বাংলাদেশ, বৃহস্পতিবার, ১৭ই জুলাই, ২০১৯ ইং, ৩রা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ।

২১ এপ্রিল নয় বরং ২০ এপ্রিল পবিত্র শবে বরাত

আবারো স্বাক্ষীদের কথা শোনেনি ইফা, সরকারী সন্ধান্ত ২১ এ্র্রপ্রিল মাজলিসু রুইয়াতিল হিলাল বলছে ২০ এ্রপ্রিল বিভ্রান্তে পড়ছে ধর্মপ্রাণ সাধারণ জনগণ

মাজলিসু রুইয়াতিল হিলালের ১৭ জন প্রত্যক্ষদর্শী তারা গত ৬ এপ্রিল পবিত্র শাবান শরীফ মাসের চাঁদ দেখেছেন; তাদের স্বাক্ষ্য গ্রহণ না করে হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। এমনকি হাইকোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও মাজলিসু রুইয়াতিল হিলালের লিখিত বক্তব্য গ্রহণ করেনি বাইতুল মোকাররম ইফা অফিস।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন পবিত্র শাবান শরীফ মাসের চাঁদ দেখার স্বাক্ষীদের ডাকলেও স্বাক্ষীদের কথা শোনেনি ইসলামিক ফাউন্ডেশন। গতকাল রাত সাড়ে ১০টার সময় ইফা থেকে ফোন করে খাগড়াছড়ি ও মুন্সিগঞ্জ থেকে যারা চাঁদ দেখেছেন তাদেরকে সকাল ১০ টায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনে (বাইতুল মোকাররম) উপস্হিত  হতে বলা হয়। সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৩:৪৫ মিনিট পর্যন্ত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অফিসের সামনে অবস্হা   গ্রহণ করলে তাদেরকে ভিতরে ঢুকতে দেয়া হয়নি। এমনকি ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলেও স্বাক্ষীদেরকে ভিতরে ঢুকতে দেয়া হয়নি। উল্লেখ্য, আজ সকাল ১০টায় সাক্ষীগণের সাক্ষ্য গ্রহণ এর জন্য ডাকা হয়। সাক্ষীদের বক্তব্য ছিল তারা তাদের আইনজীবী এবং মিডিয়ার সামনে সাক্ষ্য দিবে। ১১:৫৫ মিনিটে ইফা কর্তকর্তা জানান, কোনোভাবেই আইনজীবী ও মিডিয়া রাখা যাবে না। পরবর্তীতে ইফার দাবী অনুযায়ী বেলা ১২ টায় আইনজীবি ও মিডিয়া ছাড়াই সাক্ষীদের স্বাক্ষ্য দেয়ার জন্য নামের তালিকা প্রদান করা হয়। সার্জেন্ট আহাদ পুলিশ বক্সের ইনচার্জ এস আই ওবায়েদুর রহমানের মাধ্যমে খাগড়াছড়ি ও মুন্সিগঞ্জ জেলা থেকে আগত ১১ জন প্রতক্ষদর্শীর তালিকা ইফাকে প্রদান করা হয়। সেই সময় থেকে বেলা ৩:৪৫ মিনিট পর্যন্ত ইফা কোন স্বাক্ষীকে ডাকেনি। বেলা ৩:৫০ মিনিটে ইফা’র সচিব বের হয়ে চলে যাওয়ার সময় মাজলিসু রুইয়াতিল হিলালের পক্ষ থেকে স্বাক্ষীর বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি সবাইকে চলে যেতে বলেন।
হাইকোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বাইতুল মোকাররম ইসলামিক ফাউন্ডেশন অফিস রুইয়াতিল হিলাল মসজিলের লিখিত বক্তব্য জমা নেয়নি। অতপর রুইয়াতিল হিলাল মজলিশের কর্তৃপক্ষ, বক্তব্যটি ইফার আগারগাও অফিসে অনেক পরিশ্রম ও কৌশলের পর জমা দিতে সক্ষম হন। উল্লেখ্য, লিখিত বক্তব্যটিতে গত ৬ এপ্রিল তারিখে খাগড়াছড়ি, মুন্সিগঞ্জ, বরিশালের মেহেদিগঞ্জ ও আরো বিভিন্ন স্হানে যারা চাঁদ দেখেছেন তাদের বক্তব্য এবং চাঁদ দেখার সংবাদটি সংশ্লিষ্ট সরকারী ইফা কর্মকর্তাদের অবহিত করেছেন এবং চাঁদ দেখার পক্ষে বৈজ্ঞানিক তথ্য ও ব্যাখ্যা এবং যুক্তি লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু তারপরেও নিতান্ত একগুয়েমি এবং ইসলামী শরীয়ত ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাকে অস্বীকার করে চরম ধৃষ্টতার পরিচয় দিচ্ছে ইফা কর্তৃপক্ষ। যা দেশ, জাতি এবং ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য যুগপৎ হতাশাজনক ও গভীর দুঃখজনক। আজ জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান- আন্তর্জাতিক চাঁদ দেখা কমিটি মাজলিসু রুইয়াতিল হিলালে সভাপতি আল্লামা আবুল বাশার মুহম্মদ রুহুল হাসান।
উল্লেখ্য যে, শুধু খাগড়াছড়ি ও মুন্সিগঞ্জ জেলাই নয়- বরং রাঙ্গামাটি বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক থেকে ৭ জন বিজিবি সদস্য শাবান মাসের চাঁদ দেখেছেন। ল্যান্স নায়েক রবিউল ইসলাম মামুন জানান, তিনিসহ মোট ৭জন বিজিবি ৬ এপ্রিল তারিখে মাগরিবের নামাজের পুর্বেই পবিত্র শাবান শরীফ মাসের চাঁদ দেখেছেন। মূলতঃ আমরা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের শাবান মাসের চাঁদ দেখার ভুল সিদ্ধান্ত জাতির উপর চাপিয়ে দেয়ার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছি। পাশাপাশি দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের প্রতি আহ্বান জানা”িছ যে, তারা যেন সঠিক তারিখ ২০শে এপ্রিল পবিত্র শবে বরাত পালন করে।
২৯ শে রজবুল হারাম শরীফ/১৪৪০ হিজরী, ৬ই এপ্রিল/২০১৯ ঈসায়ী, পবিত্র শা’বান শরীফ মাসের চাঁদ দেখার বিষয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনে লিখিতভাবে জমা দেয়া প্রত্যক্ষদর্শীদের স্বাক্ষ্য:
আমরা নিম্ন স্বাক্ষরকারীগণ, আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী এবং সম্মানিত হানাফী মাযহাবের অনুসারী হই। আমরা গত ২৯ শে রজবুল হারাম শরীফ/১৪৪০ হিজরী, ৬ই এপ্রিল/২০১৯ ঈসায়ী, বাদ মাগরিব পবিত্র শাবান মাসের চাঁদ তালাশের উদ্দেশ্যে পবিত্র মাগরিবের নামায আদায় করে হাতিমুড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ গুইমারা, খাগড়াছড়ির ইমাম এবং মুছল্লীগণ সম্মিলিতভাবে সন্ধ্যা ৬:৩৫ মিনিটে খালি চোখে পবিত্র শাবান শরীফ মাসের চাঁদ দেখতে পেয়েছি।
আমরা সজ্ঞানে, সুস্হ মস্তিস্কে এবং কারো বিনা প্ররোচনায় পবিত্র শাবান শরীফ মাসের চাঁদ দেখার সাক্ষ্য প্রদান করছি।
১। আমি হাফিজ মুহম্মদ মুঈনুল ইসলাম পারভেজ, বয়স ৩৫ বছর, পিতা- মুহম্মদ উমর আলী ভুঁইয়া, ঠিকানা: হাতিমুড়া, উপজেলা- গুইমারা, জেলা- খাগড়াছড়ি। জাতীয় পরিচয়পত্র নাম্বার: ৬৯০১৬৭৪৮৩৫। (ইমাম ও খতীব: হাতিমুড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, গুইমারা, খাগড়াছড়ি)
২। বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহম্মদ দৌলত আহমেদ, বয়স- ৬৯ বছর, পিতা- মরহুম হাফিজ উদ্দীন, ঠিকানা: উসমানপল্লী,  উপজেলা- মানিকছড়ি, জেলা- খাগড়াছড়ি। জাতীয় পরিচয়পত্র নাম্বার: ৪৬১৬৭৬৩৪০১৭০১। (চাঁদ দেখার প্রত্যক্ষদর্শী মুছল্লী)
৩। মুহম্মদ শহীদ মীর, বয়স- ৫৮ বছর, পিতা- মৃত আয়াত আলী মীর, ঠিকানা: হাতিমুড়া, উপজেলা- গুইমারা, জেলা- খাগড়াছড়ি। জাতীয় পরিচয়পত্র নাম্বার: ৪৬১৮০৩৮৬৩৩৫৭৮। (চাঁদ দেখার প্রত্যক্ষদর্শী মুছল্লী)
৪। মুহম্মদ আবু তাহের, বয়স: ৩২ বছর, পিতা- মরহুম আলী আহমদ, ঠিকানা: হাতিমুড়া, উপজেলা- গুইমারা, জেলা- খাগড়াছড়ি। জাতীয় পরিচয়পত্র নাম্বার: ৪৬০২৬৩৮৫২২। (চাঁদ দেখার প্রত্যক্ষদর্শী মুছল্লী)
৫। মুহম্মদ চাঁন মিঞা হাওলাদার, বসয়- ৫৪ বছর, পিতা- মরহুম আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, ঠিকানা: হাতিমুড়া, উপজেলা- গুইমারা, জেলা- খাগড়াছড়ি। জাতীয় পরিচয়পত্র নাম্বার: ০১১৭৭১৯৫১২৮৪৪। (চাঁদ দেখার প্রত্যক্ষদর্শী মুছল্লী)
৬। মুহম্মদ হাছেন আলী, বয়স- ৩৩ বছর, পিতা: লোকমান হোসেন, ঠিকানা: উসমানপল্লী, উপজেলা- মানিকছড়ি, জেলা- খাগড়াছড়ি। জাতীয় পরিচয়পত্র নাম্বার: ৩৯১৮৫৭৩০১৬৬২৬। (চাঁদ দেখার প্রত্যক্ষদর্শী মুছল্লী)
৭। মুহম্মদ শহীদুল ইসলাম, বয়স: ৩৩ বছর, পিতা: মুহম্মদ নূর হোসেন, ঠিকানা: হাতিমুড়া, উপজেলা- গুইমারা, জেলা- খাগড়াছড়ি। জাতীয় পরিচয়পত্র নাম্বার: ৪৬১৮০৩৮৬৩৩৬৫৩। (চাঁদ দেখার প্রত্যক্ষদর্শী মুছল্লী)
৮। মুহম্মদ আব্দুল মান্নান, বয়স: ৩১ বছর, পিতা: মরহুম মুহম্মদ কাঞ্চন আলী খাঁ, ঠিকানা: হাতিমুড়া, উপজেলা- গুইমারা, জেলা- খাগড়াছড়ি। জাতীয় পরিচয়পত্র নাম্বার: ৪৬১৮০৩৮৬৩৩৮৭৮। (চাঁদ দেখার প্রত্যক্ষদর্শী মুছল্লী)
৯। হাফিজ মুহম্মদ সোহেল, বয়স: ২৮ বছর, পিতা: সুলতান আহমদ, ঠিকানা: হাতিমুড়া, উপজেলা- গুইমারা, জেলা- খাগড়াছড়ি। (চাঁদ দেখার প্রত্যক্ষদর্শী মুছল্লী)
উপরোক্ত সাক্ষীগণ ছাড়াও গ্রাম: হাতিমুড়া, উপজেলা- গুইমারা, জেলা- খাগড়াছড়ি থেকে ১০। মুহম্মদ রফিকুল ইসলাম, ১১। মুহম্মদ আল আমীন তালুকদার, ১২। মুহম্মদ শাহাদত হুসাইন রিপন, ১৩। মুহম্মদ কবীর হুসাইন (হাতিমুড়া, উপজেলা- গুইমারা, জেলা- খাগড়াছড়ি) সহ আরো অনেকে পবিত্র শা’বান শরীফ মাসের চাঁদ দেখেছেন।
মুন্সিগঞ্জ: মুন্সিগঞ্জ জেলার মুক্তারপুর পঞ্চসার ইউনিয়নের মালিরপাথর গ্রামের বাইতুল মামুর জামে মসজিদের পেশ ইমাম ও খতীব ১৪) মাওলানা মুহম্মদ মুহিবুল্লাহ, মুসল্লি­ ১৫) মুহম্মদ মিজানুর রহমান সহ অন্যান্য মুসুল্লী।
আমরা সবাই বিগত ১৩ এপ্রিল ২০১৯ ঈসায়ী তারিখে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত মিটিংয়ে উপস্হিত ছিলাম।

আরো খবর

Leave a Reply