বাংলাদেশ, শুক্রবার, ২৬শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং, ১৩ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ।

ভালুকার দুই আলমগীরের প্রতারণার ফাঁদে নিঃস্ব ব্যবসায়ী! প্রশাসনের ভূমিকা নিরব

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় বিভিন্ন কারখানা থেকে সুতা ও ঝুট বিক্রি’র কথা বলে প্রতারণা করে আসছেন একদল পেশাদার প্রতারক চক্র। এ ব্যাপারে ভালুকা থানার ওসি নিরব ভূমিকা পালন করায় প্রতারকদের দৌরাত্ম উত্তোরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেইসাথে ভুক্তভোগীদের সংখ্যা ও অসহায়ত্ব ক্রমেই বেড়েই চলেছে। একাধিক লিখিত অভিযোগ থাকলেও ওসি’র ভূমিকা বরাবরই প্রশ্নবিদ্ধ!

আসামীরা হলেন, ভালুকা উপজেলার স্কয়ার মাষ্টার বাড়ি মার্কেন্টাইল ব্যাংক সংলগ্ন  আলী ব্যাপারীর পুত্র প্রতারক আলমগীর হোসেন (৩৫), সীডষ্টোর গ্রামের মাঈন উদ্দিনের পুত্র (ধর্ষণের দায়ে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত) আলমগীর হোসেন (৩২) এবং প্রতারণার কাজে ব্যবসায়ীদের সাথে সমন্বয় তৈরির কাজে সম্পৃক্ত কামাল হোসেন (৩২)।

গত (২০ মার্চ বুধবার ২০১৯ ইং) ভালুকা থানার সাধারণ ডায়েরি নং-৮১১ সূত্রে জানা যায়, টঙ্গী পূর্ব এলাকার ব্যবসায়ী মোঃ বিল্লাল হোসেনের থেকে স্কয়ার মাষ্টারবাড়ি ‘এম এল ডায়িং’র ভেতর থেকে সুতা দেয়ার কথা বলে প্রতারক ৫ লাখ টাকা বুঝে নেয়। পরবর্তীতে যথা সময়ে সুতা দিতে ব্যর্থ হলে মার্চ মাসের ১৭ তারিখে টাকা ফেরত চাইলে টাকা না দিয়ে উল্টা প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

কিছুদিন পূর্বেও গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকার ব্যবসায়ী মোঃ মনির হোসেন ও মোঃ সুজন আহমেদের কাছ থেকে ওয়েস্টেজ দেয়ার কথা বলে (নগদ ক্যাশ) দশ লাখ টাকা বুঝে নেয় প্রতারক চক্র। কথামতো মালামাল দেয়নি। টাকা ফেরত চাইলে একইভাবে হুমকি প্রদান করলে ভালুকা থানায় ২৩ জানুয়ারিতে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৩০ জানুয়ারি ২০১৯ ইং তারিখে এসআই মনির হেসেন প্রতারক চক্রের মূল হোতা আলমগীর হোসেন ওরফে (ডন) কে আটক করে থানায় নিলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাতেই প্রতারণা করে দশ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে। পরে টাকা ফেরত দেয়ার ব্যাপারে লিখিত জবানবন্দি দেন। এসআই মনির হোসেন ও কয়েকজন সংবাদকর্মীর উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে প্রতারণার কাজে ব্যবহার করা ‘আলী এন্টারপ্রাইজ’ নামের নয় লাখ টাকার একটি চেক প্রদান করেন এবং বাকী এক লাখ টাকা পরের দিন দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু ওই এক লাখ টাকা প্রদান করেনি। কিন্তু, ফেব্রুয়ারি ২০১৯ এর মধ্যে চেক’র টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করার কথা থাকলেও পরিশোধ না করে ভুক্তভোগীদেরকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, এই প্রতারক চক্রের ফাঁদে পা দিয়ে অনেক ব্যবসায়ী সর্বস্ব হারিয়ে ইতিমধ্যে পথে বসেছে। থানায় একাধিক লিখিত অভিযোগ করলেও কোনও সমাধান পাচ্ছে না ভুক্তভোগীরা।থানার অফিসারদের ম্যানেজ করেই এই প্রতারক চক্র দিব্যি একের পর এক ব্যবসায়ীদের পথে বসাচ্ছে। প্রতারক চক্রের মূল হোতা আলমগীরের মুঠোফোনে কল দিলে কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে ভালুকা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনির হোসেন কে মুঠোফোনে কল দিলে সাংবাদিক পরিচয় পেলে কল কেটে দেয়! পরে একাধিকবার কল ও ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও কোনও প্রকার সাড়া পাওয়া যায়নি।

উল্লেখিত বিষয়ে ভালুকা থানার ওসি জানান, এরকম একটি অভিযোগ মৌখিকভাবে দেয়া হয়েছিল! লিখিত কোনও অভিযোগ নেই। ওসি’র এই কথাগুলো প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় ওসিকে তার স্বাক্ষর করা ২৩ জানুয়ারি’র অভিযোগের ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি মুঠোফোনের সংযোগ কেটে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার কল দিলেও কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি।

ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার কে ভালুকা থানা’র ওসি’র প্রশ্নবিদ্ধ মিথ্যা কথা’র ব্যাপারে অবগত করলে তিঁনি ভুক্তভোগীদের সার্কেল অফিসে অভিযোগ দাখিল এবং জালিয়াতি মামলা করার পরামর্শ প্রদান করেন।ময়মনসিংহ পুলিশ সুপারের পরামর্শে চেক জালিয়াতি,প্রতারণা,প্রাণনাশের হুমকি ও এম এল ডায়িংয়ের নামে মিথ্যা ব্যবসার অভিযোগে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

আরো খবর

Leave a Reply