বাংলাদেশ, মঙ্গলবার, ২১শে মে, ২০১৯ ইং, ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ।

সুনামগঞ্জে এসআই আব্দুল হান্নান এর বিরুদ্ধে জখমী শাবানার অভিযোগ দায়ের

আল-হেলাল সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা 

সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার এসআই আব্দুল হান্নান এর বিরুদ্ধে শাবানা বেগম নামের এক জখমী নারী অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের ইব্রাহিমপুর মধ্যপাড়া গ্রামের মোঃ আমির হোসেন এর স্ত্রী। অভিযোগে প্রকাশ, গত ৯ মে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬ টায় তুচ্ছ ঘটনাকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী হাছন আলী  ও তার ৩ পুত্র সেলিম মিয়া,মোস্তাকিন ও মোছাদ্দিক শাবানা ও তার স্বামীর উপর হামলা করলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদেরকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পর পরই শাবানার স্বামী বাদী হয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় ৫ জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অন্যদিকে প্রতিপক্ষের মোস্তাকিন জখমী হওয়ার জের ধরে তার পিতা হাছন আলী বাদী হয়ে শাবানা ও তার জখমী স্বামীকে আসামী করে থানায় একটি কাউন্টার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এসআই আব্দুল হান্নান দুটি অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা সেজে শাবানার স্বামী আমির হোসেন এর দায়েরকৃত অভিযোগটি এফআইআর না করে তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত কাউন্টার অভিযোগটি অতি উৎসাহিত হয়ে একতরফাভাবে এফআইআর করেন। অথচ ঘটনার পরপরই সুরমা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা আমির হোসেন রেজাসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা ঘটনাটি নিস্পত্তি করেন। আমির হোসেন রেজা অভিযোগ দুটি নিস্পত্তির কথা সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শহীদুল্লাহ কে তাৎক্ষনিকভাবে অবগত করেন। এরপরও আপোস নিস্পত্তির বিষয়টি আমলে না নিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মামলা এফআইআরের সাথে সাথে এসআই আব্দুল হান্নান জেলা সদর হাসপাতালে এসে হাসপাতাল বেডে চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় শাবানা ও তার স্বামীকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যান এবং তাদের মান সম্মানের অপূরনীয় ক্ষতি সাধন করেন। এর আগে শাবানার স্বামীর দায়েরকৃত অভিযোগটি এফআইআরের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি শাবানার ভাগ্না হাবিবুর রহমান  এর কাছে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবী করেন। হাবিবুর রহমান এসআই হান্নানকে তাদের দারিদ্র্যতা ও অসহায়ত্বের কথা অবগত করার পরও তিনি দফায় দফায় ঘুষের দাবী পূরনের জন্য হাবিবুর রহমানকে চাপ প্রয়োগ করেন। ফলে বাধ্য হয়ে হাবিবুর রহমান দুদফায় তাকে ২ হাজার টাকা করে মোট ৪ হাজার টাকা ঘুষ দেন। কিন্তু নগদ ঘুষ গ্রহন করার পরও এসআই আব্দুল হান্নান শাবানার স্বামীর দায়েরকৃত লিখিত অভিযোগটি এফআইআর করেননি। অন্যদিকে চেয়ারম্যান সাহেবের আপোস নিস্পত্তির কথা অবগত করার পরও এসআই আব্দুল হান্নান জোর করে থানার কম্পিউটার অপারেটরের মাধ্যমে তার মনগড়া মতে প্রস্তুতকৃত কম্পোজ করা কাগজে হাছন আলীর স্বাক্ষর নিয়ে তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে ঘটনার পরদিন শাবানা ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দন্ডবিধি আইনের ৩৪১/৩২৩/৩২৬/৩০৭/১১৪/৫০৬ ধারায় সুনামগঞ্জ সদর থানার মামলা নং ১২ তাং ১০/৫/২০১৯ইং (জিআর ১৩৫/২০১৯ সদর) এফআইআর করেন। এফআইআরের পর ১১ মে শনিবার বিকেল ২টায় শাবানা ও তার স্বামী আমির হোসেনকে জেলা সদর হাসপাতাল শয্যায় চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় গ্রেফতার করে থানা হাজতে নিয়ে কিছুক্ষণ পরই জেল হাজতে প্রেরণের ব্যবস্থা করেন। পরদিন ১২ মে রবিবার বিজ্ঞ আদালতে বাদী আপোষনামা দাখিল করলে বিজ্ঞ আদালত তাদেরকে জামিন দান করেন।লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়,বিরোধ নিস্পত্তি ও আপোষ মিমাংসা করা বর্তমান সরকার তথা পুলিশ প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তা ছাড়া দুপক্ষের মধ্যে বিরোধ বা দাঙ্গা হাঙ্গামা সংগঠিত হলে পুলিশ দুপক্ষেই সাধারনত মামলা মোকদ্দমা এফআইআর করে। কিন্তু তাদের মধ্যে সংগঠিত বিরোধটি আপোসে নিস্পত্তি হলেও এসআই আব্দুল হান্নান সামাজিক নিস্পত্তির আপোষনামাটি গ্রহন না করে অতি উৎসাহি হয়ে নিজ উদ্যোগে একটি পক্ষের মামলা ইচ্ছেমতো এফআইআর করে তাদেরকে অন্যায়ভাবে হয়রানী করেছেন। যা এসআই আব্দুল হান্নানের প্রফেশনাল মিস কন্ডাক্ট এর শামিল বটে। উল্লেখ্য কাউন্টার মামলার বাদী হাছন আলী বিজ্ঞ আমল গ্রহনকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সদর কোর্টে জিআর ১৩৫/২০১৯ নং মামলায় অর্থাৎ সদর থানার মামলা নং ১২ তাং ১০/৫/২০১৯ইং এর আপোষনামা প্রদান করতে গিয়ে লিখিত আবেদনে উল্লেখ করেছেন,“আমাদের গ্রামের মান্যগন্য ব্যক্তিদের ও সাবেক চেয়ারম্যান সাহেবের মাধ্যমে বিষয়টি আপোষে নিস্পত্তি হয়। কিন্তু আমি মামলা করতে রাজী নই। দারগা সাহেবের চাপের কারনে মামলায় স্বাক্ষর দেই। এমতাবস্থায় মামলাটি আপোষ হতে ও আসামীদের জামিনে যাইতে আমার কোন আপত্তি নাই”।  বাদীর ইচ্ছের বিরুদ্ধে জোর করে তার স্বাক্ষর নিয়ে পূর্বের আপোষকৃত বিরোধের বিষয়কে মামলা হিসেবে অতি উৎসাহি হয়ে এফআইআর করে নিরীহ নারীসহ তার স্বামী পরিবারকে অন্যায়ভাবে হয়রানী করার দায়ে এসআই আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়ে শাবানা আইজিপি,ডিআইজি ও সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবরে অভিযোগটি দায়ের করেছেন। এদিকে অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে এসআই আব্দুল হান্নান বলেন,মামলা এফআইআরের দায়িত্ব আমার নয় এটি অফিসার ইনচার্জের কাজ। আমি শুধু এজাহারকৃত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে আসামী আটক করেছি। মামলায় বর্ণিত ঘটনাটি গুরুতর খুনের জখমের পর্যায়ে হওয়ায় আসামী গ্রেফতারের ব্যাপারে আমাকে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নির্দেশ দিয়েছিলেন। আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হুকুম তামিল করেছি মাত্র। তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন। সাবেক চেয়ারম্যান আমির হোসেন রেজা বলেন,ঘটনার পর দুপক্ষই আপোষ মীমাংসায় মিলিত হয়েছেন। তাই এখানে মামলা এফআইআর করে একটি পক্ষে পুলিশের পক্ষ নেয়া ঠিক হয়নি। বিজ্ঞ আদালতে দেয়া আপোষনামায় বাদীর লিখিত বক্তব্যই প্রমাণ করে তারা মামলা দায়েরের পক্ষপাতি ছিলেন না। আমি মনে করি এ ঘটনা দ্বারা একজন এসআই পুলিশ প্রশাসনের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছেন। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি কোন দিকে মোড় নেয় সেদিকে দৃষ্টি এখন এলাকাবাসীর।

আরো খবর

Leave a Reply