বাংলাদেশ, সোমবার, ১৮ই আগস্ট, ২০১৯ ইং, ৪ঠা ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সুনামগঞ্জের সুুরমা নদীর উত্তরপাড়ে মিজান হত্যার প্রতিবাদে প্রতিবাদ সভা সম্পন্ন

আল-হেলাল,সুনামগঞ্জ থেকে

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের ইব্রাহিমপুর গ্রামের বালি-পাথর ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান মিজান হত্যার প্রতিবাদে সুুরমা নদীর উত্তরপাড়ে ইব্রাহিমপুর বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছে স্থানীয়রা। গতকাল সোমবার সকাল ১১টায় ইব্রাহিমপুর বাজারে প্রতিবাদ সভা শেষে বিক্ষোভ মিছিল ও ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন করেন বিক্ষুদ্ধরা। জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক কমিটির সিনিয়র সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ফারুক মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন,জেলা কৃষকলীগের যুগ্ম আহবায়ক ও ব্যবসায়ী শাহ আলম সেরুল,জেলা জাসদের সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট নুর হোসেন,আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি সাংবাদিক আল-হেলাল,সদরগড় গ্রামের মুরুব্বী অলী মিয়া,হুরারকান্দা গ্রামের বিশিষ্ট মুরুব্বী হাজী জসিম উদ্দিন,ইব্রাহিমপুর গ্রামের হাজী দেলোয়ার হোসেন,আলী আহমদ,মুসলিমপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক,অক্ষয় নগরের ব্যবসায়ী পালন মিয়া,ব্যবসায়ী ও যুব শ্রমিকলীগ নেতা আনিসুর রহমান রনি,পূর্ব সদরগড় গ্রামের ব্যবসায়ী ফুল মিয়া,ব্যবসায়ী সিরাজ মিয়া,গীতিকার নির্মল কর জনি,মনির মিয়া,জেলা স্বেচ্ছাসেকলীগের সহ-সভাপতি মোস্তাক আহমেদ রুমেল ও সুরমা ইউপি স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারন সম্পাদক আশরাফ আলী প্রমুখ।
এ সময় বক্তারা বলেন,একটি বা দুটি নয় পর পর ৪টি খুনের ঘটনা সংগঠিত হয়েছে ধোপাজান নদীতে ও এর আশপাশ এলাকায়। খুনীরা যদি জেলে থাকতো বা তাদের বিচার হতো তাহলে ঐ খুনীরা নিরীহ ব্যবসায়ী মিজানকে খুন করার দু:সাহস দেখাতোনা। খুনীদের একটাই কাজ ধোপাজান সুরমা নদীতে ব্যবসায়ী ও বালি পাথর শ্রমিকদের জিম্মি করে চাঁদা আদায় করা। তাদের চাঁদাবাজীর প্রতিবাদ করার কারনেই ব্যবসায়ী মিজানকে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে হত্যা করেছে ঐ চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাদাঁবাজরা। ঘটনার বেশ কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও মুল আসামীদের আটক করা হয়নি। প্রকৃত খুনীদের আটক না করে নিহতের ভাই বাদীকে নানানভাবে ভয় ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। গত দুই দিন পূর্বে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে পরিবর্তন করে সদর থানার একজন দক্ষ ও সৎ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়ার জন্য পুলিশ সুপার বরাবরে লিখিতভাবে আবেদন জানানো হয়েছে। আমরা চাই পুলিশ সুপার,মিজান হত্যার মুল পরিকল্পনাকারীদের আটক করতে বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তাকে পরিবর্তন করে সৎ ও দক্ষ অফিসার নিয়োগ দিয়ে মিজান হত্যার মুল আসামীদের আটক করতে আন্তরিকভাবে দায়িত্বপালন করবেন এবং যে সব আসামীদের আটক করা হয়েছে তাদেরকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করার দাবী জানাই। নিহত মিজানের মা রাহিনা বেগম কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমার ছেলে মিজানুর রহমান সংসার পরিচালনা করতো। তার উপরই আমাদের সংসার চলতো। সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্য দিবালোকে তাকে নির্মমভাবে খুন করেছে। আমি খুনীদের ফাঁসি চাই। খুনের সাথে জড়িত বাকী মুল আসামীদের ধরার দাবী জানাই। আমি পুলিশ সুপারের কাছে ন্যায় বিচার চাই। মামলার বাদী জুনেদ মিয়া জানান, আমার ভাইয়ের হত্যাকারীরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। তাদেরকে আটক করার ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে বিনীত অনুরোধ করছি। আর সেই সাথে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তনেরও দাবী জানাই।
উল্লেখ্য গত ১৮ এপ্রিল সকাল ৮টায় সুনামগঞ্জ সদর থানার ধোপাজান নদীর পশ্চিম পাড়ে সদরগড় গ্রামের নুরুল আলমের আল্লাহর দান স্টোন ক্রাশার মিলের সামনে ধোপাজান নদীর পাড়ে প্রকাশ্য দিবালোকে রামদা দিয়ে কোপিয়ে মিজানকে খুন করে নদীতে চাঁদা আদায়কারী সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় নিহত মিজানের ভাই জুনেদ মিয়া বাদী হয়ে ২৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ৫জনকে আসামী করে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা নং ২১ তাং ১৮/৪/২০১৯ইং দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনার পর পরই ৮জনকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। মামলার আসামীরা হচ্ছে সদরগড় গ্রামের মৃত সজ্জাদ আলী ওরফে সাজ্জাদ মিয়ার পুত্র আব্দুল মালেক,মৃত গিয়াস উদ্দিনের পুত্র আব্দুন নূও ও নুরুজ্জামান ভূট্টো,তেঘরিয়া গ্রামের গেদা মিয়ার পুত্র বশির মিয়া,সদরগড় গ্রামের নজরুল ইসলাম নইদ্যার পুত্র তাজুল ইসলাম ওরফে ওমর আলী,আব্দুল মান্নানের পুত্র আলী আনোয়ার,মৃত শফিকুল হকের পুত্র খোকন মিয়া,মৃত আব্দুল হেকিমের পুত্র নজরুল ইসলাম নইদ্যা,আব্দুল মালেক এর পুত্র তছকির আলম ও আছকির মিয়া,রহমত আলীর পুত্র আব্দুল হামিদ,নজরুল ইসলাম নইদ্যার পুত্র সামসুল ইসলাম,কামাল মিয়ার পুত্র রুকন আহমদ,গুলজার আলীর পুত্র আব্দুর রশীদ,তাহির আলীর পুত্র হেকিম,হাফিজ উদ্দিনের পুত্র আব্দুল করিম,নজির মিয়ার পুত্র আবু সুফিয়ান,মৃত মনাফ ওরফে মনা মিয়ার পুত্র সিরাজুল ইসলাম,মৃত হাজী মাছিম আলীর পুত্র আব্দুল হাই,গুলজার আহমদেও পুত্র ছাত্তার হোসেন,রেনু মিয়ার পুত্র সাইফুল ইসলাম,শেরকুল মিয়ার পুত্র কামাল মিয়া,সদরগড় আমিরপুরের মৃত জমির আলীর পুত্র আবুল কালাম ও মৃত গিয়াস উদ্দিনের পুত্র আব্দুর রাজ্জাক।
আরো জানা যায়,হত্যা মামলার আটককৃত আট আসামীর মধ্যে দুই আসামী আলী আনোয়ার ও নজরুল ইসলাম ওরফে নইদ্যার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। এ ব্যাপারে তদন্তকারী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, মিজান হত্যার সাথে জড়িত ৮ জনকে আটক করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। সকল আসামীর রিমান্ডের জন্য আদালতে আবেদন করা হলে দুই আসামী আলী আনোয়ার ও নজরুল ইসলাম নইদ্যার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারেও অভিযান চলছে।

আরো খবর

Leave a Reply