বাংলাদেশ, মঙ্গলবার, ২১শে মে, ২০১৯ ইং, ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ।

    চট্টগ্রামে জেলা প্রশাসন  বাজার মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করেছে

নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য গ্রহণ নিশ্চিত করতে

                

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

জেলা প্রশাসন চট্টগ্রামের বাজার মনিটরিং টিম ইফতারি আইটেম বিক্রি ও রেস্টুরেন্টের নগরীর জিইসি এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। পবিত্র রমজান উপলক্ষে ভোক্তাদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য গ্রহণ নিশ্চিত করতে ইফতারি খাদ্যপণ্যের উপর এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) পতেঙ্গা সার্কেল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট  মোঃ তাহমিলুর রহমান, এবং  সহকারী কমিশনার (ভূমি),কাট্টলী সার্কেল ও নির্বাহী  ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তৌহিদুল ইসলাম।

অভিযাস কালে বাসমতি হোটেলে প্রবেশ করতেই দেখা যায় ভবনের নীচ তলায় রমজান উপলক্ষে আলাদা একটি জায়গা তৈরি করে রাখা হয়েছে যেখানে সারি সারি ফ্রিজ-রেফ্রিজারেটর। ফ্রিজ খুলতেই দেখা গেল পুরনো বাসী খাবার সাথে রাখা আছে  গরু-মুরগীর কাঁচা মাংস, আছে বাটা মশলা। বাসমতি রেস্টুরেন্টে সারি সারি ফ্রিজে স্টক করা আছে বিপুল পরিমাণ রান্না করা মাংস ও অন্যান্য খাবার।  নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ এবং আইনে প্রণিত বিধিতে স্পষ্ট উল্লেখ আছে রান্না করা খাবার এবং কাঁচা-মাংস, মশলা এসব একসাথে রাখা যাবে না। এরপর দেখা যায়, ফ্রিজে বিপুল পরিমাণ ডাল্ডা।

বাসমতি রেস্টুরেন্টের সামনে দোকানের বিক্রেতারা উচ্চ স্বরে ক্রেতাদের ডাকছেন ঘি-তে ভাজা জিলাপি ক্রয়ের জন্য। কিন্তু বাসমতি রেস্টুরেন্ট ভবনের গ্যারেজের ফ্রিজে ম্যাজিস্ট্রেট খুঁজে পেলেন ডালডার পসরা। বাসমতি রেস্টুরেন্ট কে এসব অপরাধ আমলে নিয়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এখানে উল্লেখ্য যে, গত বছর রমজানেও বাসমতি রেস্টুরেন্ট কে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তৌহিদুল ইসলাম পরিচালিত এক অভিযানে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

তাই একই ধরণের অপরাধ পুনরাবৃত্তির দায়ে এবার জেলা প্রশাসন,চট্টগ্রামের ভ্রাম্যমাণ আদালত ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।  ভবিষ্যতে এ ধরণের অপরাধ পুনরাবৃত্তি ঘটলে হোটেলের লাইসেন্স বাতিল সহ কঠোর শাস্তি আরোপ করা হবে এই মর্মে হোটেল ম্যানেজার দিলীপ এস রোজারিও মুচলেকা দেন।

এছাড়া জামান রেস্টুরেন্ট মেজবানি এন্ড কাবাব কে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি,  ফ্রিজে বাসী খাবার ও কাচা মাংস রাখার দায়ে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।বাসমতি হোটেল ও জামান হোটেলের ফ্রিজ থেকে প্রাপ্ত বিপুল পরিমাণ  বাসী খাবার, মাংস, ডালডা জব্দ করা হয় ও পরবর্তীতে তা ধ্বংস করা হয়েছে।

অভিযানে আরো উপস্থিত ছিলেন  ইয়াছিনুল হক চৌধুরী,  স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক। এছাড়া অভিযানে বিএসটিআই প্রতিনিধি, সিএমপি পুলিশ, ক্যাব সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আরো খবর

Leave a Reply