টগ্রামের মধুবন ব্রেড অ্যান্ড বিস্কুটের মধুবন ব্রান্ডের লাচ্ছা সেমাই

৫. চট্টগ্রামের কে আর ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের কিং ব্রান্ডের ময়দা

৬. চট্টগ্রামের রূপসা ফুড প্রোডাক্টসের রূপসা ব্রান্ডের ফারমেন্টেড মিল্ক

৭. চট্টগ্রামের ইমতিয়াজ ব্রেড অ্যান্ড ফুডের মেহেদী ব্রান্ডের বিস্কুট

এবং

৮. ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তাঈয়েবা ফুড প্রোডাক্টসের মক্কা ব্রান্ডের চানাচুর।

মনোন্নয়ন করে আবার লাইসেন্স গ্রহণের আগে এসব পণ্য উৎপাদন, সরবরাহ এমনকি খুচরা বিক্রি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এসব পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি এর সংরক্ষণ ও বাণিজ্যিক প্রচার বন্ধ করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, বুধবার সাতটি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করে বিএসটিআই। সেগুলো হল- আল সাফি ড্রিংকিং ওয়াটার, শাহারী অ্যান্ড ব্রাদার্সের নারজান ড্রিংকিং ওয়াটার, মর্ন ডিউ পিওর ড্রিংকিং ওয়াটার, আর আর ডিউ ড্রিংকিং ওয়াটার, কেরাণীগঞ্জের শান্তা ফুড প্রডাক্টসের টেস্টি, তানি ও তাসকিয়া এবং কামরাঙ্গীরচরের জাহাঙ্গীর ফুড প্রডাক্টসের প্রিয়া ব্র্যান্ডের সফট ড্রিংক পাউডার এবং মিরপুরের বনলতা সুইটস অ্যান্ড বেকারীর বনলতা ব্র্যান্ডের ঘি।

ওই দিন লাইসেন্স স্থগিত হওয়া পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে সরিষার তেলে সিটি অয়েল মিল-গাজীপুর (তীর), গ্রিন ব্লিসিং ভেজিটেবল অয়েল-নারায়ণগঞ্জ (জিবি), শবনম ভেজিটেবল অয়েল-নারায়ণগঞ্জ (পুষ্টি), বাংলাদেশ এডিবল অয়েল-নারায়ণগঞ্জ (রূপচাঁদা); সুপেয় পানির মধ্যে আররা ফুড অ্যান্ড বেভারেজ (আররা), ডানকান প্রোডাক্ট (ডানকান), দিঘী ড্রিংকিং ওয়াটার (দিঘী); প্রাণ এগ্রো লিমিটেডের প্রাণ ব্র্যান্ডের লাচ্ছা সেমাই; হলুদের গুড়ার মধ্যে ড্যানিশ, প্রাণ ও ফ্রেশ। কারী পাউডারের মধ্যে প্রাণ ও ড্যানিশ; আয়োডিনযুক্ত লবণের মধ্যে এসিআই ও মোল্লা সল্ট; ধনিয়া গুড়ার মধ্যে এসিআই পিওর, নুডলসের মধ্যে নিউ জিল্যান্ড ডেইরির ডুডলস এবং চিপসের মধ্যে কাশেম ফুডের সান ব্র্যান্ড।

উল্লেখ্য, নিম্নমানের ৫২টি খাদ্যপণ্যের সবকয়টির লাইসেন্স বাতিল ও স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বিএসটিআই।বৃহস্পতিবার (১৬ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি এ তথ্য জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ২৪ (চব্বিশ) ঘণ্টার মধ্যে বাজার হতে এসব পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রকৌশলী এস এম ইসহাক আলী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিএসটিআই সম্প্রতি সার্ভিল্যান্সের মাধ্যমে খোলাবাজার হতে বিভিন্ন পণ্যের ৪০৬টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে। পরীক্ষার প্রতিবেদনের মধ্যে ৫২টি নমুনা নিম্নমানের পাওয়া যায়। বুধবার ১৮টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থগিত এবং ৭টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

আজ অবশিষ্ট ২৭টি পণ্যের মধ্যে দুইটির লাইসেন্স বাতিল ও ২৫টির স্থগিত করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পুনঃঅনুমোদন ছাড়া এসব পণ্য বিক্রি করা যাবে না। এছাড়া যেসব পণ্য বাজারে রয়েছে সেগুলোকে প্রত্যাহার করে নিতে হবে।

বিএসটিআইয়ের পক্ষ থেকে ভোক্তাদের এসব পণ্য ক্রয় থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়।

এর আগে ৫২ টি খাদ্যপণ্যের মধ্যে বুধবার সাতটির উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল ও ১৮টি পণ্য উৎপাদনের অনুমোদন স্থগিত করে বিএসটিআই।

আরো খবর

Leave a Reply