বাংলাদেশ, সোমবার, ১৬ই জুন, ২০১৯ ইং, ৩রা আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ।

মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাতকে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় চট্টগ্রামে আটক ১

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত এক ব্যাক্তিকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যাক্তির নাম মোহাম্মদ জাবেদ।

বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই ফেনী ইউনিটের একটি দল। গ্রেপ্তারকৃত জাবেদ ফেনীর সোনাগাজী পৌর কাউন্সিলর মুকসুদুল আলমের সহযোগী বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় এর আগে পৌর কাউন্সিলর মুকসুদুল আলমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

পিবিআই ফেনী ইউনিটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএসপি মো মনিরুজ্জামান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারের পর জাবেদকে ফেনীতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এই মামলার প্রধান আসামি অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাকে সাত দিনের রিমান্ডে আছেন। এছাড়া ওই মাদরাসার ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক আবছার উদ্দিন এবং নুসরাতের সহপাঠী আরিফুল ইসলাম, নুর হোসেন, কেফায়াত উল্লাহ জনি, মোহাম্মদ আলাউদ্দিন ও শাহিদুল ইসলামের প্রত্যেককে পাঁচ দিনের রিমান্ড চলছে।

পাশাপাশি রিমান্ডে আছে নুসরাতের সহপাঠী ও মামলার প্রধান আসামি সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার ভাগনী উম্মে সুলতানা পপি ও আরেক মাদরাসা শিক্ষার্থী জোবায়ের আহমেদ।

উল্লেখ্য, গত ৬ এপ্রিল সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় যান নুসরাত জাহান রাফি। ওইদিন নুসরাতকে পরীক্ষাকেন্দ্রের ছাদে নিয়ে বোরখাপরা চারজন তাকে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে করা শ্লীলতাহানির মামলা তুলে নিতে চাপ দেয়।

নুসরাত অস্বীকৃতি জানালে তারা আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে ৫ দিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত বুধবার রাতে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় সোমবার রাতে অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা ও পৌর কাউন্সিলর মুকছুদ আলমসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন অগ্নিদগ্ধ রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান।

মামলার সংশোধিত এজাহারে অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাকে প্রধান আসামি করা হয়। এছাড়া মুখোশধারী চারজন এবং তাদের সহযোগীদের আসামি করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এ পর্যন্ত মোট ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

আরো খবর

Leave a Reply