বাংলাদেশ, শুক্রবার, ২৬শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং, ১৩ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ।

জুটি বাঁধলেন সিয়াম-পরীমনি

ঢাকাই চলচ্চিত্রে গত কয়েক বছর ধরেই চলছে মন্দাভাব। ক’দিন পরপরই আসে একের পর এক মন খারাপ করার মতো খবর। চলচ্চিত্রের মুষড়ে পড়া পরিস্থিতির উন্নয়নে দেশের করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিনিয়োগে খুব একটা দেখাও যায় না। এরই মধ্যে জানা গেল, দেশের প্রথম সারির একটি করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো ‘বিশ্বসুন্দরী’ নামে নতুন একটি ছবিতে বিনিয়োগ করছে।

ছবিটিতে জুটি বাঁধছেন জনপ্রিয় নায়ক সিয়াম আহমেদ ও নায়িকা পরীমনি। ছবিটি নির্মাণ করবেন চয়নিকা চৌধুরী। এ ছবির মধ্য দিয়েই প্রথম বারের মতো জুটি বাঁধছেন সময়ের আলোচিত এ নায়ক-নায়িকা। সান মিউজিক অ্যান্ড মোশন পিকচার্স ছবিটি প্রযোজনা করছে।

এ খবর জানাতেই ৩ এপ্রিল, বুধবার বিকেলে সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর প্যান প্যাসেফিক সোনারগাঁও হোটেলে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানেই জানানো হয় ছবিটির বিষয়ে বিস্তারিত সব তথ্য। ছবির কাহিনি, চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন রুম্মান রশীদ খান।

সিয়াম আহমেদ বলেন, ‘বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর। পৃথিবীতে যদি কেউ বিশ্বসুন্দরী হয়, তাকে কোনো-না-কোনো পুরুষই বিশ্বসুন্দরী বানিয়েছে। না হয় তার পেছনে আছে। নারীদের সফলতার পেছনে শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারাটা কিন্তু খুবই আনন্দের বিষয়। যেটা অনেক পুরুষ স্বীকার করতে চায় না। কারণ অনেকেই ভাবে তাহলে সে ছোট হয়ে যাবে। আসলে কখনাই তা হয় না। আমাদের সফলতার পেছনে যদি নারীরা থাকতে পারে, নারীদের সফলতার পেছনে আমরা কেন থাকতে পারব না?’

সিয়াম সংযোজন করে আরও বলেন, ‘এই ফিল্মে অভিনয় করার একটা লোভ আমার মধ্যে ছিল। সে লোভটা হলো সুবর্ণা ম্যামের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করতে পারব। আর পরীর সঙ্গে আমার প্রথম কাজ হবে। আশা করি ভালো একটি প্রজেক্ট হতে যাচ্ছে। কতটুকু ভালো হবে, সেটা দেখার বিষয়।’

সিয়ামের কথায়, ‘আজ থেকে এক বছর আগে আমি চলচ্চিত্রের জন্য কিছুই ছিলাম না। এখন চলচ্চিত্রকে শিল্প, কর্ম ও ধর্ম মনে করি। আমাদের ছবিটি প্রযোজনা করছে দেশের স্বনামধন্য একটি করপোরেট প্রতিষ্ঠান। এখন দেশের অন্যান্য করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো যদি এগিয়ে আসে, আমার মনে হয় আমাদের আর পেছন ফিরে তাকাতে হবে না। কারণ ভালো প্রজেক্ট করার মতো আমাদের যথেষ্ট সামর্থ্য আছে।’

২০০১ সালে নির্মাণে এসেছেন চয়নিকা চৌধুরী। দীর্ঘদিনের ক্যারিয়ারে প্রেমের গল্পের পরিচালক হিসেবে তার রয়েছে বিশেষ পরিচিতি। এখন পর্যন্ত তিনি নির্মাণ করেছেন তিন শতাধিক নাটক-টেলিছবি। সেই অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে এবার তিনি নাম লিখিয়েছেন সিনেমা নির্মাণে।

প্রথম ছবি নির্মাণ প্রসঙ্গে চয়নিকা চৌধুরী বলেন, ‘সব পরিচালকেরই সিনেমা বানানোর স্বপ্ন থাকে। আজ আমার সেই স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটা কথা আছে, ভাব যেখানে প্রবল, ভাষা সেখানে দুর্বল। আজ আমি এত বেশি আবেগ আপ্লুত হয়ে আছি, সেটা ঠিক বোঝাতে পারব না। একজন পরিচালকের স্বপ্ন থাকে ছবি বানানোর। আজ আমার সে স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।’

‘সিনেমা নির্মাণ করতে এসে মনে হয়েছে আমি অনেক ভাগ্যবতী। দর্শক অনেক বুদ্ধিমান; তারা চায় ভালো কনটেন্ট। আমি কিন্তু অত মেধাবী পরিচালক না। তবে আমি ভীষণ পরিশ্রমী। আমার বিশ্বাস, তারা আমাকে বিশ্বাস করেছে। আমি তাদের সে বিশ্বাসের মর্যাদা দেবো।’

‘বিশ্বসুন্দরী’ নিয়ে নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী আগেই ধারণা দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ছবির গল্প প্রেমের, এই গল্প মানবতার, এই গল্প জীবনের জয়গানের। সৌন্দর্য যে শুধু বাহ্যিক নয়, সৌন্দর্য হতে পারে মন-মননের; সেটাই শক্তিশালী একটি চিত্রনাট্যের মাধ্যমে এই গল্পে ফুটে উঠবে।

সব শ্রেণির দর্শকের মন ছুঁয়ে দেবে ‘বিশ্বসুন্দরী’। দর্শক হাসবেন, কাঁদবেন, প্রেমের অনুভূতিতে ভাসবেন। ‘বিশ্বসুন্দরী’ দেখতে ড্রইংরুমের দর্শকরাও হলে আসবেন বলে বিশ্বাস করেন চয়নিকা চৌধুরী।

এই ছবির মাধ্যমে দেড় বছর পর কোনো ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হলেন পরীমনি। ছবিতে কাজ করতে পেরে বেশ উচ্ছ্বসিত তিনি। তার প্রমাণ পাওয়া গেল তার কথায়। তিনি বলেন, ‘এই ছবিতে আমার পরিচালক নতুন, হিরো নতুন। আমার প্রথম ছবিতে কাজ করতে গিয়ে যে অভিজ্ঞতা হয়েছিল, এ ছবির বেলাতেও তাই। সবথেকে ভয়ের বিষয় হলো, এ ছবিতে আমি সুবর্ণা ম্যামের সঙ্গে অভিনয় করতে পারব।’

‘আমি ভীষণ একসাইটেড। স্বপ্নজালের পর আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম আমি যদি ভালো চিত্রনাট্য না পাই আর কোনো ছবিতে অভিনয় করব না। আমি এখনো আমার সে সিদ্ধান্তে অটল আছি, থাকবও।

‘বিশ্বসুন্দরী’ ছবিতে অভিনয় করবেন সুবর্ণা মুস্তাফা, মুনীরা মিঠু, আনন্দ খালেদসহ আরও অনেকেই। আসছে জুনে শুরু হবে শুটিং। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটির একটি সূত্র জানিয়েছে, সব ঠিকঠাক থাকলে ছবিটি মুক্তি দেওয়া হবে এ বছরই।

আরো খবর

Leave a Reply